Back

অদম্য সাহস ও অর্জিত জ্ঞানের জয়: আমার বার্থ স্টোরি

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই আমার প্রবল ইচ্ছা ছিল একটি ন্যাচারাল বার্থের। সেই ইচ্ছা থেকেই আমি ‘রৌদ্রময়ী’ (Roudromoyee) থেকে প্রিনেটাল কোর্সটি করি। আর আজ আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, সেই কোর্স থেকে পাওয়া জ্ঞানই ছিল আমার পুরো লেবার পিরিয়ডের একমাত্র শক্তি। এই কোর্সের কারণেই আমি লেবারের সময় বাসায় থেকে শান্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লেবার পেইন ম্যানেজ করার সাহস অর্জন করেছি এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শান্ত থাকতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

২১শে জানুয়ারি রাত: মিউকাস প্লাগ যাওয়া শুরু হলো। ঘণ্টাখানেক পর পর আসা ব্যথার ছন্দের সাথে আমি পরিচিত হচ্ছিলাম। ভয় নয়, বরং এক অদ্ভুত প্রশান্তি কাজ করছিল মনে।

২২শে জানুয়ারি: সকাল থেকে ব্যথা ৯-১০ মিনিট গ্যাপে আসা শুরু করল। দুপুরে তা ৩-৪ মিনিটে নেমে আসে। কোর্স থেকে শেখা বিভিন্ন লেবার পজিশন, পেলভিক মুভমেন্ট এবং ব্রিদিং টেকনিক আমি বাসায় থেকেই চর্চা করছিলাম।

আশেপাশের সাপোর্ট পার্সনরা ভয় পাচ্ছিলেন দেরি হচ্ছে কেন, অনেকে দূর থেকে ফোন দিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রেশার দিচ্ছিলেন। কিন্তু কোর্সে শেখা ডায়ালেটেশনের ধাপগুলো জানতাম বলে আমি নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলিনি।
২৩শে জানুয়ারি (ভোর ৬:১০): যখন তীব্র ‘পুশিং আর্জ’ (Pushing urge) আসছিল, তখন হাসপাতালে যাই। ডাক্তাররা চেক করে অবাক হয়ে দেখেন আমি অলরেডি ‘ফুল ডায়ালেটেড’ এবং বাচ্চার মাথা মিড পেলভিসে!

অর্থাৎ, প্রায় পুরো লেবার প্রসেসটাই আমি বাসায় রৌদ্রময়ীর প্রিনেটাল কোর্স থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাসে একা সামলে নিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।

যদিও লেবার রুমে আমাকে জোর করে স্কোয়াটিং পজিশন থেকে উঠিয়ে বেডে শুইয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও পিটোসিন (কৃত্রিম ব্যথানাশক হরমোন) দেওয়া হয়েছিল। সেই সেলাইনের পর আমি ন্যাচারাল পুশ করার অনুভূতি আগের মতো পাচ্ছিলাম না। তবুও নিজের সর্বোচ্চ শক্তিতে মাত্র ৩-৪টি পুশ দেওয়ার পর ভোর ৬:২৫ মিনিটে আমার কোলে আসে ২৫০০ গ্রামের সুস্থ সোনামণি আসে। আলহামদুলিল্লাহ! চিৎ হয়ে পুশ করার কারণে ৩টি সেলাই (টিয়ার ছিল) লেগেছে ঠিকই, কিন্তু আমি বিজয়ী।

কেন প্রিনেটাল কোর্স জরুরি?

অনেকে মনে করেন ডেলিভারি মানেই শুধু হাসপাতালে যাওয়া। কিন্তু না! সঠিক জ্ঞান থাকলে আপনি বুঝবেন কখন আপনার শরীর কী চাচ্ছে। শেষ মুহূর্তের কিছু মেডিকেল হস্তক্ষেপ হয়তো আমার শতভাগ ন্যাচারাল বার্থের স্বপ্নকে একটু বদলে দিয়েছে, কিন্তু রৌদ্রময়ীর সেই শিক্ষা না থাকলে হয়তো আমি শুরুতেই সিজার বা অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কে পড়ে যেতাম।

সব হবু মায়েদের বলবো, গর্ভকালীন সময়ে নিজেকে শিক্ষিত করুন। আপনার শরীর এবং আপনার বাচ্চার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করুন। বিশ্বাস রাখুন—আপনার শরীর জানে কীভাবে জন্ম দিতে হয়!

উম্মে ইসমাঈল
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ১৯ ও ২৫