Back

আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)

মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন।

প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন করে জানতে পারি, আপুর মনে হয় বাবুর পা নাভির দিকে, এবং পেট একদম গোল না।

৩ তারিখ রাতে আপুর ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু ঠিকভাবে establish হচ্ছিল না। কোমরে চাপ দিয়ে পেইন আসছিলো। বাবুর মুভমেন্ট ছিলো, তবে একটু কম।

আপু যখন বাবুর position নিয়ে বলছিলেন, আমার মনে হচ্ছিল বাবুর মাথা হয়তো asynclitism (একটু বাঁকা হয়ে আছে) এবং baby Occiput Posterior পজিশনে। তাই অনেক রাতে আপুকে Miles Circuit করে তারপর ঘুমাতে যেতে বলেছিলাম। আপু সেটা করেছিলেন।

৩ তারিখ ও ৪ তারিখেও অল্প অল্প পেইন চলছিল। ৪ তারিখ রাতে contraction pattern শুনে আপুকে fire hydrants এর মতো কিছু labor position ও exercise দিলাম। কিছুক্ষণ পর আপু আমাকে জানালেন, বাবুর হাত পা একদিকে মনে হচ্ছে এবং পেটটা আগের চেয়ে গোল লাগছে। আমার মনে হলো পজিশন সম্ভবত ভালো হয়েছে। আপুর কোমরের চাপও কমে গিয়ে contraction স্বাভাবিকভাবে আসতে শুরু করল।

পরদিন সকালে আপু জানালেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে চান। তখনও আপু আমার সাথে বেশ ভালোভাবেই কথা বলছিলেন। আমি বলেছিলাম, সম্ভব হলে আরেকটু সময় নিতে পারেন। কিন্তু বাসার সবাই কিছুটা ভয় পাচ্ছিলেন, তাই আপু তখনই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপু অজু করতে বাথরুমে যান। অজু করেছিলেন, কিন্তু এরপর আর নামাযে দাঁড়াতে পারেননি। পেইন অনেক বেশি তীব্র হয়ে যায় এবং তিনি হাসপাতালে চলে যান।

তারপর আপুর সঙ্গে আর সরাসরি কথা হয়নি। সাপোর্ট পারসন আমাকে জানালেন যে আপু ভর্তি হয়েছেন। আমি উনাকে প্রয়োজনীয় checklist এবং counter pressure ইত্যাদী বিষয়গুলো আবার মনে করিয়ে দিলাম।

এর মধ্যে আপু বারবার টয়লেটে গিয়ে বসছিলেন। Dilation Station এ আরাম পাচ্ছিলেন। ফুল ডায়ালেশন হওয়ার পর আপুকে পুশ করতে বলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে আপু অনেক ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন। ফান্ডাল প্রেসার দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ ১০ মিনিট পিটোসিন চলেছিল। এরপর আলহামদুলিল্লাহ, বাবু নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারিতে জন্ম নেয়। এপিজিওটমি লাগেনি। ন্যাচারাল টিয়ার হয়েছিল। প্রায় ৯০ ভাগ বার্থ প্রসেসই ন্যাচারালভাবেই হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।

বাবুর গলায় কর্ডের দুটি লুপ ছিল এবং জন্মের পর স্কিন নীল ছিল।

টিয়ার সেলাইয়ের পরে, খাওয়া-দাওয়া করার আগে, আপু নিজেই কল দিয়ে জানান মা হওয়ার খবর। উনি বলছিলেন, “আমি পেরেছি আপু”। অনেক অনেক খুশি ছিলেন, আলহামদুলিল্লাহ।

এই বার্থে আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রস্তুত থাকা। আপুর contraction, pain pattern এবং পজিশন নিয়ে যতটুকু ইনফরমেশন পাচ্ছিলাম, তার ভিত্তিতে একেক সময় একেকভাবে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

সার্ভিসের শেষ দিনেও আপু অনেক হাসিখুশি ছিলেন। বার্থের পর একজন মা যখন নিজে থেকে বলেন, “আমি পেরেছি”, সেটা শুনেই মনটা খুশিতে ভরে যায়।

মারুফা আপু পেরেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। 🥰

  • ফারিসা তাজরী আহমেদ
    (দৌলা, রৌদ্রময়ী)