আমার নরমাল ডেলিভারির গল্প
- Posted by Sumaiya Snigdha
- Date August 3, 2026
- Categories Birth Story

কনসিভ করার আগে থেকেই রৌদ্রময়ী পেইজে নরমাল ডেলিভারির স্টোরিগুলো পড়ে নিয়ত করেছিলাম কনসিভ করলেই এই কোর্সে এনরোল করবো। যেহেতু নরমাল ডেলিভারির নিয়ত ছিলো তাই কনসিভ হতেই আর দেরী না করে তখনই যে ব্যাচ শুরু হয় সেটায় এনরোলড হই।
আল্লাহর অশেষ রহমতে গত ৮ই জানুয়ারী ন্যাচারাল এবং নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে আল্লাহ আমাকে ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তান দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
ব্যাক্তিগতভাবে আমি খুবই নরম প্রকৃতির ভীতু মানুষ। ছোটোবেলা থেকেই ব্যাথা প্রচন্ড ভয় পাই, হোক সেটা অল্প বা বেশি। ব্যাথা সহ্য করার ক্যাপাসিটি আমার খুবই কম।
কনসিভ করার পর থেকে হাজবেন্ড চাইতেন যেনো নরমাল ডেলিভারি হয় কিন্তু পেইনের ভয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।
প্রিনেটাল ২২তম ব্যাচে অনেক আগ্রহ নিয়ে ক্লাস শুরু করি। নরমাল ডেলিভারির ডিটেইলস নিয়ে মনে হয় চতুর্থ ক্লাস হয়েছিল যেটার পর আমি বেশ কনফিডেন্ট ফিল করছিলাম। সবকিছু ডিটেইলে জানার পর আমার কেন জানি মনে হচ্ছিলো আমি পেইন ম্যানেজ করতে পারবো। কনফিডেন্স ফিল করার কারণে মনে মনে বেশ সাহস পাচ্ছিলাম। হাজবেন্ডকে শেয়ার করলাম, উনি উৎসাহ দিলেন। পাশাপাশি আমার আম্মুর তিনটা ডেলিভারিই নরমালে হওয়ায় উনিও আমাকে শুরু থেকে সাহস দিতেন।
এর মধ্যে ডাক্তার এবং ডেলিভারির জন্য হাসপাতাল সিলেকশন নিয়ে আমরা বেশ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম। একদম শুরুতে নামীদামী এক হাসপাতালের একজন ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করি। উনি আমার ইন্টিমেসি ইস্যুর ঘটনা শুনে সি-সেকশনের প্রতি ইন্টারেস্ট দেখান।
তেমন কোনো কম্পিলিকেশন না থাকায় এরপর ফ্যামিলি ফ্রেন্ড একজন গাইনোকোলজিস্ট আন্টির সাথে কনসালন্টেশনে ছিলাম।
ডেলিভারির দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে ডাক্তার ফাইনালাইজেশন নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। এর মধ্যে কোর্স থেকে ফাতেমা ইয়াসমিন ম্যাম এর সম্পর্কে জানলাম। গত অক্টোবরে আমরা উনাকে প্রথম কনসাল্ট করি।
প্রথম বার উনার সাথে কথা বলেই আমাদের দুজনের বেশ ভালো লেগে যায়। বিশেষ করে ম্যাম কোর্সের সাথে ইনভলভড থাকায় উনার সাথে ন্যাচারাল ডেলিভারি নিয়ে আমি কথা বলে বেশ কম্ফোর্টেবল ফিল করি। পাশাপাশি হসপিটালের পরিবেশ, নিয়ম কানুন সবকিছুই আমাদের খুব ভালো লেগে যায়। মোটামুটি ডিসিশন নিয়ে নেই যে ম্যামের আন্ডারে ওখানেই ডেলিভারি করাবো।
শুধু একটাই চিন্তা থেকে যায় যে হসপিটালটা আমাদের বাসা থেকে কিছুটা দূরে। হঠাৎ পেইন উঠলে বা কোনো ইমারজেন্সি সিচুয়েশনে এতোদূর যাওয়াটা চ্যালেঞ্জ হবে কিনা।
LMP অনুযায়ী আমার ডেট ছিল ১৯ জানুয়ারী। এরমধ্যে কোর্সে দেখানো এক্সারসাইজগুলো টুকটাক করতে থাকি। গত ৬ জানুয়ারী লাস্ট চেকাপে যাই। সেদিন ওখানে একটা আল্ট্রাসাউন্ড এবং সিটিজি করা হয়।
সিটিজি রিপোর্টে আসে ফলস কন্ট্রাকশন আসছে যাচ্ছে কিন্তু আমি কোনো পেইন ফিল করছি না। সেদিন পিভি করার কথা থাকলেও আল্ট্রাসাউন্ড এর রিপোর্ট দেখে ম্যাম বললেন – রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে সারভিক্স এখনো ওপেন হয়নি এবং বাচ্চার মাথা উপরে আছে, তাই আজকে আর পিভি না করি। ১৩ তারিখে আসেন, সেদিন পিভি করে সার্ভিক্স ওপেন না হলে পেইন ইনডিউস করবো নাকি সেই ডিসিশন নিবো। সাথে বললেন বেশি করে সময় নিয়ে প্রতিদিন হাঁটতে যেনো বাচ্চার মাথা নিচে নামে।
আমি শুরু থেকেই ন্যাচারালি পেইন উঠুক এটাই দোয়া করে আসছিলাম। সেইজন্য হাঁটাহাটি শুরু থেকেই নিয়মিত করতাম এবং শেষদিকে কোর্সে দেখানো স্কোয়াট, বাটারফ্লাই, মাইলস সার্কিট এগুলো করছিলাম।
ম্যামকে দেখিয়ে আসার পরদিন ৭ তারিখে আমার হাজবেন্ড আমাকে নিয়ে হাঁটতে বের হন। সেদিন দুপুরে আমরা ৫০ মিনিটের মতো একসাথে হাঁটি এবং ১০ মিনিটের মতো কার্ব ওয়াকিং করি।
বাসায় ফিরে দুপুরে খেয়ে ঘরের টুকটাক কিছু কাজ শেষ করে বিকাল ৫টার দিকে যখন রেস্ট নিতে যাই তখন হাল্কা পিরিয়ডের ক্রাম্পের মতো ব্যাথা অনুভব করি। ব্যাথাটা আসছিলো এবং যাচ্ছিলো, সাথে তলপেটে একটা চাপ যেটা পিরিয়ডের সময় ফিল করতাম।
হাজবেন্ড তো শুনেই এক্সাইটেড হয়ে গেলো, বললো পেইন উঠসে নাকি!
বাসায় আর কাউকে তখনও জানাইনি যেহেতু শিওর ছিলাম না। শুধু একটা আনারস খেলাম তখন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হতে থাকলো এবং পেইনের ইন্টেন্সিটি আর ফ্রিকোয়েন্সি বাড়তে থাকলো।
রাত ১০টার দিকে বাসায় সবাইকে জানালাম এবং ফাতেমা ইয়াসমিন ম্যামকে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলো। ম্যাম বললেন একটা এলজিন খেয়ে দেখতে পেইন চলে যায় নাকি, না গেলে এটা লেবার পেইন।
১০.৩০টার দিকে ডিনার করে এলজিন খেলাম। সেদিন কেন যেনো প্রচন্ড ক্ষুধা পেয়েছিলো, অনেকটা ভাত খেয়ে ফেললাম। ১১.৩০ টা বেজে গেলেও যখন পেইন কমছিলো না এবং আরও বাড়ছিলো তখন শিওর হলাম এটা লেবার পেইন। সবাই প্রিপারেশন নেওয়া শুরু করলো। হসপিটাল ব্যাগ আগে থেকেই রেডি করে রাখা ছিলো।
আমি রেডি হলাম, হসপিটালে যোগাযোগ করে জানা হলো তারা কাকে কাকে পেশেন্টের সাথে ভেতরে এলাও করবে। রাত ২টা নাগাদ আমরা রওনা দিলাম। আমার সাথে ছিলো হাজবেন্ড, আম্মু এবং শাশুড়ি মা। ২.৩০ টা বেজে গেলো হসপিটাল ইমারজেন্সিতে পৌঁছাতে। সাথে সাথে উনারা সিটিজি করলেন এবং এডমিশনের সকল প্রসিডিউর শেষ করে আমাকে বার্থ স্যুটে নেওয়া হলো। ৩টার দিকে ডিউটিরত গাইনোকোলজিস্ট পিভি করে দেখলেন ৪ সে.মি ওপেন হয়ে গিয়েছে।
হাসপাতালের বার্থ স্যুটে মা এবং বেবির জন্য সবকিছু একসাথে আছে। রুমটা বেশ বড় এবং পর্দা দিয়ে দুই ভাগে ভাগ করা। ঢুকতেই একপাশে বেবির NICU আছে এবং আরেক পাশে দায়িত্বে থাকা নার্সের বসার ব্যবস্থা। এটার বিশেষত্ব হলো ওখানেই ডেলিভারি হবে এবং ডেলিভারির পর ওখানেই মা ও বেবি থাকবে। পর্দার ওপাশের বেড মায়ের জন্য। ওখানে বার্থ বল এবং পিনাট বলও আছে।
আমি বিছানায় শোয়ার মতো অবস্থায় তখন ছিলাম না। তাই বার্থ বলে বসে যতটুকু পারা যায় এক্সারসাইজ করার চেষ্টা করেছি। সার্বক্ষণিক নার্স ছিলো আমার সাথে।
ডাক্তার আমার জন্য চিকেন স্যুপ অর্ডার দিতে বললেন এবং আমাকে বললেন বেশি করে খেয়ে নিতে কারণ একটু পরেই আমার প্রচুর এনার্জির প্রয়োজন হবে। আমাদের সাথে খেজুর এবং জমজমের পানি ছিলো যেটা আমি একটু করে খাচ্ছিলাম। কিন্তু পেইনের সাথে তখন আমার প্রচন্ড বমি ভাব ছিলো যে কারণে কোনো খাবার মুখে দিতে পারছিলাম না।
যখনই কনট্রাকশন আসছিলো তখনই প্রচন্ড বমি ভাব। পেইনের সাথে এই কষ্ট একসাথে মিলে এতো কষ্ট দিচ্ছিলো আমাকে যে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। নার্সকে বললাম আমি বমি করে দিবো যেকোনো সময়, আমার সামনে কিছু দেন।
কিন্তু আসলে বমি করতে পারছিলাম না। এভাবেই সময় যাওয়ার সাথে সাথে আমার পেইন আরও তীব্র হচ্ছিলো এবং তখন আর বসে থাকার অবস্থায় ছিলাম না। নার্স বেডে শুইয়ে দিলো। ব্যাথায় কুকড়ে যেয়ে কাত হয়ে শুয়ে আল্লাহকে ডাকতে থাকলাম।
প্রথমবার পিভি করার সময় ডাক্তার বলেছিলো নিয়ম অনুযায়ী নেক্সট ৭/৭.৩০টায় আবার পিভি করবে। কিন্তু আমার কন্ট্রাকশন এতো কম গ্যাপে আসছিলো এবং এতো ইনটেন্স হয়ে গিয়েছিল যে আমি কোনো রেস্ট পাচ্ছিলাম না। একটা যাচ্ছে এবং সাথে সাথে আরেকটা আসছে। এই অবস্থা দেখে ডাক্তার ৫.৩০টার পরেই আবার পিভি করতে চাইলো। কিন্তু পেইনের তীব্রতায় আমি কুকড়ে যাচ্ছিলাম। সোজা হয়ে শুয়ে উনাকে চেক করতে দেওয়ার অবস্থায় ছিলাম না। মনে হচ্ছিলো সোজা হলেই আমি মরে যাবো।
ডিউটি ডাক্তার আমাকে অনেক বুঝিয়ে একটা গ্যাপে পিভি করে দেখে ৮ সে.মি ওপেন। এতো দ্রুত লেবার প্রগ্রেস করা দেখে ডিউটিতে থাকা ডাক্তার নার্স সবাই অবাক হয়ে গেলো। বারবার বলছিলো প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে এতো দ্রুত লেবার প্রগ্রেস করতে সাধারণত দেখেননি উনারা।
এরমধ্যেই আমার হাজবেন্ড বারবার আমাকে খেজুর আর যমযমের পানি খেতে অনুরোধ করছিলো। কিন্তু আমি কোনোরকমে পানি ছাড়া আর কিছু খেতে পারছিলাম না।
একটানা পেইন আসছে যাচ্ছে এবং আমি কাত হয়ে কুকড়ে যাচ্ছি। কোনো ভাবেই একটু স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। এভাবে চলতে চলতে ৭টার দিকে অবস্থা আরও খারাপ হলো। ইনটেন্স পেইন টানা চলতে থাকায় ডিউটি ডাক্তার আবার পিভি করতে চাইলেন। আমার ভয়ংকর পেইনের মধ্যে কোনোভাবেই সোজা হতে পারছিলাম না। আবারও কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর উনি চেক করার জন্য চেষ্টা করতেই আমি ব্যাথায় আবার কুকড়ে গেলাম। ঠিকমতো চেক করতে পারেননি, কিন্তু বুঝলেন যে পুরোপুরি ডায়ালেটেড হয়েছে।
তখনই উনি ফাতেমা ইয়াসমিন ম্যামকে কল দিয়ে জানালেন এবং ৭.৩০টার দিকে ফাতেমা ইয়াসমিন ম্যাম আসলেন। ম্যাম আসার একটু আগেই আমার পানি ভেঙে যায় এবং ম্যাম এসে পানির কালার দেখে বললেন বেবি হালকা মিউকোনিয়াম পাস করেছে। তখন উনি চেক করে দেখলেন বেবির মাথা অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে। তখনই আমার পুশিং আর্জ আসা শুরু হলো। হঠাৎ মনে হলো আমার অনেক বাথরুমের প্রেশার আসছে এবং একইসাথে আবার বমিও পাচ্ছে।
আমি উনাদেরকে বললাম আমার প্রচন্ড বাথরুমের প্রেশার, পুশ করলে বাথরুম হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। সাথে সাথেই ডাক্তার নার্স সহ সবাই বললেন – কোনো সমস্যা নাই, আপনি বাথরুম করেন, আমরা ক্লিন করবো। একেকবার পুশিং এর আর্জ আসতেই আমি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পুশ করতে থাকলাম আর অল্প করে বাথরুম হয়ে গেলো। যতবার এমন হয়েছে সাথে সাথে দায়িত্বে থাকা ক্লিনাররা ক্লিন করে দিয়েছে। এভাবে আমি পুশ করতে থাকছি কিন্তু ৮.৩০টা বেজে গেলেও বেবির মাথা তখনও দেখা যাচ্ছে না।
ম্যাম সহ সবাই আমাকে বললেন আরও জোরে পুশ করতে হবে। কিন্তু আমি তখন এতো বেশি ক্লান্ত যে একেকটা কনট্রাকশনের মাঝখানের গ্যাপে আমি ঘুমিয়ে পড়ছি। এদিকে পানি ভাঙার ১ ঘন্টা পরেও এবং এতোক্ষণ ধরে পুশিং এর পরেও বেবির মাথা দেখা না যাওয়ায় সবাই একটু চিন্তায় পড়ে গেলো। একটু পরপর ডপলার টেস্ট করে বেবির হার্টবিট মনিটর করা হচ্ছিলো। মাঝখানে হার্টবিট একটু কমে যাওয়ায় আমার হাজবেন্ড চিন্তায় পড়ে গেলেন, তখন ম্যাম সাহস দিয়ে বললেন এটা নরমাল।
এই অবস্থায় পুশ করতে করতে সকাল ৮.৩০ অথবা ৯টার দিকে ম্যাম বললেন বাবুর মাথা দেখা যাচ্ছে, আর বেশিক্ষণ লাগবে না। আমার হাজবেন্ডকে ডেকে দেখালেন এবং আমাকে বললেন ঠিকমতো পুশ করতে। কনট্রাকশন আসলে আমি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে পুশ করছি কিন্তু মাথা বের হচ্ছেই না। কর্তব্যরত সবাই কিছুটা নার্ভাস হয়ে গেলো। নার্স বারবার ডপলার টেস্ট করছিলো। এদিকে আমার কষ্টের তীব্রতা কাউকে বোঝাবার নয়। একদিকে কনট্রাকশনের পেইন আর অন্যদিকে ভ্যাজাইনার মুখে দীর্ঘক্ষণ বাবুর মাথা আটকে থাকার কষ্ট। আমার এতো কষ্ট দেখে হাজবেন্ড চেষ্টা করছিলো আমার মনোবল বাড়াতে।
এভাবে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে এবং আমি পুশ করেই যাচ্ছি। বাইরে আমার আম্মু, শাশুড়ি মা আল্লাহকে ডাকছেন। যেহেতু পানি ভাঙার ২.৫ ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে তবুও ডেলিভারি হয়নি, সেহেতু এটা সবার জন্য ভয়ের হয়ে যাচ্ছে। ম্যাম আমার হাজবেন্ডকে বলেছিলেন ৩ ঘন্টা পর্যন্ত সেইফ। এরমধ্যে কখন আমার এপিশিওটেমি দিয়ে দিয়েছেন আমি টের পাইনি।
যাইহোক, সকাল ৯.৫০ মিনিটে আমি আবারও সব শক্তি দিয়ে পুশ করলাম এবং ম্যাম ফরসেপ দিয়ে হালকা টাচ করতেই বাবু একবারে বের হয়ে আসলো। এতো কষ্টের পর আল্লাহ আমাকে সুস্থ স্বাভাবিক ছেলে সন্তান দিলেন।
বাবুর গলায় কর্ড পেঁচানো ছিলো এবং ডেলিভারির ১০/১৫ সেকেন্ড পর সে প্রথম কান্না করেছিলো। কর্ডটা পেইন ওঠার পরেই পেচিয়ে গিয়েছিল যে কারণে এতো লম্বা সময় লেগে যায়। এর আগে ৩১ সপ্তাহের গ্রোথ স্ক্যানের সময় কর্ড পেঁচানো এসেছিলো যেটা পরে ৩৭ সপ্তাহের আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা যায় যে খুলে গিয়েছিল।
যাইহোক, বেবি ডেলিভারি হচ্ছে জেনে আগে থেকেই পেডিয়াট্রিশিয়ান সহ সবাই আমার রুমে রেডি ছিলেন। উনারা বেবিকে নিয়ে গেলেন এবং ম্যাম এর মধ্যে আমার প্লাসেন্টা ডেলিভারি করে ফেললেন। আমি তারপর ম্যামকে বললাম এবার আমাকে একটু ঘুমাতে দেন, প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছে। ম্যাম বললেন আমাকে আরও ৪০ মিনিট সময় দিতে হবে, স্টিচ দিবো। এপিশিওটেমি দেওয়ার পরেও শেষের দিকে ফরসেপ ইউজ করার কারণে এক্সটেনশন হয়েছে তাই নিখুঁত ভাবে স্টিচ দিতে হবে।
আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলাম যে আবার ব্যাথা সহ্য করতে হবে নাকি। ম্যাম বললেন লোকাল এনেস্থিসিয়া দিয়েছি, কোনো ব্যাথা লাগবে না। আসলেই ব্যাথা লাগেনি আলহামদুলিল্লাহ এবং ম্যাম সময় নিয়ে দেখে দেখে সুন্দর করে স্টিচ দিয়ে দিলেন।
সব কমপ্লিট হলে আমার বেড ক্লিন করে নতুন বেডশিট দিয়ে দিলো। আমাকে ক্লিন করে নতুন ড্রেস পরিয়ে দিলো। ম্যাম আমার জন্য খাবার অর্ডার দিতে বললেন, কিন্তু আমার খাওয়ার অবস্থা ছিলো না। নার্সরা আমাকে বুঝিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন এবং ওষুধ দিলেন।
পরেরদিন দুপুর ১২টায় ডিসচার্জ নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। হসপিটালে ডেলিভারির এই পুরো অভিজ্ঞতা আমার জন্য অত্যন্ত সুন্দর ছিলো। ওখানকার প্রত্যেকটা স্টাফ অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং যত্নের সাথে আমার এবং আমার বেবির কেয়ার নিয়েছেন। বেবির ডায়াপার চেঞ্জ থেকে শুরু করে খাওয়ার সময় হলে নার্স এসে নিজে ধরে খাইয়ে নিয়ে আবার বেবিকে কটে শুইয়ে দিয়েছেন। সবমিলিয়ে ওখানে ডেলিভারিটা আমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা ব্লেসিং ছিলো আলহামদুলিল্লাহ।
ফারিহা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ২২
Other post
Tag:বার্থ স্টোরি
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
