চ্যালেঞ্জিং প্রেগন্যান্সি জার্নি, অবশেষে নরমাল ডেলিভারী
- Posted by MNCC Moderator
- Date October 15, 2023
- Categories Birth Story, Others

বিয়ের কিছুদিনের মাঝে আল্লাহর ইচ্ছায় কনসিভ করি। আলহামদুলিল্লাহ। কেমন যেন দিশাহারা লাগছিল। তখনি এই কোর্সের খোঁজ পাই এবং এনরোল করি। প্রেগন্যান্সির শুরুতেই নেয়া অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল এটা।
প্রমা আপুর ক্লাসে বুঝতে পেরেছিলাম কিভাবে ডায়েট মেইনটেইন করতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ চেষ্টা করছিলাম৷ রাবেয়া আপুর ক্লাস করে নরমাল ডেলিভারির জন্য সাহস পেয়েছিলাম। আমি সবসময়ই ভাবতাম সি সেকশন করে ফেলব। নরমালের ব্যথা সহ্য করতে পারব না। আপুর ক্লাস করে সেই সাহসটা করি আলহামদুলিল্লাহ। সেই সাথে আমার হাসব্যান্ড অনেক সাহস দিয়েছিলেন। সি সেকশন কেন প্রয়োজন তা জেনেছিলাম ফাতেমা আপুর ক্লাসে এবং বুঝেছিলাম এতদিন কত ভুল ধারণা নিয়ে ছিলাম।
প্রেগন্যান্সির প্রথম ধাক্কা টা আসে ২৪ সপ্তাহের দিকে, হঠাৎই দেখা যায় এমনিওটিক ফ্লুইড কমে গেছে। প্রমা আপুর পরামর্শে আল্লাহর ইচ্ছায় তা আবার নরমাল রেঞ্জে ফিরেও আসে।
দ্বিতীয় ধাক্কাটা সহ্য করা বেশ মানসিক চাপ দিয়েছিল। ৩০ সপ্তাহে দেখা যায় সার্ভিক্স পাতলা হওয়া শুরু করেছে, ২ সেমি তখনি। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। বেডরেস্ট দেয়া হয়, ইঞ্জেকশন দেয়া হয় প্রিটার্ম লেবার ঠেকানোর জন্য। তখন আমার মাথায় আর নর্মাল বা সি সেকশন এই চিন্তা ছিলনা, ভাবছিলাম কিভাবে একটা সুস্থ বাচ্চা জন্ম দিতে পারি। আস্তে আস্তে সার্ভিক্স আরো ছোট হতে থাকে। ৩৭ সপ্তাহ পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে নিয়ে যান। এই প্রায় দুই মাসের বেডরেস্টে আমার ফ্যামিলি, বিশেষ করে আম্মু আর হাসব্যান্ড এবং রৌদ্রময়ীর আপুদের অনেক সাপোর্ট পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।
৩৭ সপ্তাহের রুটিন চেকআপে পিভি চেক করা হয় এবং জানতে পারি জরায়ু মুখ ৩ সেমি খুলেছে। আমার বেডরেস্ট বন্ধ করে দেয়া হয় এবং বলা হয় প্রচুর হাঁটাহাঁটি করতে। সিটিজি করে বাসায় এসে পড়তে বলে৷ সিটিজি তে দেখা যায় বেবির হার্টবিট ইররেগুলার। মুভমেন্ট কম। আমাকে স্যালাইন এবং অক্সিজেন দিয়ে আবার সিটিজি করানো হয় এবং একই রেজাল্ট আসে।
হসপিটালে এডমিশন নিতে বলা হয়। আমি সাধারণ চেকাপের জন্য সকালে হসপিটালে গিয়ে দুপুরের মাঝে এডমিট হয়ে লেবারের ওয়েট করতে থাকি। সন্ধ্যায় দেখা যায় ডাইলেশন ৩.৫ সেমি। হাঁটাহাঁটি করতে থাকি হাসব্যান্ডের সাথে। রাত ১২টায় আমার পেইন ইন্ডিউস করার জেল দেয়া হয়৷ হাল্কা হাল্কা ব্যথা করছিল কিন্ত তেমন অসহনীয় ছিলনা। রাত পৌনে দুটায় হঠাৎ পানি ভেঙে সব ভেসে যায়। তারপর অসহনীয় ব্যথা শুরু হয়। অতি দ্রুত ডাইলেশন হতে থাকে।
ব্যথা সহ্য করার সব টেকনিক ভুলে আমি এপিডিউরালের জন্য চিৎকার করতে থাকি। এপিডিউরাল দিয়েও কোন লাভ হয়না কারণ ততক্ষনে ৮ সেমি ডাইলেশন হয়ে গেছে। আমার চিৎকারে হসপিটালের সব নিয়ম ভেঙে হাসব্যান্ডকে আমার কাছে এনে দেয়া হয়। খুব সম্ভবত আমার পেইন অতি দ্রুত অসহনীয় হয়ে যায় অনেক তাড়াতাড়ি ডাইলেশনের কারণে। পানি ভেঙে যাবার আগে তেমন ব্যথাই ছিলনা। পানি ভেঙে যাবার পরে অসম্ভব দ্রুততায় ডাইলেশন হতে থাকে যা আমাকে পেইনের সাথে কোপ আপ করার সময় সুযোগ দেয়নি।
পানি ভাংগার ৫৫ মিনিটের মাথায় রাত ২টা ৪০ মিনিটে আলহামদুলিল্লাহ মারইয়াম পৃথিবীতে আসে৷ পরদিন বিকালে আমি বাসায় চলে আসি সুস্থভাবে আলহামদুলিল্লাহ। এপিসিওটমির কাটা নিয়ে এখন ও স্ট্রাগল করছি। জন্মের পরে থেকেই মেয়েটাকে নিয়ে, পার্সোনাল লাইফ নিয়ে নানান চ্যালেঞ্জ ফেস করছি আলহামদুলিল্লাহ। নাইমা আপুর ক্লাসের পড়া গুলো কাজে লাগছে এখন।
পুরো প্রেগন্যান্সির সময় এই চারজন আপু যেভাবে আমার পাশে ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের কবুল করে নিন। দুয়া যে কতবড় হাতিয়ার তা বারবার টের পেয়েছি।
আমার পরিবারের জন্য দুয়ার আবেদন। আবারো প্রাণঢালা দুয়া রৌদ্রময়ীর জন্য।
উম্ম মারইয়াম
প্রিনাটাল ব্যাচ ৪
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
September 3, 2026
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
September 3, 2026
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
September 3, 2026
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
