Back

আসুন মায়েদের সহযোগী হই

দৌলা হিসেবে পরামর্শ দেয়া শুরু না করলে আসলেই আমি বুঝতে পারতাম না প্রতিটা প্রেগ্ন্যান্সিতেই মায়েরা লেবারের আগে ঠিক প্রথম প্রেগ্নেন্সির মতই স্ট্রেস এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্থ থাকেন৷
 
প্রথম যে আপু আমার কাছে পরামর্শের জন্য আসেন তার ৪র্থ বাচ্চা ডেলিভারির সময় উনার সাথে আমার যোগাযোগ হয়৷ ৩৮ সপ্তাহ থেকেই আপুকে কাউন্সেলিং করে যাচ্ছিলাম এবং এক্সারসাইজ ও রিলেক্সেশনের জন্য এনকারেজ করছিলাম ৷ আপুর আগের ৩টা বাচ্চাই নরমালে হয় আলহামদুলিল্লাহ৷ কিন্তু আপু জানান প্রতিবার ডেলিভারি ডেইট কাছে আসলে উনার স্ট্রেস অনুভব হয়৷ পেইন কেন উঠছেনা এটা নিয়ে স্ট্রেস করেন৷ আর উনার পিভি বার বার চেক করা পছন্দ না৷ উনাকে বললাম কোন স্ট্রেস না নিতে ৷ আর মিউকাস প্লাগ কেন দেখা যাচ্ছেনা এখনো, আপু তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন ৷ আপুকে বললাম ডেলিভারির সময় সবসময় মিউকাস প্লাগ দেখা যাবে এমন না৷ কখনো কখনো নাও দেখা যেতে পারে৷ সব ডেলিভারির আগে পানি ভাঙ্গবে এমনও না৷ আপনি জমজম পানি খান, আনারস আর খেজুর খেতে থাকুন এবং এক্সারসাইজগুলো কন্টিনিউ করতে থাকুন৷ ৩৯ সপ্তাহ পার হওয়ার পরও ব্যথা না আসাতে আপু প্যানিকড হচ্ছিলেন৷ কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ ৪০ সপ্তাহে গিয়ে আপুর নরমালে বাবু হয়েছে৷
 
আমার পরামর্শে থাকা ২য় আপুর সি সেকশনের মাধ্যমে বেবি হয় আলহামদুলিল্লাহ৷ আপু নিজে একজন ডাক্তার এবং নরমালের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন৷ কিন্তু বাচ্চা পেটে হাগু করে দেয়াতে সি সেকশন করতে হয়েছে৷ আপুর প্রথম প্রেগ্নেন্সি এটা৷ এবং প্রচন্ড স্ট্রেসে ছিলেন ৩৬ সপ্তাহ থেকে৷ এমনও হতো হঠাৎ রাত ২/৩টায় আপু মেসেজ করতেন৷ উনার টেনশন ফিল হচ্ছে, ভয় লাগছে এসব বলতেন৷ স্ট্রেসের কারন ছিল আত্মীয় স্বজন৷ নানা জনের নানা কথা৷ ৩৮ সপ্তাহের পর থেকে পেইন উঠছেনা কেন এসব নিয়ে উনি অনেক স্ট্রেসের মধ্যে ছিলেন৷ আশেপাশের মানুষ উনাকে তাদের নিজেদের প্রেগ্নেন্সির অভিজ্ঞতা বলতেন আর কেন তার এমন হচ্ছেনা তা জিজ্ঞেস করতেন৷ রেগুলার এক্সারসাইজ, ব্রিদিং প্র্যাক্টিস ,রিলাক্সেশন করতে বলতাম আর স্ট্রেস ফ্রি থাকতে বলতাম৷ শেষের দিকে উনার প্রেশার বেড়ে ১৬০ হয়ে যায়৷ উনাকে হাসপাতালে এডমিট করা হয়৷ তখন লেবার রুম থেকে উনি আমাকে জানান উনার ভয় আর স্ট্রেসের কথা৷ আমি উনাকে সাহস যোগানোর চেষ্টা করি৷ বলি আল্লাহ আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো যেটা সেটাই রেখেছেন নসিবে৷ তাই টেনশন ফ্রি থাকেন৷ আল্লাহর উপর ভরসা রাখেন৷ পরদিন আপু জানান উনার সি-সেকশনের মাধ্যমে বেবি হয়৷
 
আমাদের প্রতিবেশি, বোন, ভাবী, ননদ, মা, শ্বাশুড়ি, কলিগ ইত্যাদি হিসেবে অনেক বেশি সহমর্মি হতে হবে৷ নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে আলোচনা করে অনেকসময় আমরা অন্যকে স্ট্রেসে ফেলে দেই৷ এই মাইন্ডসেট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে৷ প্রতিটা মায়ের প্রেগ্ন্যান্সির জার্নি আমরা সহজ করতে না পারলেও যেন কঠিন না করে দেই সেই খেয়াল রাখতে হবে ইন শা আল্লাহ৷
 
তাসনিম সুশান আজাদ
দৌলা ইন্টার্ন, রৌদ্রময়ী স্কুল
চাইল্ডবার্থ এডুকেটর ও দৌলা ট্রেইনী, আমানি বার্থ