Back

আমার আব্দুল্লাহর জন্ম

আমার আব্দুল্লাহর জন্ম

শুকরিয়া মহান সেই রবের যিনি আমাকে একটি সুস্থ সুন্দর ফুটফুটে সন্তানের নেয়ামত দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ।

২০২৫ সালে আমার মামাতো বোনের কোল জুড়ে ২য় সন্তান আসে, তাকে দেখার পর নিজের জন্য সন্তান নামক নেয়ামত এর শূন্যতা অনুভব করছিলাম। তারপর শুরু হলো আল্লাহর কাছে খাস করে দোয়া করা।

২০২৫ সালের জুন মাস রেগুলার পিরিয়ডের ১ সপ্তাহ পর আবার ব্লিডিং হলো এরপর সেটা ৩/৪ দিন থাকলো। পরবর্তীতে ঠিক হলে আশা করছিলাম ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই আল্লাহর সাহায্য আসবে। কিন্তু নাহ, আবার ও ১০/১২ দিন পর ব্লিডিং এরকম দেখে ভেতরে ভেতরে একটু অস্থিরতা কাজ করলো কিন্তু হাসব্যান্ডকে বুঝতে দিলাম নাহ। কারণ এর মধ্যে হাসব্যান্ডকে না জানিয়ে কয়েক বার HCG কীট টেস্ট করেছিলাম …তাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার ইচ্ছে ছিলো। পরবর্তীতে আবার ১ সপ্তাহ পর ব্লিডিং হলে হাসব্যান্ড বললো চলো ডাক্তার দেখাবো।

শুক্রবারে রাজশাহী মেডিকেলের গাইনি ডাক্তার ঈশ্বরদীতে আসতেন। খোঁজ নিয়ে হাসব্যান্ড বললেন তিনি বেশ ভালো। ডাক্তার এর কাছে গেলে উনি আলট্রা দেন ও রিপোর্ট দেখে বললেন ডান ওভারি একটু বড়। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম এবং ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করলাম আমি এই অবস্থায় কনসিভ করবো কি না? এটা কি অনেক বড় প্রবলেম? আরও বললাম আমার খুব ইচ্ছে একটা বাবুর ইনশাআল্লাহ।

ডাক্তার অভয় দিলেন, বললেন না বড় প্রবলেম না ইনশাআল্লাহ কনসিভ হবে। ডাক্তার ব্লিডিং বন্ধের ওষুধ দিলেন ও বললেন ৭ দিনের মধ্যে বন্ধ না হলে ১ মাসের আরেকটা ওষুধ দিলেন সেটা খেলে এরপর ১ মাস পর পিরিয়ড হবে তারপর আবার কনসিভের জন্য ট্রাই করা যাবে।

আমার ভেতরটা কেমন যেন অস্থির হতে লাগলো আর প্রচুর দোয়া করতে লাগলাম আর আল্লাহকে বললাম যেন ৭ দিনের মেডিসিনটায় ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যায়, আমি যেন এই মাসেই আবু আব্দুল্লাহকে সুসংবাদ দিতে পারি… শুরু করলাম ইস্তেগফার এর সাথে লেগে থাকা আর প্রচুর দোয়া।

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ কবুল করলেন ৭ দিনের মেডিসিন এ ব্লিডিং বন্ধ হয়ে গেলো ১ মাসের ওষুধ আর লাগলো না আর মাস শেষে কীট এনে দরূদ পড়তে পড়তে টেস্ট করলাম আলহামদুলিল্লাহ পজেটিভ আসলো! এতো খুশি লাগছিলো মনে হলো আবু আব্দুল্লাহকে তখনি অফিস থেকে চলে আসতে বলি কিন্ত মনে হলো সে টেনশন করে রাস্তা দিয়ে আসবে কিছু হয়ে গেলে! তাই চিন্তা করলাম ধীরে সুস্থে সারপ্রাইজটা দেবো ইনশাআল্লাহ।

পরদিন সকাল বেলা আবু আব্দুল্লাহকে কীটটা গিফট এ মুড়িয়ে হাতে দেই। আবু আব্দুল্লাহের খুশি কে দেখে! আমাকে জড়িয়ে খুশিতে কান্না করে দিলেন, শুকরিয়া হিসেবে নামাজে দাড়িয়ে যান আর অনেক কান্না করেন।

আলহামদুলিল্লাহ শুরু হলো আমার প্রেগন্যান্সি জার্নি সাথে আমার প্রতি আবু আব্দুল্লাহর খেদমত বেড়ে গেলো কয়েক গুন মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। আমি প্রিপারেশন হিসেবে প্রেগন্যান্সির ঠিক ৬ মাস আগেই আমানি বার্থ, মা হওয়ার গল্প বই কিনে পড়েছিলাম সাথে রৌদ্রময়ীর প্রিনেটাল ২১তম ব্যাচে কোর্স কমপ্লিট করেছিলাম। সে সুবাদে অনেক কিছুই শেখা ও জানা হয়েছিলো। কোর্সটা এতো এতো হেল্পফুল মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ। আমার মতে প্রতিটি মায়ের উচিত প্রেগন্যান্সির পূর্বে এই কোর্সটা করা।

তো আলহামদুলিল্লাহ পুরো প্রেগন্যান্সি আমি আমার বাসাতে একাই কাটাই, মাঝে মাঝে কিছুদিনের জন্য মা, শাশুড়ি গিয়ে থাকতেন। তা ছাড়াও আম্মু অনেক খাবার রান্না করে আব্বুকে দিয়ে পাঠাতেন। আবু আব্দুল্লাহ তো প্রায় অধিকাংশ দিনই রান্না করে মুখে তুলে খাওয়াতো মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। আমার বড় কোনো কমপ্লিকেশন্স ছিল না.. প্রেগন্যান্সি রিলেটেড স্বাভাবিক যে লক্ষণগুলো হয় সেগুলো আমার ছিলো।

প্রথম ৩মাস বমি, মাথা ঘোরানো, শরীর দুর্বল লাগা, তারপর বার বার পি আসা, অ্যাসিডিটি, কোমর ব্যাথা এগুলোই। তবে আলহামদুলিল্লাহ মুখে রুচি বেড়ে গিয়েছিলো কয়েক গুন… মাশাআল্লাহ সব খেতে পারতাম শুধু পেস্ট্রি কেক বাদে। খাবার যাই দেখতাম শুনতাম সব কিছুর ক্রেভিংস হতো। আলহামদুলিল্লাহ ওজন হাইট অনুযায়ী ঠিক ছিলো আর ঠিক ভাবে বাড়ছিলো। ৫’৩” হাইট নিয়ে পুরো প্রেগন্যান্সিতে (৫৪কেজি প্রেগন্যান্সির আগে ) ওজন ছিলো ৬৫ কেজি আলহামদুলিল্লাহ। মাঝে হিমোগ্লোবিন (৮ পয়েন্ট ) কমে যাওয়ায় ২বার আয়রন স্যালাইন পুশ করতে হয়। এরপর ডেলিভারির আগের মাসে হিমোগ্লোবিন ১২.৬ এ উঠে মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ।

প্রেগন্যান্সিতে আলাদা করে রেগুলার তেমন এক্সসারসাইজ করা হয়নি। ২২ সপ্তাহের পর থেকে বার্থ বল এ বসা, বাউন্স করা, খাওয়ার পর সামান্য হাঁটাহাটি, মাঝে মাঝে আবু আব্দুল্লাহর সাথে হাঁটতে যাওয়া, প্রত্যেক নামাজের পর বাটারফ্লাই করা, আর সারাদিন প্রচুর পানি পান করতাম ৩/৪ লিটার, মাঝে মাঝে সাড়ে ৪লিটার পানি পান করতাম এজন্য অনেক বেশি ওয়াশরুম এ যেতাম লো কোমড ইউজ করতাম তাই আলাদা করে স্কয়াট করিনি… করলেও খুব সামান্য।

সাড়ে ৮ মাস অবধি লো কোমড ইউজ করেছি। আর ৩৪ সপ্তাহের পর থেকে রুমে সারাদিনে ৫/১০/১৫ মিনিট করে মাঝে মাঝে হাঁটতাম।

৩৬ সপ্তাহের পর থেকে রেগুলার খেজুর খেতাম। তবে আমার বেবি মুভমেন্ট, পজিশন স্বাভাবিক ছিল ও প্লাসেন্টা পোস্টটেরিওর ছিলো তাই শুরু থেকে আমাদের ইচ্ছে ছিল NVD র । সে যাইহোক আমার edd ছিলো ২৫ মার্চ। রাজশাহী পপুলার এ এনোমালি স্ক্যান এ ডেট ৩০ মার্চ আসে। ডাক্তার আমাকে লাস্ট এর আগের চেক আপ এ বলেন ডেট যেহেতু ৩০ তারিখ অবধি আছে ২৫ তারিখ ব্যাথা না উঠলেও ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে/ করবো ইনশাআল্লাহ।

পরবর্তীতে ২২ মার্চ আমি মিউকাস দেখতে পাই কিন্তু যেহেতু ব্যাথা বা অন্য কোনো আলামত নেই তাই কাউকে জানাইনি কারণ আমার হাসব্যান্ড, মা অনেক বেশি চিন্তা করতেন বললে ঐদিনই হসপিটালে এডমিট করে দিতো তাই। আমি ২৪ তারিখ লাস্ট ডাক্তার চেক আপ এ গিয়ে মিউকাস এর কথা বললে ডাক্তার পিভি চেক করে বললেন জরায়ু মুখ খুলে গেছে… যেকোনো সময় পানি ভাঙতে পারে বা ব্যাথা উঠতে পারে আমি যেন সে সময়ই হসপিটালে ভর্তি হয়ে যাই। আম্মুকে জানালে সে হাসব্যান্ডকে জানায় সেদিন সন্ধ্যায় এডমিট হয়ে যাই। আমার অবশ্য তখন ইচ্ছে ছিলো নাহ ভর্তি হওয়ার, ইচ্ছে ছিল পেইন নিয়ে হসপিটালে গিয়ে এডমিট হবো।

যাইহোক হসপিটালে গিয়ে যেন আরও স্ট্রং হয়ে গেলাম। না কোনো ব্যাথা না কোনো ডেলিভারির সংকেত বা লক্ষণ কিছুই নাই। হাঁটু অবধি বড় হিজাব পরে পুরো হসপিটালে হাঁটতাম সবার সাথে কথা বলতাম কেউ কেউ দেখে বলতো আমি কি রোগীর লোক কিনা, আবার কেউ বলতো আমার ডেলিভারি হয়ে গেছে নাকি মানে পেটটা শুধু নিচের দিকে নেমে গেছিলো তাই বেবি বাম্পটা বোঝা যেতো নাহ। এর মাঝে খুব অস্থির হয়ে যেতাম কখন হবে কি হবে তারপর ডাক্তার এসে কথা বললে আশা জাগতো যে ইনশাআল্লাহ সব ঠিক সময়ই হবে। এর মাঝে বাবুর মুভমেন্ট, হার্টবিট, পিভি সারাদিনই ঘন্টা খানেক পর পর চেক করতো জাস্ট বিরক্ত হয়ে কখনো কখনো করতে দিতাম নাহ। এর মাঝে কোনো লক্ষণ না দেখে আম্মু ও শশুর বাড়ির ফ্যামিলি থেকে চাপ দিতে লাগলো যেন সি-সেকশন করে ফেলি। আমি আমার ইচ্ছে থেকে কোনো নড়চড় করিনি… হাসব্যান্ডও মাঝে মাঝে বলেছে চলো সিজার করে ফেলি।

পরদিন সকালে হাসব্যান্ডকে নিয়ে হসপিটাল থেকে হাঁটতে বের হই। হাঁটতে হাঁটতে আমার ব্যাথা হচ্ছিলো আর বাড়ছিলো, দুজনে এ খুব খুশি হচ্ছিলাম ব্যাথা দেখে। এক পর্যায় হাপিয়ে রাস্তার এক পাশে আমি বসে পড়ি তারপর হাসব্যান্ড টেনে তুলে বলতে থাকে এভাবে করলে তোমার নরমাল ডেলিভারি হবে? তারপর হাঁটা শেষে হসপিটালে আসলে একটু রেস্ট নিতেই ব্যাথা গায়েব হয়ে যায় মনটা একটু খারাপ হয়ে যায়।

একটু পরে ডাক্তার রাউন্ড এ এসে বলেন যাদের ব্যাথা উঠছে না ইচ্ছে করলে বাসায় চলে যেতে পারেন ব্যাথা উঠলে যেন যাই। শুনেই আবু আব্দুল্লাহকে তোড়জোড় করি চলেন বাসায় চলে যাবো উনি বললেন নাহ থাকো। পরে অনেক জোর করায় উনি আমাকে বাসায় নিয়ে আসলেন। বাসায় আসার পর সব স্বাভাবিক ছিলো আমি সন্ধ্যার আগে গোসল করলাম, খুব সামান্য হাঁটলাম তারপর এশার পর খেয়ে শুয়ে (শোবার পর থেকে খুবই সামান্য সামান্য ব্যাথা অনুভব করলাম ) আবু আব্দুল্লাহর সাথে ডেলিভারি রিলেটেড নানান কথা বলছিলাম ও মজা করছিলাম। রাত ১২ টায় ওয়াশরুম এ গেলে ভালো পরিমান এ ব্লাডি শো যায়… আম্মু ও আবু আব্দুল্লাহকে দেখালে বললেন বাসায় থাকা ঠিক হবে নাহ হসপিটালে যেতে হবে… আমি বললাম তাড়াহুড়ো করিয়েন নাহ একটু দেখি।

তারপর বার্থ বল এ বসে হিপ রোটেশন, বাউন্স করলাম আর সাথে মাথা আঁচড়ে পরিপাটি হয়ে রেডি হলাম। রাত প্রায় আড়াইটা খুব ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো…তাই আবহাওয়া একটু স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করলাম আমি বুঝতে পারছিলাম এটা ফলস পেইন তাই হাসব্যান্ডকে বললাম তাড়াহুড়ো না করতে। ঝড় থামলেও অনবরত বৃষ্টি হচ্ছিলো বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

হসপিটালে পৌঁছে ৪ টা বেজে গেলো… ডিউটিরত নার্স পিভি চেক করে বললো ১ ফিঙ্গার খুলেছে। আমি আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম বললাম আগের চেয়ে একটু উন্নতি নাই? সান্ত্বনা দিতে বললো কিনা জানিনা, বললো আগের চেয়ে একটু উন্নতি হয়েছে। এভাবে সকাল হয়ে গেলো… ব্লাডি শো র সাথে একটু একটু ব্লিডিংও হচ্ছিলো।মনে মনে যতটুকু পেরেছি দরূদ, ইস্তেগফার, দোয়া ইউনুস পড়ছিলাম আর দোয়া করছিলাম।

ব্যাথা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকায় আমি খেতে পারছিলাম নাহ আম্মু জোর করে খেজুর, ডাবের পানি, আঙ্গুর , বেদানা ও জমজম পানি খাওয়াচ্ছিলো। আমার ব্যাথা আল্লাহর রহমতে বেড়েই যাচ্ছিলো তাই পেইন ম্যানেজ করার জন্য ডিপ ব্রিদিং করছিলাম … এসময় হাসব্যান্ড অনেক হেল্প করেছে, ধরে বল এ বসিয়ে দিয়েছিলো কিন্ত ব্যাথার জন্য আমি বেশিক্ষণ বসতে পারিনি। মিডওয়াইফ, নার্সরা আমাকে বার বার হাঁটতে বলে তবে আমি পারছিলাম নাহ (আমার ভুল ছিল আমি হসপিটালে গিয়ে হাঁটলে আমার জন্য সহজ হতো লেবার ও তাড়াতাড়ি প্রগ্রেস করতো কিন্তু ব্যাথা বেড়ে যাওয়ায় হটাৎ হাঁটতে চাইলে আর পারছিলাম নাহ )। আবু আব্দুল্লাহ এর মাঝে আমাকে জোর করে ধরে হাঁটানোর চেষ্টা করে তখন ব্যাথা এমন ভাবে আসে আমি আবু আব্দুল্লাহকে না পেরে ঘুসি (খুব জোরে না অবশ্য)মেরে দেই…. আম্মুও আমার বোনের সামনে সে লজ্জা পেয়ে অভিমান করে বলতে থাকে তুমি একাই থাকো আমি চলে যাবো।

এর মাঝে কন্ট্রাকশন আসছিলো মাঝে ৫ মিনিট গ্যাপে বুঝতে পারলাম ডেলিভারির দিকে আগাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। মাঝে আম্মু ডাবের পানি, জমজম পানি খাওয়াচ্ছিলো ।তারপর মেইন যিনি মিডওয়াইফ তিনি আমার পিভি চেক করে বললো প্রায় ৩ সেমি ওপেন আম্মুকে ডেকে বললো দেখেন বেবি র মাথা দেখা যাচ্ছে…পুশ আসলে যেন পুশ করতে থাকি… এভাবে ঘন্টাখানেক যাওয়ার পর তিনি আবার ও পিভি চেক করলেন অনেকটা প্রগ্রেস দেখে ইচ্ছে করে পানি ভেঙে দেন। তারপর ডেলিভারি রুমে নিয়ে যান সেমি সিটিং অবস্থায় পুশ করতে বলেন। আমি পুশ করছিলাম আর দোয়া পড়ছিলাম কিন্তু মুখে সব যেন জড়িয়ে যাচ্ছিলো ব্যাথায়। পুশ করার সময় মনে হলো পটি হয়ে যাবে তাই ওতো প্রেসার দেইনি তারপর মিডওয়াইফ নার্সরা যখন বললো সর্বোচ্চ পুশ দিতে পেটে যা আছে যেন বের করে দেই পটি আসলে যেন সেখানে পটি করে দেই তখন আমি লজ্জা দ্বিধা ভেঙে সর্বোচ্চ পুশ করতে লাগলাম আর চিন্তা করছিলাম রাসূল (সা ) কেন ৩ বার মায়ের কথা বলেছেন তারপর বাবা (মনে হয়েছে বাবা সারাজীবন করলেও মায়ের ডেলিভারি পেইনের সমান হবে নাহ তাই মায়ের এতো সম্মান ) পুশ করতে করতে ভালো পরিমান পটি হয়ে গেলো …. অনেক হাপিয়ে যাচ্ছিলাম সাথে অনেক গরমও লাগছিলো। বললাম ac টা দিয়ে দিতে তারা ac সাথে স্ট্যান্ড ফ্যান এক সাথে ছেড়ে দিলো মাশাআল্লাহ তাদের ব্যবহার খুবই ভালো ছিলো… এর মাঝে হাসব্যান্ড খেজুর, পানি দোয়া পরে ফুঁ দিয়ে ভেতরে পাঠান সেটা আমাকে নার্স খাওয়াচ্ছিলো আর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো… মাঝে মাঝে কন্ট্রাকশন গ্যাপ এ ঘুমিয়ে যাচ্ছিলাম আর বলছিলাম একটু পরে একটু পরে… আবারো মাথায় হাত বুলিয়ে বলছিলো দেরি করলে কষ্ট বাড়বে তোমার আরেকটু চেষ্টা করো দেখো বেবির মাথা চুল দেখা যাচ্ছে দেখবে হাত দিয়ে তুমি? আমি ব্যাথার জন্য বললাম নাহ।

তারপর কন্ট্রাকশন গ্যাপ ছিলো ২০/৩০ সেকেন্ড এর মতো, ঢেউয়ের মতো একের পর এক চাপ আসছিলো এইদিকে বাবু সিরিয়াসভাবে কর্ড পেঁচানো ছিলো তখন ডাক্তার এসে কর্ড ছাড়াচ্ছিলো আর আমাকে দম ধরে পুশ করতে বলছিলো। আমি চেষ্টা করছিলাম তবে আরও বেশি পুশ করার প্রয়োজন পরে আমি ব্যাথায় পারছিলাম না বলে তারা কয়েকবার ফান্ডাল প্রেসার দিয়ে হেল্প করে। তখন মনে হচ্ছিলো এই বুঝি জান বের হয়ে যাবে আর ভাবছিলাম এই সিচুয়েশনে কিছু করার নেই হয় আমি পারবো নয় মরবো… আর ভাবছিলাম আর বাবু নিবো নাহ আমি।

আলহামদুলিল্লাহ ৫/৬ টা পুশ দিতেই বাবু বের হয়ে যায় সাথে সাথে যেন শরীর রিলাক্স হয়ে গেলো, সব কষ্ট ব্যাথা দূর হয়ে গেলো তারপর ১ মিনিট এর মধ্যে প্লাসেন্টাও আউট হয়ে গেলো… বাবুর কর্ড কেটে স্কিন টু স্কিন কন্টাক্ট করতে দিলেন আমি আমার বাবাটাকে সালাম দিলাম নজর হেফাজতের দোয়া পরে ফুঁ দিলাম আলহামদুলিল্লাহ… 3rd ডিগ্রী টিয়ার হয়, সেলাই লেগেছিলো। নার্সরা সেলাই দিচ্ছিলো আর আমি ডাক্তারের সাথে কথা বলছিলাম নানা বিষয় এ। সেলাই শেষ করেই আমি বেড এ এসে বাবুকে দুধ দেই…. মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ আমার সোনাটা এতো সুন্দর সাক করছিলো মনে হচ্ছিলো না যে ফার্স্ট দুধ খাচ্ছে কারণ অনেক বাবু নাকি প্রথমে সাক করা বুঝে না বা পারে নাহ।

ডাক্তার আবার বাবুকে সব চেক করে বললেন বাবু একদম সুস্থ আছে মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। বাবু কর্ড পেঁচানো থাকায় অনেক বেশি কষ্ট হচ্ছিলো আমার। ডাক্তার, নার্সরা শেষে বলছিলো ছোট মানুষ হিসেবে অনেক ধৈর্য মাশাআল্লাহ।

সব স্বাভাবিক থাকায় পর দিনই বাবুকে নিয়ে বাসায় চলে আসি। আমার সোনাকে দেখতাম আর ভাবতাম আল্লাহ আমাকে এটা কী দিয়েছেন মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ আর ভাবতাম ইনশাআল্লাহ আরও বাবু নিবো।

আলহামদুলিল্লাহ এভাবে আমার আব্দুল্লাহর জন্ম হয়। দিনটি আমার কাছে সারাজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ। সবাই আমার আব্দুল্লাহর জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাকে নেক হায়াত দান করেন, একজন মুমিন বান্দা ও বাবা মায়ের চক্ষু শীতলকারী সন্তান হিসেবে কবুল করেন।

সোহানা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ২১