Back

রংধনু রঙের খেলনাগুলো

ছোটবেলায় আমাদের নিকট প্রকৃতির সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে বস্তুটি ছিলো, তা হলো সাত রঙের রংধনু। কারণ অধিকাংশ সময় বৃষ্টির দেখা মিললেও, বৃষ্টির পরের রংধনুর দেখা মিলতো খুবই কম।

তাই যে জিনিস খুব কম দেখা যায়, সে জিনিসের প্রতি আকর্ষণও থাকে সবচেয়ে বেশি। ছোট থেকে ছুঁতে চাওয়া রংধনু তাই আমাদের কাছে সবসময় আকর্ষণীয় হয়ে রয়।

অপরদিকে বাচ্চারা রঙ নিয়ে খেলতে পছন্দ করে বলেই তাদের বেশিরভাগ খেলনা বা বই বিভিন্ন রঙের মিশ্রণে তৈরি করে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

এসব কোনকিছুতেই হয়তো সমস্যা ছিলো না। কিন্তু মানুষের নিকট আকর্ষণীয় হয়ে থাকা এ রংধনুতে একসময় পশ্চিমা বিশ্বের হস্তক্ষেপ শুরু হয়। তারা তাদের সমকামিতা অধিকার এর জন্য এ রংধনুর ৬ রঙকে বেছে নেয়। এখানেও একটুখানি চালাকি করে, এ আর কি।

তারা কি পারতো না পৃথিবীর হাজারো রঙের অন্য ৬টি রঙ বেছে নিতে! রংধনু থেকেই কেন নিতে হলো? কারণ মানুষের কাছে রংধনুর রঙগুলো সবসময় আকর্ষনীয় এবং স্বাভাবিকভাবে গ্রহনযোগ্য রঙ বলেই মনে হয়।

একবার তাদের পতাকার রঙ ঘোষণা করার পর থেকেই; অতি সূক্ষ্মভাবে রংধনুর ৭ রঙের জায়গায় ৬ রঙ দিয়ে প্রতিটি খেলনা, পোষাক, বই যেন স্বাভাবিক করার একটা চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকেও সমকামিতার অধিকার স্বীকৃতি দেয়ার এক অপচেষ্টা চলছে।

তাদের টার্গেট হচ্ছে টিনেজ বয়সী ছেলে মেয়েরা। বিশেষ করে ছেলেরা। একটু ঘাটাঘাটি করে দেখলেই বুঝতে পারবেন – ছেলে থেকে মেয়েতে রুপান্তরিত হওয়ার সংখ্যাই বেশি।

এর প্রথম কারণ হচ্ছে – ছেলেরা মেয়েতে রুপান্তরিত হয়ে মেয়েদের সাথে মিশে যেতে চাচ্ছে। তাদের সাথে মেলামেশা করতে চাচ্ছে। পর্দা নষ্ট করে মুসলিম জাতির মেয়েদেরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার যেন এক পায়তারা চলছে।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে – গাযওয়াতুল হিন্দ বা বড় বড় যুদ্ধে মুসলিম পুরুষেরা লিড করে বিজয় ছিনিয়ে আনবে, ইন শা আল্লাহ। তাই একবার যদি এ যুব সমাজের মধ্যে সমকামিতার বীজ বপন করে দেয়া যায়, তাহলে যুদ্ধে জয়লাভ করা তো দূরের কথা, বরং যুদ্ধ ছাড়াই একটা জাতি ধ্বংস করে দেয়া যাবে।

তারা এ তরুণ সমাজের পাঠ্যপুস্তককে টার্গেট করেছে কারণ এ বয়সের ছেলেমেয়েরা একটু বেশি আবেগী হয়। বিবেক দিয়ে বিচার ক্ষমতা তৈরী হওয়ার আগেই তরুণদের ‘মনে মনে শরীফা’ করে দেয়ার এক অপচেষ্টায় তারা এখন লিপ্ত।

আর এ টিনেজ বয়সী ছেলে-মেয়েদের কাছে বিষয়টা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করে তুলে ধরতে তারা একদম শিশু বয়সী বাচ্চাদের খেলনা, বই পোষাক বিভিন্ন বস্তুগুলোকে ৭ রঙে নয়, বরং ৬ রঙের মিশ্রণে তৈরী করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন তো অনেকে বুঝে না বুঝেই এ ৬ রঙের খেলনা বা বইগুলো শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

অনেকে আবার এ বিষয়গুলো তুচ্ছ করে ভাবছে। কিন্তু না, এখন আর এদেরকে মোটেও হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। মস্তিষ্কে ছোট থেকেই ছাপ রাখতে শুরু করলে, টিনেজ বয়সে সে শিশুদের কাছে সমকামিতা একদম স্বাভাবিক বলেই মনে হবার কথা। আমাদের অজান্তেই তারা আমাদের শিশুদের সাথে একটা মাইন্ড গেম খেলছে।

তাই রংধনুর ৬ বা ৭ রঙ মিশ্রিত স্বাভাবিক খেলনা, বই, পোষাক, ইত্যাদি যা-ই হোক না কেন; ছোট থেকেই নিজের সন্তানদের যেন দেয়া না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। হয়তো এ রংধনুর রঙগুলো আমাদের পছন্দের ছিলো। কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমা এজেন্ডা ধূলিসাৎ করতে আমাদের এ জাতীয় সমস্ত কিছু বর্জন করাই উত্তম।

ছুঁতে চাওয়া আমাদের সে প্রকৃতির রংধনু অধরা হয়েই থাক। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেন, এ রঙ মিশ্রিত পণ্যগুলো সবসময় বর্জন করতে পারি। যারা এ বিভিন্ন বস্তু বা ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে এসব নরমালাইজ করার চেষ্টা করছে, সে সকল ব্র্যান্ড এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বর্জন করা উচিত।

এর পাশাপাশি ছোট থেকেই শিশুদের ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। নবী ও রাসুলদের জীবনী, যুদ্ধ জৌলুস, এসব কাহিনী বেশি বেশি করে শুনাতে হবে। চোখ-কান খোলা রেখে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। বড় হয়ে যেন আমাদের সন্তানেরা কোনভাবেই এ ফাঁদে পা না দেয়, সেজন্য যথাযথ ব্যবস্হা শিশুর শৈশব থেকেই নিতে হবে।


ইশরাত জাহান তৃষা
প্রিনেটাল এসোসিয়েট 
রৌদ্রময়ী স্কুল