Back

Elementor #25047

সর্বপ্রথম শুকরিয়া মহান আল্লাহ’র কাছে। তাঁর অশেষ রহমত ও সন্তুষ্টি ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব নয়। আল্লাহ’র ইচ্ছাতেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সুস্থভাবে আমার বাবু পৃথিবীর আলো দেখেছে। এই নেয়ামতের জন্য আমি আলহামদুলিল্লাহ বলেই শেষ করতে পারি না।

আমার এই সুন্দর অভিজ্ঞতার পেছনে যিনি বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি হলেন সম্মানিত ডা. ফাতিমা ইয়াসমিন ম্যাম। গর্ভকালীন শেষ সময় থেকে ডেলিভারির মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যামের আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব আমাকে মানসিকভাবে অনেক শক্তি দিয়েছে। ওয়াটার ব্রেক হওয়ার পরও কঠিন সময়ে ম্যামের সাহস জোগানো কথা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা আমাকে ভরসা দিয়েছে—

আমার ২০/০২/২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ৮মিনিটের দিকে ওয়াটার ব্রেক হয় তখনই ম্যামকে জানাই ম্যাম আমাকে হসপিটালে যেতে বলেন তখন। আমি ছয়টার দিকে হসপিটালে পৌঁছে যাই যাওয়ার পর টেস্ট করে আলহামদুলিল্লাহ বেবির সব কিছু ঠিক আছে জানানো হয় আমাকে।

কিন্তু তখন আমার এক সেন্টিমিটারও ওপেন হয়নি।পেইন নাই তেমন জাস্ট কন্ট্রাকশন আসে যায় খুবই কম। পানির পরিমাণ ৭.৫ সে.মি. তখন ম্যাম বলেন সব ঠিক থাকলে ১৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করে দেখবেন। আমাকে ডিউটি ডাক্তার বললো আমি পারবো, ইনশাআল্লাহ সব ঠিক হবে।

এরপর আমার ন্যাচারাল পেইন না আসাতে এবং তখন মাত্র ১ সেন্টিমিটার ওপেন হয়েছে! আমার মতামত এর ভিত্তিতে ইন্ডাকশন মেথড এপ্লাই করা হয় সকাল সাড়ে এগারোটার সময়। তারপর বিকাল চারটার সময় ম্যাম বললো ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ওপেন হয়েছে।

ব্যায়াম কন্টিনিউ করতে আর পাশাপাশি লিকুইড খাবার আর ডিপ ব্রেদিং করতে।আমি সে অনুযায়ী চেষ্টা করছিলাম। আমি রোদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স এর চব্বিশ ব্যাচের স্টুডেন্ট। সে সময় ক্লাসের থেকে শেখা প্রতিটি স্টেপ নিজের সঙ্গে এপ্লাই করার চেষ্টা করছিলাম। এই ক্লাস থেকে নতুন অনেক কিছু শেখার ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ।

একপর্যায়ে অনেক ব্যথা অনুভব করাতে। অর্থাৎ পেইন + কন্ট্রাক্টশন টাইমিং ঠিক মনে হলে ইন্ডাকশন অফ করতে বলি। আমার চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে অফ করার পরে, ন্যাচারাল টিয়ার এর মাধ্যমে দ্বিতীয় রমজান শুক্রবার ২০-০২-২০২৬ সন্ধ্যা ৫ টা ৫৮ মিনিটে ঠিক ইফতার এর সময় বাবু আল্লাহের অশেষ রহমতে দুনিয়াতে আসে আলহামদুলিল্লাহ। সবকিছু ঠিক আছে দেখে পরদিন বারোটার মধ্যেই আমাদেরকে রিলিজ দেওয়া হয় আলহামদুলিল্লাহ।

ডা. ফাতিমা ম্যাম তিনি শুধু একজন দক্ষ ডাক্তার নন, একজন মমতাময়ী মানুষও। রোগীর প্রতি তার যত্ন, আন্তরিকতা এবং দায়িত্ববোধ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।

একইভাবে ইউনিকো হাসপাতাল – এর ওইদিনের সকল ডিউটি ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের প্রতিও আমার গভীর কৃতজ্ঞতা। তারা প্রতিটি মুহূর্তে পাশে ছিলেন, সহযোগিতা করেছেন, সাহস দিয়েছেন। তাদের ব্যবহার ছিল অত্যন্ত নম্র ও আন্তরিক।

লেবার রুমে তাদের দ্রুত সাড়া এবং যত্ন আমাকে নিরাপদ অনুভব করিয়েছে। মনে হয়েছে আমি একা নই—একটি পুরো টিম আমার ও আমার বেবির জন্য কাজ করছে। এমনকি না বললেই নয় ঐসময় ডক্তার নার্স কেউ ইফতার প্রযন্ত করতে পারে নাই সকলের দায়িত্ব ও পেশাদারিত্ব সত্যিই প্রশংসনীয়।

অবশেষে যখন আমার সন্তানের প্রথম কান্না শুনলাম, তখন মনে হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি পেয়ে গেছি। সেই মুহূর্তের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সব কষ্ট, সব অপেক্ষা সার্থক হয়ে গেছে।

আমি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করি আল্লাহ যেন ডাঃ ফাতিমা ম্যাম এবং ইউনিকো হাসপাতাল – এর সকল স্টাফদের উত্তম প্রতিদান দেন। তাদের সুস্থ রাখেন এবং আরও অসংখ্য মায়ের জীবনে এমন আনন্দের মুহূর্ত উপহার দেওয়ার তৌফিক দান করেন।

এই অভিজ্ঞতা আমার জীবনের এক চিরস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।আলহামদুলিল্লাহ 🤍✨
আমার ও বেবির জন্য সকলেই দুয়া করবেন।

সুলতানা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ২৪