টিপস সহ ঘরে দই বানানোর দুটি সহজ পদ্ধতি
- Posted by MNCC Moderator
- Date June 8, 2026
- Categories Blog, Rabeya Rowshin

অনেক মা-ই বাচ্চাকে ঘরে পাতানো দই তৈরি করে খাওয়াতে চান। তারা জানতে চান কিভাবে সহজে ঘরে দই পাতানো যায়। কেউ কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে ঘরে দই বীজ তৈরি করবেন কিভাবে সেটাও জানতে চান।
ইউটিউবে এই নিয়ে অনেক ভিডিও আছে, তবে সেগুলোও অনেকের কাছে কনফিউজিং লাগে। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা জানতে চান অনেকে। আমি ২টি সহজ পদ্ধতিতে ঘরোয়া পরিবেশে দই বানানোর উপায় জানাতে পারি ইনশাআল্লাহ, যা অনেকদিন ধরে আমি নিজে ফলো করছি। সাথে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু টিপ্সও থাকবে।
দই বীজ বানানোর পদ্ধতি
এর জন্য জ্বাল না করা কাঁচা দুধ নিতে হবে।
হট পট টিফিন ক্যারিয়ার আমি ব্যবহার করি দই পাতাতে। এটি খুবই সহজ ও ঝামেলা কম।
সামান্য পানি (১/২ কাপের মতো) ফুটে ওঠা পর্যন্ত গরম করে নিতে হবে। সেটি হট পটে ঢেলে দিতে হবে৷ টিফিন ক্যারিয়ারে ২ বা ৩টি ছোট বাটি থাকে। তেমন ১টি বাটিতে কাঁচা দুধ দিয়ে হট পটের মুখ টাইট করে লাগিয়ে দিতে হবে। গরম পানির লেভেল টিফিন বাটির অর্ধেকের মতো হবে। এই গরম পরিবেশে দুধের ভেতর থাকা ব্যাকটেরিয়া গ্রো করে দই হবে।
এভাবে হট পট টিফিন ক্যারিয়ার স্থিরভাবে রেখে দিবেন ৮-১০ ঘন্টা।
প্রায় ১০ ঘন্টা পর ক্যারিয়ার খুলে দেখবেন দই হয়ে গেছে। এটিই আপনি দই বীজ আকারে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।
দই বানানোর পদ্ধতি
১।
হট পট টিফিন ক্যারিয়ারে রেখে একই পদ্ধতিতে আপনি দই বীজ ব্যবহার করে দই বানাতে পারেন। জ্বাল করা দুধের যখন ধোয়া ওঠা গরমভাব চলে যাবে এবং এতে আপনি বেশ কিছুক্ষণ নিজের আঙুল ডুবিয়ে রাখতে পারবেন স্বাচ্ছন্দ্যে, তখন অল্প (১/২ চা চামচ) দই বীজের সাথে ১ টেবিল চামচ দুধ নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নেবেন। এরপর পাত্রের সাইজ অনুযায়ী বাকি দুধটুকু ঢেলে মিশিয়ে নেবেন।
হট পট টিফিন ক্যারিয়ার এরপর ৫/৬ ঘন্টার জন্য স্থির রেখে দেবেন৷
দই হয়ে গেলে বের করে নরমাল ফ্রিজে রাখবেন।
টিপস: এই রকম হট পট টিফিন ক্যারিয়ারে সাধারণত ছোট ছোট ৩টি বাটি থাকে। ভালো হয়, নিচের বাটিটি খালি রেখে, উপরে দুধের পরিমাণ অনুযায়ী ১ বা ২টি বাটিতে দই বসানো। এতে করে ফুটিয়ে নেয়া গরম পানির সংস্পর্শে থেকে দই বীজের ব্যাকটেরিয়া মরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
২।
অন্য পদ্ধতিটি হচ্ছে বেকিং ওভেনে দই পাতানো। প্রবাসে বাঙালীরা এভাবেই দই বানান। বেকিং ওভেনে আমি মিষ্টির দোকানে যে মাটির হাড়িতে দই বিক্রি করা হয় সরাসরি সেই হাড়িতেই দই বসাই। তবে টিফিন ক্যারিয়ারের স্টিলের বাটিসহ অন্য যে কোন পাত্রই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
উপরে বলা পদ্ধতিতে কাঁচা দুধ দিয়ে এখানেও দই বীজ তৈরি করা যাবে।
বীজ থেকে দই করার জন্য, আগের মতোই দই বীজ দুধের সাথে মিশিয়ে হাড়িটি ওভেনে রেখে দিতে হবে। প্রিহিট ছাড়াই, কয়েক ঘন্টা গ্যাপ দিয়ে ১ বা ২ বার ১০০°তে ১০ মিনিটের জন্য ওভেন হিট করে ১০-১২ ঘন্টার মতো দুধটি রেখে দিলে দই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। দই হয়ে গেলে বের করে নরমাল ফ্রিজে রাখবেন।
যেহেতু এখানে হট পট টিফিন ক্যারিয়ারের মতো কন্টিনিউয়াস হিট দেয়া হয় না, তাই এতে দই হতে সময় লাগে। এভাবে কাঁচা দুধ দিয়ে দই বীজ করতেও বেশি সময় লাগবে।
টিপস: এই পদ্ধতিতে রাতে ঘুমের আগে দই বসানো ভালো, এতে দই ওভারকুক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না (মানে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে যায় না, বেশি হয়ে গেলে দই থেকে বেশি পানি বের হয়) । রাত ১০টার দিকে দই বসিয়ে ১ বার ওভেন হিট করা যায়, এরপর ফজরের সময় আরেকবার হিট করলে সকালে ৮-৯টার দিকে সুন্দরভাবে দই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। সকালেও দই বসানো যেতে পারে, এতে করে পরবর্তী ৮-১০ ঘন্টা আপনি দইয়ের প্রগ্রেস মনিটর করে প্রয়োজনে হিট দেয়া বা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, আমি এখানে আমাদের নিজস্ব ফার্মের মহিষের দুধ ব্যবহার করেছি। মহিষের দুধ গরুর দুধের চেয়ে ঘন হয় তাই এটা একবার উতরে নিয়েই দই বসানো যায়। গরুর দুধ ব্যবহার করলে আগে জ্বাল করে ঘন করে নিতে হবে তাহলে আশা করা যায় উপরের দেয়া সময় অনুযায়ী দই রেডি হবে ইনশাআল্লাহ। জেনারেলি, গরুর দুধের চেয়ে মহিষের দুধের দই করা বেশি সহজ ও টেস্টি।
দই বীজ করার জন্য আপনি যদি কাঁচা দুধ খুঁজে না পান তাহলে সরাসরি বাজারে পাওয়া টক দই ব্যবহার করতে পারেন।
প্রেগন্যান্সিতে দই: হজমে সহায়ক, গ্যাস/পেট ফাঁপা প্রতিরোধ করে, মায়ের যোনীপথে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়তে সহায়তা করে, প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস।
ছোট বাবুর জন্য: ৬ বা ৭ মাস থেকেই শিশুকে মিষ্টি ছাড়া দই খাওয়ানো যায়। বাচ্চারা সাধারণত এটি বেশ পছন্দ করে। এতে আছে বাচ্চার জন্য প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। সরাসরি খাওয়ানো যায় বা ভাত খাওয়ার উপযোগী বাচ্চাকে ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।
ছবিতে মহিষের দুধ দিয়ে ঘরে তৈরি দই বীজ ও দই দেখা যাচ্ছে।
রাবেয়া রওশীন
প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর ও দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল
Other post
You may also like
এপিডুরাল শুধু একটি পেইন কিলার নয়
আব্দুল্লাহর জন্মের সময় এপিডুরাল নেওয়ার আগে আমি ভেবেছিলাম এটি শুধু একটি পেইন কিলার। ব্যথা একটু কমবে, কিছুটা বিশ্রাম পাব, আর এর মধ্যেই বেবি হয়ে যাবে।কিন্তু আমি যা বুঝিনি তা হলো— এটি লেবরের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে বদলে দেয়।লেবর মানে শুধু জরায়ুর Contractions …
লেবারের সময়ে কুইক লিস্ট
লেবারের সময়টা একজন মায়ের সবচেয়ে ভালনারেবল সময়। অনেক কিছু আগে থেকে পড়া থাকলেও জানা থাকলেও ব্যথার তীব্রতায় হয়তো মাথায় নাও থাকতে পারে। তাই লেবারের সময়টা একটু সহজ করার জন্য এটি একটি কুইক লিস্ট।১. লেবরের প্রাথমিক পর্যায়ে হাঁটাহাঁটি করুন এবং যতক্ষণ …
হবু মায়ের যত্নে
“বৌমা তো সারাদিন পোড়া মরিচ খায়!ও বাজান, মসজিদ থেকে আসার সময় বড় হুজুরের কাছ থেকে পানি পড়া নিয়ে আসিস।জ্বিন আসর করল নাকি—কে জানে!”২।”ও বৌ শুনো…পোয়াতি মাইনষের একটু কম খাইতে হয়। বেশি খাইলে বাচ্চা বড় হইয়া যাইব। তখন বাচ্চা হওনের সময় …
