দ্বিতীয় সন্তান , অন্যরকম অভিজ্ঞতা
- Posted by MNCC Moderator
- Date July 21, 2025
- Categories Birth Story, Others

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে নরমাল ডেলিভারিতে দ্বিতীয় সন্তানের মা হলাম!
এর আগে আমার বড় ছেলে মুহাম্মাদ হওয়ার গল্প শেয়ার করছিলাম। এবার আমার উসামা হওয়ার ভিন্ন আরেকটা অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি….
আমার ইডিডি ছিল লাস্ট আল্ট্রা অনুযায়ী ১৪ মার্চ। LMP অনুযায়ী ছিল ১ মার্চ।
এদিকে মোটামুটি এক/দেড় মাস থেকে ফলস পেইন হয়। ২৮ সপ্তাহে উমরা করতে গিয়েছিলাম, সেখানে প্রচুর হাঁটাহাটি হয়েছে। তাছাড়া আড়াই বছরের বড় ছেলে আছে তাকে নিয়ে তো ব্যস্ত থাকতে হয় সাথে রেগুলার এক্সারসাইজ, হাঁটাহাটি এগুলো তো আছেই। তাই ভেবেছিলাম এবার বাবুটা হয়তো সময়ের আগেই,অল্প সময়ে,অল্প ব্যথাতেই হয়ে যাবে! কিন্তু যা ভাবি তা কি সবসময় হয়!
যাইহোক ১ তারিখ গেলো, ২ তারিখ গেলো, রমজান এলো, এভাবে করতে করতে edd ১৪ তারিখও চলে গেলো। জানি যে edd-র পর আরো এক/ দুই সপ্তাহ ওয়েট করা যাবে তবুও মন মানেনা। পরদিন ১৫ তারিখ সন্ধ্যায় আমার গাইনি ডাক্তারের কাছে গেলাম।
উনি চেক করে বললেন সব ভালো আছে, দুই একদিনে ব্যাথা উঠবে আশা করা যায় আর বাবুর পজিশন জানার জন্য আল্ট্রা করতে দিলেন!
গেলাম আল্ট্রা করতে। আল্ট্রার ডাক্তার পেটে হাত দিয়েই দিলেন একটা ধমক!
“তোমার এতো সাহস! এতদিন কেউ ওয়েট করে? Lmp অনুযায়ী দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে।”
আমি বললাম আমার জানামতে তো লাস্ট আল্ট্রা কাউন্ট করে তাছাড়া আমার পিরিয়ড ইররেগুলার। উনি বললেন অত কিছু জানিনা, আজ কালকেই দ্রুত সিজার করে ফেলো!
রিপোর্ট নিয়ে রাতে বাসায় আসলাম। রিপোর্ট নরমাল। আমার আত্মীয় ডাক্তার, হাসব্যান্ড উনার সাথে কথা বলে ensure হলো যে না সব ওকে, অপেক্ষা করা যাবে! তাছাড়া আমার গাইনি চেক করে তো খারাপ কিছু বলেনি, আর বাবুর মুভমেন্টও ভালো ছিলো।
যাই হোক বাসায় এসে খেয়ে একটু রেস্ট নিলাম। রাত তখন ১১টা। টানা ৪০ মিনিট হাঁটলাম, এক্সারসাইজ করলাম, খেজুর জমজমের পানি খেয়ে শুয়ে পড়লাম।
পরেরদিন সকাল নয়টা। ওয়াশরুম থেকে এসে আবার শুলাম। প্রায় প্রতিদিন এই সময় আমার প্রসাবের চাপ আসে, ওয়াশরুম থেকে এসে কিছুক্ষণ ফলস পেইন হয় এরপর আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যায়। আজকে দেখি পেইন কমছেই না, বাড়ছেও না। একই ধাঁচের পেইন আসছে যাচ্ছে। তো উঠে হাঁটাহাটি করছিলাম রুমে। কিছুক্ষণ পর বুঝলাম এটা তো আমার চেনা সেই লেবার পেইন, আড়াই বছর আগে প্রথম বেবি হওয়ার সময় প্রথম ফিল করেছি। যাই হোক পেইন উঠলে কী কী করবো আগেই নোট করে রেখেছিলাম। যেহেতু পেইন যথেষ্ট managable তাই প্রথমে উজু করে নামাজ পড়লাম। চুল আঁচড়িয়ে দুই বেণী করলাম। খেজুর, জমজমের পানি খেলাম।
আমি আমার বাবার বাসায় ছিলাম। হাসব্যান্ড সেই রাতে আমার শ্বশুরবাড়িতে ছিলো, দুই বাসার ডিসটেন্স গাড়িতে মোটামুটি ১০ মিনিটের। তাই ও না থাকাতেও অতো পেরেশানি ছিলনা!
আর বাসায় আমার আম্মু আমার বড় ছেলেকে নিয়ে এক ঘরে, আমার ভাই আরেক ঘরে আর আমি একা আরেক ঘরে।
আম্মু টেনশন করবে দেখে হুট করে জানাইনি। হাসব্যান্ডকে কল করে জানালাম যে হয়তো আমার লেবার পেইন উঠছে, কাউকে এখন কিছু বলিও না। আসো আগে দেখি!
তো আম্মু হঠাৎ রুমে এসে দেখে আমি হাঁটাহাটি করছি। আম্মু তো অবাক! কারণ জানে যে এই সময় আমি ঘুমায় থাকি। আম্মুকে শেয়ার করলাম যে ব্যথা উঠছে মনে হয়।আমি কি টেনশন করবো আমার আম্মুই টেনশনে কি করবে আর না করবে! আমার হাসব্যান্ডও এরইমধ্যে চলে আসল।
ব্যথা এবার একটু একটু বেড়ে চলছে। কস্ট্রাকশন ট্র্যাকার দিয়ে মাপার চেষ্টা করলাম। একটা সময় অ্যাপে আসলো you should go to hospital!
বাসায় সবাই আমার আশায় আছে আমি কখন যেতে চাইবো ক্লিনিকে।
প্রিনেটাল কোর্স করায় আর প্রথম বাবু নরমালে হওয়ায় আমার চাওয়ার উপর সবাই আস্থা রেখেছিল!
প্রথম বাবুর সময় পানি ভাঙ্গার ১০/১৫ মিনিট পর পেইন শুরু হয়। আমি এই আশাতে আছি পানিটা ভাঙলে ক্লিনিকে যাবো!
কিন্তু এই ব্যথা নিয়ে বাসাতেও থাকা যাচ্ছেনা! বড় ছেলেকে ওর খালামনির কাছে রাখলাম।
ইস!! কি যে কষ্ট লাগছিল সে সময় বাচ্চাটাকে রেখে যেতে! বুক ফেটে যাচ্ছিল ওর জন্য!
যাই হোক আল্লাহর নাম নিয়ে বের হলাম সকাল ১১টা নাগাদ। ক্লিনিক কাছেই ছিলো। গাড়িতে ১০/১৫ মিনিট এর রাস্তা। গাড়িতেই মনে হয় ২/৩ বার পেইন উঠছিল।
ক্লিনিকে এডমিট হলাম।
নার্স এসে পিভি চেক করে বলে জরায়ু মুখ এখনো খুলে নি!!! বাহ এতো ব্যথাতেও একটুও খুলেনি!! অন্তত ১/২সেমি হলেও তো তাও একটু শান্তি লাগত!!
শুরু করলাম লাগাতার হাঁটা, ডাক ওয়াকিং, কেবিনের বেডের রড টেনে থাকা ইত্যাদি। পানি, ডাবের পানি, খেজুর খাচ্ছি একটু পর পর।
জোহরের আজান দিলো। ব্যথা নিয়েই নামাজ পরলাম, ৪ রাকাত ফরজেই মনে হয় ৩/৪ বার পেইন উঠেছিল। সময়ের সাথে সাথে ব্যথা বাড়ছে। ব্যথা আসলেই ছটফটাতে লাগলাম। একটু বেডে শোয়ার চেষ্টা করলাম। ব্যথা নিয়ে শুয়েও থাকা যাচ্ছে না।
একটু পর ডাক আসলো অন্য একটা রুমে যাওয়ার জন্য। আমার গাইনি ডাক্তার সিজার করাচ্ছিলেন, শেষ হলে আমার কাছে আসবেন। সবাইকে আল্লাহ হাফেজ বলে গেলাম ভিতরে। এটাই যে বাচ্চার হওয়া আগ পর্যম্ত আমার পরিবারের সাথে শেষ দেখা সেটা তখন বুঝিনি!!
সেই রুমে অনেকক্ষণ ছিলাম, আমাকে শুয়ে থাকতে বলছিল কিন্ত আমি পারছিলাম না, ওখানে টানা হাঁটছি, প্রায় ৩০ মিনিট পর ডক্টর আসে পিভি চেক করে বলল তিন ভাগের এক ভাগ খুলছে। যাক এবার একটু আশা আসলো!
তখন উনি নার্সকে বললেন স্যালাইন দিতে। আমি বললাম- “এটা কি ব্যথা বাড়ানোর জন্য?”
উনি বললেন- “হ্যা! কিন্তু তুমি চাইলে নাও নিতে পারো।”
প্রথম বেবি ন্যাচারাল ডেলিভারি হওয়ায় এবারও আশা ছিল ন্যাচারালি যেনো হয়। কিন্তু এত তীব্র ব্যথায় মাথাও ঠিক ছিলো না। তাছাড়া ঠিক কয়েকদিন আগে আমার ননাশের স্যালাইন দেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে বাবু হয়ে গেছে সেই চিন্তা করে রাজি হয়ে গেলাম। আমি আসলে তখন এই ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্ত হতে চাচ্ছিলাম!!
নিয়ে গেলো আরেক রুমে।
স্যালাইন দিলো। স্যালাইন হাতে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছি। রুমে আমি একা। মাঝেমাঝে নার্স আয়ারা যাচ্ছে আসছে।
শুরু হলো আমার একা একা যন্ত্রণাদায়ক এক যুদ্ধ!!
স্যালাইন দেওয়ার পর পর ব্যথা মোটামুটি ছিলো। সময়ের সাথে সাথে ব্যথা extremly বাড়তে থাকলো।
একদম পাগলের মতো হয়ে যাচ্ছিলাম যন্ত্রণায়! আমার বড় ছেলের বেলাতেও এতো কষ্ট হয়নি এবার যত হয়েছে!
স্যালাইন দেওয়ার ব্যথা যে এতো জঘন্য রকমের হয় আগে জানলে কখনোই রাজি হতাম না।
একেকটা কনট্র্যকশনের সময় কী যে গগনবিদারী চিৎকার আমার! চোখে অন্ধকার দেখছি যেনো!
দেওয়াল ঠেসে দাঁড়িয়ে থেকে ব্যাথা ম্যানেজের ট্রাই করেছিলাম, মরিয়ম (আ) কে যেভাবে প্রসব বেদনার সময় খেজুরগাছকে টানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, চেষ্টা করেছিলাম দেওয়ালের সাথে তাই করতে।
ব্যথা ম্যানেযের এটা দারুণ একটা টেকনিক!
আমি একা একা পুরাটা সময় আল্লাহর সাথে কথা বলছি। একটা ছোটো বাচ্চা যেমন বাবা মার কাছে আবদার করে কাঁদে ঠিক সেভাবে আল্লাহর সাহায্য চাচ্ছিলাম, কতো কাকুতিমিনতি আমার, কতো দুয়া, কতো চাওয়া!
এই সময় দুয়া কবুল হয় নাকি তাই আগে থেকে কিছু দুয়া ঠিক করে রেখেছিলাম যদি মনে থাকে তাহলে করবো। আমার আত্মীয়র এক কঠিন সমস্যার জন্য নাম ধরে দুয়া করছিলাম যেটা খুব দ্রুতই কবুল হয়েছিল আলহামদুলিল্লাহ!
যাই হোক প্রচন্ড ব্যথায় এবার বেডে উঠে দাঁড়িয় গিয়েছি। দাঁড়িয় এক কিনারায় দেওয়াল ঠেসে চিতকার করছি আর কাঁদছি!
এই সময় ডাক্তার আসলেন পিভি চেক করতে। এবার পিভি চেক করতে যেয়ে পানি ভেঙে গেলো! মনে হলো যেনো পানি ভর্তি একটা বেলুন ফুটো করে দেওয়া হলো!
তো উনি চেক করে বললেন মুখ খুলেছে অনেকটা কিন্তু মাথা এনগেজ হয়নি এখনো। নার্সকে ক্যাথেটার লাগাতে বললেন!
এইতো আরেকটা ভয়ানক অভিজ্ঞতা!
ক্যাথেটার লাগানোর সময় আমি এতো এতো কষ্ট পেয়েছি যে এখন লিখতে যেয়েও আমার শরীর কেঁপে উঠছে!
অনেক যুদ্ধ করে ক্যাথেটার পরানো হলো। এমনিতে প্রসব বেদনা তার উপর কি uncomfortable একটা জিনিস!!
যাই হোক আমি তো কোনোভাবে শুয়ে থাকতে পারছিনা। ওভাবেই উঠে দাঁড়ালাম। এবার আগের মতো আর হাঁটতে পারছিলাম না। এদিকে পানি একটু পরপর পরছেই সাথে bloody show দেখাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর থকথকে জেলির মতো মিউকাস প্লাগ বের হয়ে গেলো যেটা বড় ছেলের বেলায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বের হয়েছিল।
ঘন ঘন চিৎকার করায় আমার গলা শুকিয় যেনো কাঠ! আয়াকে বললে উনি পানি এনে দিলেন। এক বোতল পানি পুরোটা খেয়ে নিলাম। শুরু থেকেই অনেক চেষ্টা করেছি চিৎকার করবো না, এনার্জি সেভ করবো।
কিন্তু পারিনি আসলে, এতো যন্ত্রণায় পারা সম্ভবও ছিলনা!
এবার আমি যেনো সত্যি সত্যি মৃত্যু দেখতে পাচ্ছি!!!
মা হওয়া কঠিন জানি!
তাই বলে এতো কঠিন আল্লাহ্!
আমি তো চাই আমার অনেক বাবু হবে।সুস্থ, নেককার, আল্লাহওয়ালা সন্তান দিয়ে আমার ঘর ভর্তি থাকবে। কিন্তু এই ব্যথায় আমি জীবনেও আর বাবুর কথা ভাবতেও পারবো না!
আয়া আপুটাকে আর ছাড়ি না। কনট্র্যাকশন এর সময় উনাকে জাপটিয়ে ধরে ছিলাম। আল্লাহ উনার ভালো করুক। না বুঝে আমার দ্বারা আঘাতও পেয়েছে বেচারি। যাই হোক ডাক্তার চলে যাওয়ার পর আরেকজন ডাক্তার আপু আসল যার হাতে আমার প্রথম বাবু হয়েছিল।
উনিও জরুরি কাজে একটু বাইরে যাবেন, যাওয়ার আগে আমাকে দেখতে আসছেন। উনাকে রিকোয়েস্ট করলাম আপনি প্লিজ যাবেন না। অন্য কারও উপর ভরসা পাচ্ছিনা। একটু পাশে থাকেন আমার!
তো উনি পিভি চেক করে দেখলেন যে না এখনও খুব একটা নিচে নামেনি। এই কথা শুনে আমার এতো বেশি বুক ফেটে কান্না আসছিলো যে আর কতো কষ্ট করবো আমি!! এর থেকে তো সিজার করাই ভালো ছিলো। এত এত দুয়া করছি আমি, কতো চাইছি তাড়াতাড়ি যেনো সুস্থ ভাবে বাবুটা হয়ে যায়! কতো আর দেরি হবে! কতো আর কষ্ট সহ্য করা যায়!
ঠিক সেই সময় হঠাৎ এতো এক্সট্রিম লেভেলের কনট্র্যাকশন শুরু হলো। মানে পিভি চেক করার দুই তিন মিনিটের মধ্যে!!! আমি সেই ডাক্তার আপুকে জাপটে ধরে এতো জোরে জোরে চিৎকার দিলাম কয়েকটা!! এদিকে আম্মু, আমার শাশুড়ি, বোন, ফুপি সবাই দরজা ধাক্কাধাক্কি করছে এভাবে আমাকে একা রাখার মানেটা কি! পরে দরজা একটু খুলে দিলে ওদের দেখতে পাই, সবাই কাদছে আর দুয়া করতে বলছে। পরে জোর করে আবার দরজা লাগিয়ে দিয়েছে!
তো ঠিক সেই মুহূর্তেই আমার তীব্র পুশের তাড়না আসতে লাগলো!! কিন্তু আমি সন্দিহান এবারও যদি চেক করে বলে না বাচ্চা নামেই নি!! তারা তো যতবার চেক করছে একেকটা নেগেটিভ কথা শুনাচ্ছে!
কিন্তু হঠাৎ মনে হলো আরে আমি তো এই সিচুয়েশনটা চিনি!!!
লাস্ট স্টেজ! পুশিং স্টেজ! বাবু প্রসব করার ঠিক আগ মুহূর্ত! যেকোনো সময় এই স্টেজ চলে আসে!
আমি চিৎকার করতে লাগলাম আমাকে তাড়তাড়ি নিয়ে যান আমার বাবু বের হয়ে গেলো!! দ্রুত আমাকে পাশের রুমে নিয়ে ওটি টেবিলে শোয়ানো হলো। তখনও মনে হচ্ছে চেক করে বলবে বাবু নামেনি।
কিন্তু এবার চেক করে যখন বলল মাথা দেখা যাচ্ছে তখন এতো ব্যথার মধ্যেও একটু স্বস্তি পেলাম।
এইসময় ব্যথার একটা ফ্লো আসে তো আমি ফ্লো এর সাথে সাথে পুশ করতে লাগলাম।
প্রায় ৬/৭ টা পুশ দেওয়ার সাথে সাথে আমার সন্তান, আমার বুকের মানিক, আমার কলিজার টুকরাটা দুনিয়ায় চলে এলো!!!
আহারে বাবা রে আমার!! কি যে সুন্দর! ঠিক যেনো আকাশের চাঁদটা এনে দিলেন আমার বুকে। সালাম দিলাম, বললাম আব্বা আপনার খুব কষ্ট হইছে না। মাথা আটকে থাকায় চেহারা বেশ লাল হয়ে ছিল। দ্রুত চেক করতে নিয়ে গেলো।
আলহামদুলিল্লাহ মাশাল্লাহ সুস্থ বেবি! ওজন ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম! ১৬ মার্চ বিকাল ৪টা ৫০মিনিটে প্রায় ৮ ঘণ্টার লেবার জার্নির পর আমাদের মাঝে আসলেন তিনি।
আল্লাহ রহমতে কোনো টিয়ার বা সাইড কাটতেও হয়নি!
আলহামদুলিল্লাহ।
নার্সকে বললাম ওর বাবার কোলে দিন!
আচ্ছা!! আমার যুদ্ধ কিন্তু এখনো শেষ হয়নি।
প্লাসেন্টা বের হওয়ার পর ডাক্তার জরায়ু পরিষ্কার করবেন। ভিতরে হাত দিয়ে পরিষ্কার করার সময় আমি এতো কষ্ট পেয়েছি বলার বাইরে! বুক ফেটে যাচ্ছে ব্যথায়। মনে হচ্ছে আরেকবার বাবু হবে আমার।
সেইম ডক্টর বড় বেবির সময়ও পরিষ্কার করছে আমি তেমন টেরই পাইনি এবার আমি সবদিক দিয়েই এতো কষ্ট পেলাম কেনো বুঝলাম না!
এই সময়টাতে আমি যন্ত্রণায় আবারও এতো চিৎকার করছি যে বাহির থেকে সবাই ভাবছিল কী হলো আবার! বাবু তো হয়ে গেছে!! একে তো পরিষ্কার করার ব্যথা কিছুক্ষণ পর বুক ব্যথাও শুরু হলো। তো ডক্টর সব চেক করলেন তারপর বললেন ওষুধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
এরপর আয়ারা ড্রেস চেঞ্জ করিয়ে আমাকে কেবিনে নিয়ে আসলো। পুরোটা রাস্তা হেঁটে হেঁটে আসলাম।
নরমালের এই সুবিধা যা কষ্ট হওয়ার আগে, হওয়ার পর তেমন আর কষ্ট ছিল না আমার।
কিন্তু প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম!
রুমে এসে আমার সে কী কান্না! আমি একা একা এতো ফাইট করেছি তোমরা কেউ আসোনি।
আসলে ওখানে রোগীর আত্মীয়কে এলাও করেনা। একা থাকে একদিক দিয়ে ভালো হয়েছে আমি পুরোটা সময় আল্লাহর সাথে কথা বলেছি। আর একবারও সিজারের কথা বলিনি অথচ বড় বেবির বেলায় সবাই কাছে ছিলো তাই ব্যথার চোটে সিজারের কথা বারবার বলছিলাম!
যাই হোক কেবিনে আসে শুলাম।
ভীষণ ভীষণ ক্লান্ত!!
নার্সরা ক্যানুলা লাগিয়ে দিয়ে গেলো। সম্ভবত অনেক পেইন হওয়ায় ডাক্তার হরমোনের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শরীরে এক্সট্রিম কাপুনি ছিলো।
আর চিৎকার করায় গলা আমার লিটেরালি ব্যথা করছিল অনেক।
সাথে প্রচণ্ড ক্ষুধা পেয়েছিল। ইচ্ছামত খাবার খেয়ে ঘুম দিলাম।
মাঝখানে বাবুকে খাওয়ালাম!
রাতে আমার গাইনি ডাক্তার এসে চেক করলো। বললেন ইচ্ছা করলে এখুনি যেতে পারো, তবে রাতটা থাকলে ভালো!
এদিকে আমি এতো ক্লান্ত ছিলাম যে উঠার এনার্জি নেই তাছাড়া ক্যাথেটার তখনো লাগানো ছিলো, আমি চাচ্ছিলাম এটা কাল পর্যন্ত লাগানো থাকলে আমাকে এখন আর ওয়াশরুমে যেতে হবে না। বাবু হওয়ার পর ওয়াশরুমে যাওয়া তো আরেক যন্ত্রণার ব্যাপার। তো রাতটা থেকে পরের দিন সকালে বাসায় চলে আসি।
যাই হোক আল্লাহ তায়ালার কাছে অসংখ্য শুকরিয়া যে এতো কষ্টের পরও আল্লাহ আমাকে বিশাল একটা নিয়ামত দিলেন। শুকরিয়া আদায় করি যে আমার সিচুয়েশন আরও বেশি খারাপ হতে পারতো। আমার আগে একজনের নরমাল হয়েছিল তার এতো বেশি টিয়ার হয়েছিল যে অনেকগুলো সেলাই পড়েছে, বেচারি মুভমেন্টই করতে পারছিল না।
অনেক কষ্টও পেয়েছি ঠিকই আবার আল্লাহ আমাকে অনেককিছু থেকে হেফাজত করছেন।
এরপরও যদি আরও বাবু দেন আল্লাহ তায়ালা সবাই যেনো সুস্থ সুন্দর সহজভাবে নরমালেই হয় আর মুহাম্মদের মতো ন্যাচারালি যেনো হয় ইনশাআল্লাহ।
পরিশেষে আমার দুই ছেলে মুহাম্মাদ আর উসামা দুইজনের জন্য খাস করে
দুয়া চাই আল্লাহ্ তায়ালা তাদের যেনো ইমানে,আমলে,এলেমে,উত্তম রিজিক,সুস্বাস্হ্যে বরকত দান করেন…বদনজর, শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করে! দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোত্তম কল্যাণ দান করেন,দ্বীনের দায়ী হিসেবে কবুল করেন,আমিন!
হুসনুল খুলুকের অলংকারে তারা যেনো নিজেদের সজ্জিত করে রাখতে পারে ইন শা আল্লাহ


أَعُوذُ بكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِن كُلِّ شيطَانٍ وهَامَّةٍ ومِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উম্মু উসামা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ৮
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
September 3, 2026
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
September 3, 2026
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
September 3, 2026
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
