সিজারিয়ান ডেলিভারির আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি
- Posted by Sumaiya Snigdha
- Date August 15, 2026
- Categories Blog

বাংলাদেশে সিজারিয়ান ডেলিভারির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
যেখানে WHO বলছে আদর্শ হার ১০–১৫%, সেখানে আমাদের দেশে অনেক জায়গায় এখন অর্ধেকের বেশি বাচ্চা সিজারের মাধ্যমে জন্ম নিচ্ছে।
মায়েদের সাথে কথা বললে দেখা যায়—
কেউ জেনে–বুঝে সি–সেকশনের সিদ্ধান্ত নেন,
আবার কেউ পরিবার বা চিকিৎসকের কথার ওপর ভরসা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
আমরা এমন একটা সময়ে আছি, যেখানে গর্ভকালীন সময়ে কী করা উচিত, কী খাওয়া উচিত এবং কয়বার চেকআপ করা উচিত—এসব বিষয়ে কিছুটা জানা থাকলেও লেবার কী, ডেলিভারি কেমন হয়, কীভাবে ম্যানেজ করা যায়—এই বিষয়গুলো নিয়ে পরিষ্কার ধারণা খুব কম।
যখন সত্যিকারের লেবার শুরু হয়, তখন সবকিছু ভয়ংকর মনে হতে থাকে।
কী হবে, কতক্ষণ চলবে, এরপর কী—কিছুই জানা থাকে না।
এই নাজুক সময়ে অনেক মা ভাবেন,
সি–সেকশনই হয়তো সবচেয়ে শান্তির পথ—সহজে বাচ্চা পাওয়া যাবে, এই ভয় থেকে মুক্তি মিলবে।
আবার অনেক ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—
বাচ্চা কম নড়ছে মনে হলে
পানি কম বলা হলে (যেখানে ৮–২৩ সেমি স্বাভাবিক)
“বাচ্চা বড়, নরমাল ট্রায়াল দেওয়া যাবে না”
“পেলভিস চাপা” —যেটা আসলে নরমাল ট্রায়াল ছাড়া নিশ্চিত বলা যায় না
এই অজানাগুলোই লেবারকে ভয়ংকর করে তোলে,
আর সি–সেকশনকে সহজ সমাধান মনে হয়।
এর সাথে আছে আরেকটা বাস্তবতা—
আমাদের প্রেগন্যান্সি খুব মূল্যবান।
একজন মায়ের হয়তো এক বা দুইটা সন্তানই হয়।
“যেন বাচ্চাটা সুস্থভাবে দুনিয়ায় আসে”—এই চাপটা শুধু মায়ের নয়, চিকিৎসকের কাঁধেও পড়ে।
সমাজে প্রচলিত কিছু ভয়ংকর গল্পও এই ভয় বাড়িয়ে দেয়—
“নরমাল ডেলিভারিতে বেবি মারা গেছে”
বা “চাপ লেগে বাচ্চা প্রতিবন্ধী হয়েছে”
কিন্তু এর পেছনে অন্য কারণ ছিল কিনা—
মা বা বাচ্চার আগে থেকেই কোনো জটিলতা ছিল কিনা—
এসব আর জানা হয় না।
সব স-সেকশন যে অপ্রয়োজনীয়—তা নয়।
জরুরি অবস্থায় সি-সেকশন মা ও শিশুর জীবন বাঁচায়—এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু আমাদের চিন্তার জায়গা হলো
অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন।
অনেক সময় সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়—
লেবার পেইনের ভয়
সঠিক তথ্যের অভাব
কখন সি- সেকশন দরকার, আর কখন একটু অপেক্ষা করা যায়—এই না জানার কারণে।
অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশন মায়ের জন্য কষ্টকর—
দীর্ঘদিনের ব্যথা, ইনফেকশন, মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
শিশুর জন্মের পর প্রথম ১ ঘণ্টাকে বলা হয় গোল্ডেন আওয়ার—
এই সময়টাই মা–শিশুর বন্ধন তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
অপ্রয়োজনীয় সি-সেকশনের কারণে যদি মা অচেতন থাকেন বা তীব্র ব্যথায় কাতরান,
তাহলে এই স্বাভাবিক বন্ধন তৈরি হওয়াটা বাধাগ্রস্ত হয়।
আর যাদের সত্যিই সি–সেকশন দরকার—
তারা অনেক সময় নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখেই সন্তানকে দুনিয়ায় আনেন।
নরমাল ডেলিভারি বা ন্যাচরাল বার্থ সব সময় সম্ভব নয়,
কিন্তু সঠিক তথ্য ও সঠিক সাপোর্ট পেলে
অনেক ক্ষেত্রেই এটি নিরাপদভাবে সম্ভব।
ভয় থেকে নয়—
জেনে–বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।
মায়েরা, প্রসব আপনার দায়িত্ব,
আপনাকেই তা বুঝে নিতে হবে।
জ্ঞানের আলোয় আলোকিত মা মানেই সচেতন মা, নিরাপদ মা।
ফারইয়াব হাসান
নিউট্রিশনিস্ট
প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর ও দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল
Other post
You may also like
আমার ব্রেস্ট ফিডিং জার্নি
আমার বাবু হওয়ার পর প্রথম দুই দিন আমার মিল্ক ফ্লো আসেনি। ফ্যামিলি থেকে ফর্মুলা ফিডিং করাবো কিনা জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল। আমি কনফিডেন্টলি বলেছিলাম ‘ফ্লো আসবে, ফর্মুলা দেবো না’।আমার বাবু হওয়ার পর প্রথম দুই দিন আমার মিল্ক ফ্লো আসেনি। ফ্যামিলি থেকে …
কম সময়ে সহজে আমার নরমাল ডেলিভারির গল্প
#বার্থ স্টোরি আলহামদুলিল্লাহ!গত ০৪/০৬/২৬ তারিখ দুপুর ০২:১৫ মিনিটে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার ছেলে ‘আহমাদ’-কে আমার কোলে দিয়েছেন।আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!আল্লাহ তায়ালার কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া যে, তিনি আমাকে নরমাল ডেলিভারির জন্য কবুল করেছেন। রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল টিমের প্রতি অশেষ …
বদ নজর কি সত্য?
আমার বেবি হওয়ার আগেই আমি নিজের সাথে নিজে একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম “আমি আমার বাচ্চাকে কোনোদিনও বদনজর থেকে বাঁচানোর জন্য কালো কাজলের টিপ আর গলায় গিট দেয়া কালো সুতা পড়াবো না। দেখবো কি হয়।” এগুলো ছাড়াও যে বাচ্চা বড় করা যায় …
