দুয়া কবুলের সকল উপায়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছি
- Posted by MNCC Moderator
- Date May 18, 2026
- Categories Birth Story, Others

আমি ২০২৩ এর জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখ জানতে পারি আমি মা হবো ইন শা আল্লাহ এবং ফেব্রুয়ারী মাসে আমার এক স্কুল ফ্রেন্ডের মাধ্যমে জানতে পারি রৌদ্রময়ী প্রিন্যাটাল কোর্স সম্পর্কে। তার আগ পর্যন্ত নরমাল ডেলিভারি সম্পর্কে এতো বিস্তর কিছুই জানতাম না।
কোর্সে সবকিছু জানার পর খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সকল সকল ব্যায়াম এবং সকল নিয়ম কানুন মেনে চলেছি এবং ৫ ওয়াক্ত নামাজে, তাহাজ্জুদের নামাজে, বৃষ্টি ধরে এবং দোয়া কবুলের সকল উপায়ে আল্লাহর কাছে চেয়েছি স্বাভাবিক উপায়ে যেন মা হতে পারি।
আমি প্রেগন্যান্সির শুরু থেকে সকাল বিকাল ২০ মিনিট করে হাটতাম আর মাঝে মাঝে ব্যায়াম করতাম। ৩২ সপ্তাহের পর থেকে ব্যায়াম গুলো আরো নিয়মিত করা শুরু করি। ৩৭ সপ্তাহ থেকে আনারস খাওয়া শুরু করি।
তারপর চলে আসে সেই কাঙ্খিত দিন ৩০ আগস্ট, ৩৭ সপ্তাহ ৫ দিনে দুপুর ২.৪৫ মিনিটে আমার পানি ভেঙে যায়। আমার ডাক্তার আতিয়া সুলতানাকে ফোন দেই, উনি শুনেই বলেন আলহামদুলিল্লাহ! তুমি এই মুহুর্তে রাজশাহী মিশন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাও আমি ইনফর্ম করে দিচ্ছি।
( আমি ১০ সপ্তাহ থেকেই রাজশাহী মিশন হাসপাতালে ডাক্তার আতিয়া সুলতানা মেডামের আন্ডারেই ছিলাম)
আমি হাসপাতালে পৌছাই বিকাল ৫ টায়। এরমধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট পর পর মাইল্ড কনস্ট্রাকশন আসে। পি ভি চেক করে দেখে ১ ফিঙ্গার ওপেন। ওরা আমাকে ক্যানুলা করে ২ টা ইনজেকশন করে ( সম্ভবত গ্যাসের) তারপর অপেক্ষা করতে থাকি। রাত ৭.৪৫ এ আমাকে জানায় যেহেতু স্বাভাবিক ভাবে ব্যাথা বাড়ছে না তাই তারা আমাকে পিটোসিন দিতে চায়।
লেবার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি নার্স জরায়ু মুখে ট্যাবলেট দিয়ে দেয়। তারপর ৮.৩০ এর পর থেকে ব্যাথা হুট করেই ভয়ংকর বাড়া শুরু করে।
৯.৩০ আমি পি ভি চেক করার জন্য অনেক কাকুতি মিনতি করি নার্স বলে পিটোসিন দেয়ার ৪ ঘন্টা পর পিভি চেক করবে। আমি ব্যাথায় কিছুক্ষণ খু্বই অস্থির হয়ে কান্নাকাটি শুরু করি। সি সেকশনের কথাও বলে ফেলি। কিন্তু আমার ডাক্তার ম্যাম স্ট্রিক্টলি বলে দিয়েছিল আমার ইন শা আল্লাহ নরমালেই হবে কোন সি সেকশন হবে না।
১০ টায় আমার হাজবেন্ড পৌছায় হাসপাতালে। ওকে দেখে কিছুটা স্বস্তি পাই। ১.৫ মিনিট পর পর কনস্ট্রাকশন আসছিল তখন। আমি কয়েকটা খেজুর আর জমজমের পানি খেয়ে আল্লাহর কাছে নিয়ত করি। আর হাটাহাটি এবং স্কোয়াটিং শুরু করি। রাত ১১.৩০ মিনিটে আমার খালা জোর করে আমাকে শুইয়ে দেখতে চায়। খালা বাবুর চুল দেখতে পায়। সাথে সাথে নার্স কে ডাকে নার্সরা তখনও পিভি চেক করতে নারাজ। আমার আম্মু আর খালা এক প্রকার চিৎকার চেচামেচি করেই আমাকে লেবার রুমে পাঠায়।
বলা বাহুল্য লেবার রুম যথেষ্ট পরিস্কার ছিল এবং নার্স মেডিক্যাল অফিসার, এমনকি সুইপার যিনি ছিলেন তিনিও আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন আর পেটে কুতুকুতু টাইপ কি যেন দিচ্ছিলেন তাতে আমার কনস্ট্রাকশন আরো স্ট্রংলি আসছিল। তারপর সেখানে মিড ওয়াইফ বলে দিয়েছিল চিৎকার না করে পেইন আসলে পুশ করতে।
রাত ১১.৪০ প্রথমে একবার পুশ করি। কিছু হয়না। দ্বিতীয় বার, তাও হয়না। তৃতীয় বার আমি ডিপ ব্রেথ নেই নিয়ে পুশ করি।
রাত ১১.৫৫ মিনিটে আলহামদুলিল্লাহ আমার ছেলে দুনিয়াতে আসে। অনেক কেঁদে উঠে, আমার বুকের উপর দেয়
কিন্তু তখন আমি কেমন যেন ঘোরের মধ্যে ছিলাম। ওকে ভালো করে দেখতে পারি নি।
তখনও বুঝতে পারিনি তারা কখন সাইড কেটে ফেলেছে৷ বাবুকে পরিস্কার করে বাইরে নিয়ে গেলো। আমার সেলাই করতে আরো ৩৫-৪০ মিনিট লাগলো।
আলহামদুলিল্লাহ নার্স এবং মিডওয়াইফ আমাকে বলছিল আপনি খুবই লাকি এতো অল্প সময়ের লেবারে ডেলিভারি খুব কম হয়।
আপনার আগে অনেক পেশেন্ট এসে এখনো ব্যাথায় কাতরাচ্ছে আর আপনার সন্তান আপনার কোলে। আফটার ডেলিভারি এপিশিওটমির সেলাই এবং কনস্টিপেশনের সাথে ব্লাড আসার জন্য কিছু কমপ্লিকেশন ফেস করেছি। সেগুলো নিয়ে আরেকদিন কোন পোস্টে লিখবো ইন শা আল্লাহ।
তবে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ দোয়া কবুল করেছেন। আর এই সম্পুর্ন যাত্রায় আমি আমার সকল কোর্স ইনস্ট্রাক্টর এবং ডাক্তার আতিয়া সুলতানা ম্যামের উপর উপর ভীষণ কৃতজ্ঞ। আল্লাহ তাদের উত্তম জাযা দান করুক আমিন।
জেবিন
রোদ্রময়ী প্রিন্যাটাল পার্টিসিপ্যান্ট ব্যাচ ১৩
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
September 3, 2026
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
September 3, 2026
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
September 3, 2026
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
