Back

নরমাল ডেলিভারি ও পেইন ম্যানেজমেন্ট এর গল্প

pain-management
১. গত প্রেগ্নেন্সিতে মূল লক্ষ্য ছিলো, ন্যাচরালি পেইন ইন্ডিউস এর মাধ্যমে, নরমাল ডেলিভারি করার৷ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ সেই প্রচেষ্টা বৃথা যেতে দেন নি। ৩০+ বয়স, দীর্ঘ ইনফার্টিলিটি, জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস ইত্যাদির পরেও ৩৯ সপ্তাহে nvd এর মাধ্যমে বাবু হয়েছিলো।

একটা বাবু হবার পরে ভেবেছিলাম, এবার হয়তো সহজেই আবার কনসিভ করতে পারবো৷ কিন্তু আবারো সেই পুরাতন অনিশ্চয়তায় ফিরে গিয়েছিলাম। কোনভাবেই কনসিভ করতে পারছিলাম না। ভেবেছিলাম আর হয়তো কখনোই সন্তানের মা হতে পারবোনা। বাবুর যখন দুই বছর চারমাস, তখন মহান রবের কুদরতে টের পাই, পুনরায় আমার ভেতর আরো একটি স্বত্ত্বা বেড়ে উঠছে। সুবহানাল্লাহ! আমার রবের কোন নিয়ামত অস্বীকার করবো?

গতবারের মতো এই প্রেগ্নেনেন্সিতেও খুব করে চাচ্ছিলাম নরমাল ডেলিভারি। তবে গতবার nvd র জন্য প্রয়োজনীয় ফিজিকাল একটিভিটি, এক্সারসাইজ এর প্রতি যতটা মনোযোগ দিয়েছিলাম, লেবার পেইন ম্যানেজমেন্টের জন্য সেভাবে প্রস্তুতি নেইনি। ফলস্বরূপ, nvd হলেও, পেইনের সাথে কোপ আপ করতে পারিনি একদমই। খুবই ট্রমাটাইজিং এক্সপেরিয়েন্স হয়েছিলো। তাই এবার পেইন ম্যানেজমেন্ট এর টেকনিক শেখার জন্য অনেকখানি সময় ব্যয় করেছিলাম, যা কিনা আমাকে ১০ সে,.মি অর্থাৎ ফুল ডায়ালেটেড হওয়া পর্যন্ত পেইনের সাথে কোপ আপ করতে অসম্ভব সাহায্য করেছিলো।

সবাই ভাবে, সন্তান জন্মদান পৃথিবীর সবচাইতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এতে এতো শেখার, জানার, কি আছে? সময়মতো একজন মা সব পেরে যাবেন। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, যে জানে এবং যে জানেনা উভয়ে কখনোই সমান নয়। সন্তান শরীরে ধারণ করা, নিজের যত্ন নেয়া, লেবারের জন্য শরীরকে রেডি করা, পেইন ম্যানেজমেন্টের টেকনিক জানা, পোস্টপার্টাম শরীর ও মনের দেখভাল করা ইত্যাদি নিয়ে আগে থেকে জানা থাকলে, পুরো প্রেগন্যান্সির জার্নিটা অনেক প্রশান্তিদায়ক ও তূলনামূলক সহজ হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ।

২.
প্রথম কয়েক মাস পার হবার পর থেকে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটার চেষ্টা করতাম। ৩৫ সপ্তাহের পর থেকে হাঁটা+ বার্থিং বলে এক্সারসাইজ শুরু করি। যত দিন এগিয়ে আসে, শরীরকে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়াম আগের চেয়েও বাড়িয়ে দেই। সেই সাথে খেজুর খাওয়া শুরু করি। যেদিন ৩৯ সপ্তাহ পূর্ণ হলো, বেশ টেনশনে পরে গিয়েছিলাম, যদি ন্যাচরালি পেইন না ওঠে ৪০ সপ্তাহের মাঝে, তাহলে পেইন ইন্ডিউস করবে এবং ইন্ডাকশন ফেইলিওর হয়ে গেলে, সি সেকশনে চলে যাবে।

আমার বড় বাচ্চাটা তখনো আমাকে ফেলে এক মুহুর্ত থাকতে পারেনা, সিজারিয়ানের ধকল নিয়ে দুই বাচ্চাকে সামলানোর কথা চিন্তা করতেও ভয় লাগছিলো। আল্লাহ এর কাছে দুয়া করতে করতে, ন্যাচরালি পেইন ইন্ডিউস করার চেষ্টা করতে লাগলাম। যার মাঝে ছিলো, বেশি বেশি স্কোয়াট, পেলভিক রকিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, বার্থিং বলে হিপ রোটেশন করা ইত্যাদি। ৩৯ সপ্তাহ এক দিনের দিন ব্লাডি মিউকাস দেখতে পাই, যা লেবার শুরুর তিন টি প্রধান লক্ষণের একটি। সাধারণত ব্লাডি মিউকাস যাবার দু দিনের মাঝে পেইন শুরু হয়। সেদিন মাঝরাতে প্রচণ্ড ব্যাথায় ঘুম ভেংগে গেলো। ফজর পর্যন্ত অনিয়মিতভাবে ব্যাথা আসা যাওয়া করতে লাগলো। আগেই বলেছিলাম, এবার পেইন ম্যানেজমেন্ট কিভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে ফোকাস ছিলো বেশি। প্রতি কন্ট্রাকশনের সময় বার্থিং বলের ওপর মাথা রেখে, আগে থেকে শিখে রাখা রিলাক্সেশন পদ্ধতি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। 

হাসপাতালে যাবার জন্য রেডি হচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ করে পেইন একেবারে গায়েব হয়ে গেলো! এবং সারাদিন আর কোন ব্যাথা হলোনা। আমি ভালো দুশ্চিন্তায় পরে গেলাম, ঘটনা কি…

৩. ৩৯ সপ্তাহ দুদিনঃ
সকাল দশটা থেকে হাল্কা হাল্কা পেইন শুরু হলো। তীব্রতা তেমন ছিলোনা, ঘরের সব কাজ করতে পারছিলাম। তীব্রতা না থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাথা আসছিলো৷ দুপুর দুটোর দিকে দশ মিনিট পর পর ঢেউ এর মতো ব্যাথা এসে, প্রায় ৪০/৪৫ সেকন্ড থাকছিলো।
তখন বাবুর আব্বুকে অফিসে ফোন দিয়ে জানালাম, দ্রুত বাসায় আসতে, যেকোন সময় হাসপাতালে যেতে হতে পারে। বড় বাবুটাকে ফেলে লম্বা সময় হাসপাতালে থাকতে চাচ্ছিলাম না। অনেক বেশি দুয়া করছিলাম, যেনো হাসপাতালে যাবার পর, খুব স্বল্পতম সময়ে বাবু হয়ে যায়। আল্লাহ অবশ্যই দুয়া কবুল কারী।

দুপুরের পর থেকে ৭ মিনিট পর পর কন্ট্রাকশন হচ্ছিলো। প্রতিবার ব্যাথা অনুভব করলেই, আমার কামরায় চলে যাচ্ছিলাম, আর বলের ওপর রিলাক্স করছিলাম, ব্যাথার তীব্রতা বেড়ে যাবার পর থেকে বুক শেল্ফ বা শক্ত কোন ফার্নিচারের ওপর ঝুঁকে, সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দেবার মতো প্রেশার দিচ্ছিলাম। জানালার গ্রিল ধরে আমার দিকে নাড়া দিচ্ছিলাম, আর ক্রমাগত খেজুর ও পানি খাচ্ছিলাম।
অবশ্যই আমার নাড়া দেবার ফলে, ভারি ফার্নিচার বা শক্ত জানালার গ্রিল একটুও নড়েনি। কিন্তু ফোর্স টা অন্য কিছুতে ট্রান্সফার করে, ব্যাথার কষ্ট টা কমে যাচ্ছিলো!

আলহামদুলিল্লাহ এই মেথডে আমার ব্যাথার সাথে কোপ আপ করা অনেক সহজ হয়েছিলো। সুরা মারইয়ামে উল্লেখিত আছে, প্রসব বেদনার সময়ে মারইয়াম আ. কে বলা হয়েছিলো, খেজুর গাছের কান্ডকে নিজের দিকে নাড়তে, খেজুর ও পানি খেতে এবং চোখ জুড়াতে ( অর্থাৎ রিলাক্সড থাকতে)। আমি প্রতি কন্ট্রাকশনের সময়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কোনভাবেই প্যানিকড না হতে আর যতক্ষণ সম্ভব রিলাক্সড থাকতে ও বড় বড় নিশ্বাস নিতে। এছাড়া লেবার রুমে যাবার আগ পর্যন্ত, ব্যাথার সময় কোমরে মাসাজ নিচ্ছিলাম, পেইনের সাথে কোপ আপ করতে এটিও আমাকে অনেক সাহায্য করেছে আলহামদুলিল্লাহ।

৪.
আমার হাজব্যান্ডকে অসময়ে বাসায় আসতে দেখে আম্মু খুব অবাক হয়েছিলো, যখন শুনলো আমার পেইন উঠেছে, তার অবাক হবার ভাব আরো বেড়ে গিয়েছিলো, কারন এক সাথে থেকেও বাসার কেউ টের পায়নি যে, I was already in labor! এসবের ভেতরেও স্বাভাবিকভাবে বাবুকে খাইয়েছি৷ সুন্দর করে গোসল করে ফ্রেশ হয়েছি। সব কিছুই করেছি।

প্রতি পাঁচ মিনিট পর পর, যখন কন্ট্রাকশন শুরু হলো ও প্রায় ৪৫ সেকন্ড- ১ মিনিট পর্যন্ত থাকলো, সন্দেহ করলাম,৪/৫ সেমি হয়তো ওপেন হয়ে গেছে। আর দেরি না করে আসরের পর হাসপাতালে রওনা হলাম। সেখানে চেক করে জানালো প্রায় ৫/৬ সেমি ওপেন হয়ে গেছে। করোনা টেস্ট ও অন্যান্য ফর্মালিটি পার করতে করতে মাগরিবের আজান দিয়ে দিলো। এই ওয়েটিং পিরিয়ডে, প্রতি কন্ট্রাকশনে, জানালার গ্রিল নিজের দিকে টেনেছি, শরীর স্ট্রেচ করে আরামদায়ক পজিশনে নিয়েছি, ফাঁকে ফাঁকে জুস আর বিস্কিট খেয়েছি, যেনো ডেলিভারির সময় দূর্বল হয়ে না যাই।

ভর্তি হতে দেরি হওয়ায়, মনে মনে খুশি হচ্ছিলাম। আমার ভেতর একটা ভয় কাজ করছিলো, ভর্তি হলেই হয়তো আমাকে শুইয়ে দেবে। নড়াচড়া করতে দেবেনা। আর শোয়া অবস্থায় পেইনের সাথে কোপ আপ করা খুব কঠিন, যা কিনা শরীরকে মুভ করতে পারলে রিলেটিভলি সহজ।

৫.
ব্যাথার সাথে সাথে শরীর এমন ভাবে পুশ করতে চাচ্ছিলো, ডাক্তাররা করোনা টেস্টের রিপোর্ট হাতে পাবার আগেই, ভয়ে আমাকে ভর্তি করে ডাইরেক্ট লেবার রুমে পাঠিয়ে দেন। তখন সন্ধ্যা ৬:৫০। আমি ততক্ষণে ৮ সেমি ডায়ালেটেড এবং অতি স্বল্প সময়ে ১০ সেমি ডায়ালেটেড হয়ে গেলাম। কিন্তু কিছুটা ভোগান্তি কপালে থাকলে, তা এড়ানো যায়না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা যেনো এই কষ্টের বিনিময়ে আমার গুনাহ মাফ করে দেন।

ডাক্তার চেক করে দেখলেন আমি সম্পূর্ণ ডায়ালেটেড হওয়া স্বত্বেও বাবুর মাথা বেশ ওপরে, স্টেশন জিরোরও ওপরে, সম্ভবত মাইনাস ওয়ানে। মাথা না নামলে ডেলিভারি সম্ভব না। এবার আমি কোন বিখ্যাত ডাক্তারের আন্ডারে ছিলাম না। নিজেই চেষ্টা করেছি, প্রয়োজনীয় প্রি নেটাল নলেজ অর্জন করতে, যেনো কোন সমস্যায় ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন/ প্রয়োজন নেই, সেটা বুঝতে পারি।
তাই এমন একজন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম, যিনি বাসার কাছে বসেন, মন দিয়ে আমার কথা শুনবেন, যার কাছে লাইন দিয়ে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হবেনা, লম্বা সময় ওয়েটিং রুমে বসতে হবেনা।

উনি বসতেন, আমার হাজব্যান্ড এর অফিসের ফ্যামিলি ক্লিনিকে। পুরো প্রেগন্যান্সির সময়ে এটা জেনেই উনাকে দেখিয়েছিলাম যে, আমার লেবারের সময় তাকে পাবো না। কারন এই ক্লিনিকে ডেলিভারির ব্যাবস্থা নেই, শুধুমাত্র রেগুলার চেকাপ করানো যায়। ইচ্ছা ছিলো, পেইন উঠলে সি এম এইচের ইমার্জেন্সিতে ভর্তি হবো, তখন যিনি ডিউটিতে থাকবেন তার হাতেই ডেলিভারি হবে। কারন যিনিই ডিউটিতে থাকবেন, ভালো কেউই থাকবেন এই আশা ছিলো। আর ডেলিভারির সময় নিয়ে এবার বেশ কনফিডেন্স কাজ করছিলো, মনে হচ্ছিলো,আল্লাহ যদি সহজ করে দেন, এই সময়ে মূল কাজ তো আসলে মা কেই করতে হয়। ইনশা আল্লাহ পারবো৷

৬. ফিরে আসি ভোগান্তির গল্পে…..
পুরো ডায়ালেটেড হবার পরেও যখন বাবুর মাথা নিচে নামছিলো না, ডক্টর আমাকে বললেন, স্কোয়াট ও হিপ রোটেশন করতে, আমি এগুলো করতে জানি দেখে ও ব্যাথার সাথে ধৈর্যের সাথে মানিয়ে নেয়া দেখে, উনি যতখানি অবাক হলেন, আমিও ঠিক ততখানিই অবাক হলাম, যখন দেখলাম লেবার রুমে আমাকে এক্সারসাইজ করতে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ। অথচ কত ভুল ধারণা নিয়েই না ছিলাম ডাক্তারদের নিয়ে।

উনি আরো বললেন, পুশ করার প্রেশার ফিল না করা পর্যন্ত বেডে শোয়াবেন না। তারপর শুরু হলো কন্ট্রাকশনের ফাঁকে ফাঁকে স্কোয়াট ও হিপ রোটেশন। প্রায় আধা ঘণ্টা হয়তো এভাবে গেছে, আমার কাছে মনে হচ্ছিলো অনন্ত কাল। তাও বাচ্চার মাথা পুরোপুরি নামলো না। ডাক্তার সন্দেহ করতে লাগলেন, নাড়ি প্যাঁচানো আছে হয়তো। অনেক অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে পিটন ইঞ্জেক্ট করলেন ৷ ব্যাস, আমার সকল ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলো। কেনো যেনো ন্যাচরাল লেবার পেইনের চেয়ে পিটন দিয়ে কৃত্রিম ভাবে যে পেইন ওঠানো হয়, কন্ট্রাকশন বাড়ানো হয়, তার তীব্রতা আর যন্ত্রণা অনেক বেশি অনুভূত হয়। এবার বেডে শোয়ানো হলো আমাকে। ব্যাথার প্রচণ্ডতায় স্বাভাবিক ভাবে চিন্তা করতে পারছিলাম না, কোন দুয়া মুখে আসছিলো না। শুধু একটা জিনিস নিজেকে মনে করানোর চেষ্টা করছিলাম, এই ব্যাথার ‘শেষ’ আছে। এক সময় না এক সময় শেষ হয়ে যাবে এই কষ্ট।

পিটন দেবার পরেও বেশ কিছুক্ষণ লাগে বাবুর মাথা নিচে নামতে, ততক্ষণে ব্যাথার ধাক্কায় বেহুশ প্রায় অবস্থা….
শেষ মুহুর্তগুলো একদম অপার্থিব ছিলো, পৃথিবীতে প্রতিটা নতুন প্রাণ আসার সময়কেই আমার কাছে অলৌকিক মনে হয়…
ডাক্তার বলে উঠলেন, বাবুর মাথা দেখা যাচ্ছে, পুশ পুশ.. আমাকে ঘিরে থাকা পুরো লেবার টিম জোরে জোরে দুয়া পড়ছিলো, কেউ কেউ দুয়া ইউনুস পড়ছে, কেউ আল্লাহু আকবর বলছে…

এর মাঝে কোন এক সময় এপিসিওটেমি করা হলো, তার একটু পর ফাইনাল পুশে বাবু পিছলে বের হয়ে আসলো। আমি ভয়াবহ ক্লান্তিতে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে, ঘোরের মাঝে শুনতে পাচ্ছিলাম, “রাত আট টা পনেরো, ছেলে বাবু হয়েছে, ৩.২ কেজি….
লোকাল এনেস্থিসিয়া দিয়ে স্টিচ দেবার সময়, একজন নার্স আমার ইযান সোনা কে পরিষ্কার করে আমার গালের পাশে এনে দেখিয়ে গেলো, আহা! জগতে এর চেয়ে স্বর্গীয় মুহুর্ত কি আর আছে?
…………..
শেষ কথাঃ আল্লাহ এর কাছে খুব স্বল্পতম সময়ে ডেলিভারি চেয়েছিলাম, যেনো আমার বড় বাবুটাকে ফেলে বেশিক্ষণ থাকতে না হয়। আলহামদুলিল্লাহ দুয়া কবুল হয়েছে, লেবার রুমে ঢোকার পর, ডেলিভারি হয়েছে দেড় ঘণ্টারও কম সময়ে। দুয়ার আসলেই কোন বিকল্প নেই।
আগের দিনে কারো বাচ্চা হবার সংবাদ পেলে সবাই জানতে চাইতো, ছেলে নাকি মেয়ে হয়েছে? আজকাল সবাই জিজ্ঞেস করে নরমালে নাকি সিজারে হলো? এই শহুরে জীবনে সিজার এতটাই সহজলভ্য হয়ে গেছে যে, নরমাল ডেলিভারি শুনলেই মানুষ আশ্চর্য হয়ে যায়। অনেক সময় শহরের মেয়েরা নিজেরা ইচ্ছে করেই সি সেকশন করতে চায়! আবার কিছু চিকিৎসক/ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আছেন, তারাও এতে উৎসাহ প্রদান করেন।

কিন্তু যেসব মায়েরা ইনশা আল্লাহ নরমাল ডেলিভারি করাতে চান, তাদের জন্য কিছু কথা-
বেশি করে দুয়া করতে হবে এবং বিশ্বাস রাখতে হবে, শেষ পর্যন্ত যা কল্যানকর, সেটাই হবে আপনার সাথে।
দুয়ার সাথে প্রস্তুতিও গ্রহন করতে হবে
পজিটিভ ও কমিটেড থাকতে হবে।
 
উম্ম আব্দুল্লাহ