Back

কম সময়ে সহজে আমার নরমাল ডেলিভারির গল্প

#বার্থ স্টোরি

আলহামদুলিল্লাহ!
​গত ০৪/০৬/২৬ তারিখ দুপুর ০২:১৫ মিনিটে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার ছেলে ‘আহমাদ’-কে আমার কোলে দিয়েছেন।
​আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!
​আল্লাহ তায়ালার কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া যে, তিনি আমাকে নরমাল ডেলিভারির জন্য কবুল করেছেন।

🌸রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল টিমের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
​তারা বাংলাদেশে এত স্বল্প মূল্যে এত সুন্দর ও তথ্যবহুল একটি কোর্সের আয়োজন করেছেন।
​আল্লাহ তায়ালা তাদের উত্তম জাযাহ দান করুন।

🌸​আর আমার দৌলার Rejuana Razzak প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তায়ালা তাকেও উত্তম জাযাহ দান করুন।

🌸​নরমাল ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতি:

​আমার প্রেগন্যান্সির শুরুর দিকে ব্লিডিং হওয়ায় এবং আমার ফ্যামিলিতে প্রিম্যাচিউর ডেলিভারির হিস্ট্রি থাকায় ৩০ সপ্তাহ পর্যন্ত একদম রেস্টে ছিলাম।
​রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স করা সত্ত্বেও ভয়ে কোনো ব্যায়াম শুরু করিনি।
​কী কী ব্যায়াম করব, সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারছিলাম না।
​ঠিক তখনই আমার দৌলা (লেবার-ডেলিভারি সাপোর্ট পারসন) আপু আমাকে এই বিষয়ে অনেক সাহায্য করেন।
​প্রতিদিন কত মিনিট এবং কী কী ব্যায়াম করব, তার একটি সুন্দর চার্ট তিনি আমাকে করে দিয়েছিলেন।
​এই চার্টটি আমার জন্য যে কতটা সহায়ক ছিল, তা বলে বোঝাতে পারব না।
​আপুকে অনেক অনেক শুকরিয়া।

★৩২ সপ্তাহ থেকে শেষ পর্যন্ত আমি নিয়মিত ব্যায়াম করেছি।
​প্রতিদিন ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা হেঁটেছি এবং ঘরের সব কাজ নিজেই করেছি।
​পাশাপাশি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর, তাহাজ্জুদের সময় এবং সারাদিন মনে মনে দোয়া করতাম, আল্লাহ যেন আমার ডেলিভারি সহজ করেন।
​সবার কাছে শুনতাম প্রসব ব্যথা নাকি অত্যন্ত ভয়ংকর ও অসহনীয় হয়।
​তাই ভয়ে আল্লাহর কাছে সবসময় দোয়া করতাম, তিনি যেন ব্যথা ছাড়া এবং কম সময়ের মধ্যে নরমালে বাবু দেন। 🥹
​আমার আম্মু এই কথা শুনে হাসতেন আর বলতেন, “মা হতে গেলে ব্যথা তো সহ্য করতেই হবে!”
​কিন্তু আমার আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন।
​তিনি আমার জন্য নরমাল ডেলিভারি কল্পনাতীতভাবে সহজ করে দিয়েছেন।
​আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার!

🌸​ডেলিভারির দিন:

★​সকাল ৬:০০ টা:

​ঘুম থেকে উঠে দাঁড়ানোর সাথে সাথেই অল্প পানি ভেঙে যায়।
​এরপর ফজরের নামাজ পড়ার পর একেবারে বেশি করে পানি ভাঙে।​সাথে সাথে ডাক্তারকে জানালে তিনি দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলেন।

★​সকাল ৭:০০ টা (আনুমানিক):

​এক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা হাসপাতালে পৌঁছাই।
​নার্স চেক করে জানান যে, জরায়ু ৪ সেমি ওপেন হয়ে গেছে, আল্লাহু আকবার!
​অথচ তখন পর্যন্ত আমার কোনোই ব্যথা ছিল না।

★​সকাল ৮:০০ টা থেকে ১১:০০টা:

​প্রয়োজনীয় টেস্ট করা এবং ভর্তি হতে হতে আরও এক ঘণ্টা কেটে যায়, তখনও কোনো ব্যথা নেই।
​স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয় এবং বেশি বেশি হাঁটতে বলা হয়, যেন ন্যাচারাল পেইন আসে।
সকাল ১০ টায় ডাক্তার আসেন (এর আগে পর্যন্ত ডাক্তার নার্সদের সাথে ফোনে যুক্ত ছিলেন এবং নিয়মিত খবর নিচ্ছিলেন) এবং চেক করে জানান, জরায়ু ৫ সেমি ওপেন।
​​তখন একদমই হালকা ব্যথা আসছিল আর যাচ্ছিল।
​আরও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর দেখা যায় ৬ সেমি ওপেন, কিন্তু ব্যথা তখনও বাড়েনি।
​তাই ডাক্তার ইনডাকশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

★​সকাল ১১:৩০ টা:

​আমাকে ইনডাকশন দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে।
​যখনই ব্যথা আসতো, আমি দেয়াল ধরে ধাক্কা দিতাম।
​আর যখন ব্যথা চলে যেতো, তখন ডিপ স্কোয়াট ও হিপ রোটেশন করতে থাকতাম।
​আমি অনবরত দোয়া পড়ছিলাম এবং আল্লাহর সাহায্য চাচ্ছিলাম।
​মাঝে মাঝে বসে বিশ্রাম নিতাম, কিন্তু একবারের জন্যও বিছানায় শুইনি।
​এভাবেই চলতে থাকে।

★​দুপুর ২:০০ টা থেকে ২:১৫ মিনিট:

​দুপুর ২টায় ডাক্তার চেক করে দেখেন সার্ভিক্স ফুল ডায়ালেটেড।
​সাথে সাথেই আমাকে ওটিতে নেওয়া হয়।
​অবশেষে দুপুর ২:১৫ মিনিটে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার, আমার ছেলে দুনিয়াতে আসে।

🌸​আমি মিশরে থাকি।
​এখানে আমার হাসব্যান্ড ছাড়া পাশে থাকার মতো আর কেউ নেই।
​আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা দুজনে মিলেই সবকিছু সামলিয়েছি।
আমার ​আল্লাহ আমার জন্য সবকিছু অনেক অনেক সহজ করে দিয়েছেন।
​আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!

​​উম্মে আহমাদ
​রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট
ব্যাচ ২৪