Back

ব্রিচ বেবী ঘুরে নরমাল ডেলিভারি

আমার মেয়ের জন্মের সময় বেশ কিছু প্রশ্ন জমেছিল মনে যার উত্তর পাচ্ছিলাম না। কেন, কী, কিসের জন্য হলো? জানার খুব ইচ্ছা জন্মালো কিন্তু কোথায় থেকে জানব জানা ছিল না।

রৌদ্রময়ীর প্রি ন্যাটাল কোর্স তখন সামনে আসলো। ভাবলাম ২য় বেবি আসার আগে জেনে রাখা প্রয়োজন তাই ভর্তি হয়ে গেলাম। হঠাৎ জানতে পারলাম আমি ২য় বার মা হতে যাচ্ছি আলহামদুলিল্লাহ।

আমার মেয়ের তখন ১ বছর ৪ মাস। একা একা পারব কিনা মাথায় একবার উকি দিলেও নিজেকে সামলে নিলাম। সব ঠিক ঠাক থাকলেও খেতে না পারা, কিছু অসুস্থতায় ভুগতে লাগলাম। এর মাঝেই ক্লাস করতাম, কেন যেন জানার নেশায় আটকে গেছিলাম। এত সুন্দর করে গুছিয়ে ক্লাসগুলো ছিল নোট না করা আমিও নোট করায় বসে গেলাম।

আর নরমালের প্রস্তুতি বেশি না হলেও যতটুকু পারি নিতে লাগলাম। যেহেতু কোন সমস্যা ছিল না আলহামদুলিল্লাহ।

এর মাঝে যখন ৩৪ সপ্তাহে আল্ট্রা করলাম তখন হঠাৎ ধরা পরে বেবি সেফালিক থেকে ব্রীচ পজিশনে চলে গেছে। মাথা কাজ করছিল না। যদিও বেবির সুস্থতাই আগে, যেটা ভাল হয় সেটাই করতাম। তবু যেহেতু মাইন্ড সেট আপ ছিল আর প্রথম জন নরমালে ছিল, কেন যেন আশাহত হলাম, মাথায় লজিক কাজ করছিল না।

যাই হোক, তবু একমাত্র আল্লাহ্ই ভরসা। ব্রীচ ঘুরার কিছু ব্যায়াম ট্রাই করলাম যদিও বেশি করা যায়নি। তারপর আবার ৩৭ সপ্তাহে আল্ট্রায়ও একই রেজাল্ট আসলো।ডাক্তার এবার বললেন ৩৯ সপ্তাহে আবার করতে তারপর ফাইনাল ডিসিশনে চলে যাবে। আমি তখনো শুধু তাকেই ডাকছি। যেদিন আল্ট্রা করতে গেলাম, ডাক্তার হঠাৎ বলে ফেললেন, বেবি তো ঘুরে গেছে সেফালিকে চলে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলছিলাম।

জানি যে এর পরও অনেক কম্পলিকেশনে নরমাল হয় না তবু চেষ্টা করার সুযোগ তো পেলাম। এর পর থেকে যা যা চেষ্টা করার দরকার করেছি, ব্যথা উঠার অপেক্ষায় এবার সময়ই কাটছিল না।

৪‌০ সপ্তাহ গিয়ে ৪১ হলো ব্যাথা নেই, ম্যাম বললো চলে এসো ২ দিন পর। যাওয়ার আগের দিন রাত থেকেই শুরু হল ব্যাথা, অল্প অল্প দিয়ে শুরু হয়ে তীব্রতা বাড়ল দুপুর থেকে।

১০ তারিখ শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় এক বিশাল পরীক্ষা দিয়ে আমার রাজপুত্র আসলো দুনিয়ায়। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ্ সহজ করেছেন। এই লেবারে স্কোয়াট আর ডিপ ব্রিদিং নিজেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাকে অনেকটাই সাহায্য করেছে আলহামদুলিল্লাহ ।

মারজিয়া বিনতে আসাদ
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স, ব্যাচ ১৩