বারাকাহ হওয়ার গল্প
- Posted by MNCC Moderator
- Date June 12, 2026
- Categories Birth Story, Others

“সন্তান প্রসবের বেদনা তাকে এক খেজুর বৃক্ষতলের দিকে তাড়িত করলো।” (সুরাহ মরিয়ম:আয়াত-২৩)
কত মর্যাদাপূর্ণ সেই মুহূর্ত! কত মহিমান্বিত সেই বেদনা!বযা আল্লাহ সুবহানাওয়া তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন।
বারাকাহ্’র অস্তিত্ব যখন জানতে পারলাম, যারপরনাই আনন্দিত ছিলাম। শুরু হলো ওকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা। কিন্তু সাথে ছিলো অনেক ভয়। আমি কি সামলাতে পারবো সবকিছু একা একা?
যেহেতু হোস্টেলে ছিলাম পুরো প্র্যাগনেন্সিটাই। খুবই ভয় কাজ করতো শুরুর দিকে। অসুস্থ হলে কি হবে আমার, কে যত্ন করবে? এখানে তো সবকিছু নিজেকেই করতে হয়। আম্মাকে আর আবু বারাকাহকে খুব মিস করতাম। কিন্তু আমি সবসময় একটা কথা বিশ্বাস করি, আল্লাহ কখনো সাধ্যের অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেন না এবং যার যার পরিস্থিতি অনুযায়ী তার কাজটাকে সহজ করে দেন। হয়েছেও তাই।
পুরো প্র্যাগনেন্সিতে আমার কখনো বমি হয়নি এমনকি বমি বমি ভাবও না। উল্টো সবরকমের অসুস্থতা থেকে মুক্ত ছিলাম পুরো নয়টা মাস। খাবার নিয়েও অনেক টেনশনে ছিলাম। কিন্তু খাবারে অরুচিও তৈরি হয়নি আমার, সবই খেতে পারতাম।আলহামদুলিল্লাহ আলা কুল্লি হাল।
প্রথম আল্ট্রাসাউন্ড: ৬ সপ্তাহের দিকে প্রথম আল্ট্রা করাই। এখনো মনে পরে দিনটার কথা। আল্ট্রা রিপোর্ট পাওয়ার পর হোস্টেলে ডেকে ডেকে দেখাচ্ছিলাম সবাইকে, দেখ দেখ এটা আমার বাচ্চা। ছোট্ট একটা স্যাকের ভেতর ফিংগার লাইক কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। সেটা দেখেই কি যে আনন্দ আমার। আহ! প্রাণের ভিতরে ছোট্ট একটা প্রাণ!!!
টেস্ট করিয়ে জানতে পারলাম, সব ঠিকঠাক থাকলেও আমার হিমোগ্লোবিন লেভেল ৯.১ যা নরমালের থেকে অনেক কম। যদিও পরবর্তীতে একমাসের মধ্যেই ঔষধ ও খাবার দাবারের মাধ্যমে হিমোগ্লোবিন লেভেল ১০.১ এ নিয়ে আসতে পেরেছিলাম এবং শেষের দিকে ১১.৪ ছিলো আলহামদুলিল্লাহ।
এভাবেই চলতে থাকলো নিজের যত্ন নেয়া,পড়ালেখা এবং সবকিছু। শুরু থেকেই এক্টিভ থাকার চেষ্টা করতাম। ৫-১০ মিনিট হলেও হাঁটতাম। হালকা স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ করতাম যেগুলো পেটের উপর চাপ দিবে না। ৫ মাসের দিকে প্রফ পরীক্ষা শুরু হলো। তখন ফিজিক্যাল একটিভিটি কমে গিয়েছিলো, সারাদিন বসে বসে পড়তে হতো, মাঝে মাঝে করিডোরে হাটতাম।এভাবে টানা একমাস পরীক্ষা দিলাম।
জানুয়ারিতে প্রফ শেষ হলে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লাম। কিন্তু তখন অলরেডি সাড়ে ছয় মাস পার হয়ে গেছে। বুঝতে পারছিলাম আর দেরি করলে চলবে না।আমার ছোট্ট সোনামণিকে সুস্থভাবে দুনিয়াতে আনতে গেলে আমাকে আবার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।
ঠিক তখনই রৌদ্রময়ীর নতুন প্রিন্যাটাল ব্যাচ আসলো যা আমি মনে মনে আশা করছিলাম। রৌদ্রময়ীর প্রিন্যাটাল কোর্স আমাকে নতুন করে অনেক কিছু জানতে শিখিয়েছিলো যা আমার প্র্যাগনেন্সি জার্নিকে সহজ করেছে।
অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন প্র্যাগনেন্সি নিয়ে এতো পড়াশোনা করার কি আছে এটা তো প্রত্যেকটা মেয়ের ক্ষেত্রেই ন্যাচারাল ব্যাপার। তাহলে আপনাকে কুরআানের আয়াত শোনাই চলুন, “যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?” (সুরাহ যুমার,আয়াত:৯)
নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি চালিয়ে যেতে থাকলাম। আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করতে থাকলাম যাতে তিনি সবকিছু আমার জন্য সহজ করে দেন। নিয়মিত কেগেল এক্সারসাইজ, pelvic rock, butterfly, crisscross floor sitting, squatting, deep breathing, duck walk, সিঁড়ি দিয়ে উঠানামা এবং হাঁটাহাঁটি করতাম।
৩১ সপ্তাহে আল্ট্রা করে জানতে পারলাম বাচ্চা ব্রীচ পজিশনে। যদিও জানতাম এখনও সময় আছে সঠিক পজিশনে আসার তাও একটু দুশ্চিন্তা কাজ করতে লাগলো।সুরা মরিয়ম নিয়মিত পড়া শুরু করলাম।সুরাহ মরিয়ম পড়তাম আর আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম আল্লাহ যাতে মরিয়ম(আ:) এর মতো আমার প্র্যাগনেন্সি ও ডেলিভারি সহজ এবং সুন্দর করে দেন, সাথে ব্রীচ বেবি টার্নিং এক্সারসাইজও শুরু করলাম এবং ৩৪ সপ্তাহের মধ্যেই আমার বাচ্চা সেফালিক পজিশনে চলে আসে আলহামদুলিল্লাহ এবং
৩৭ সপ্তাহের পর বাবুর হেড এনগেজড হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ।
ম্যাম তখন বলছিলেন এখন যেকোনো মুহুর্তে লেবার পেইন শুরু হবে, এই কটা দিন সাবধানে থেকো যাতে পানি না ভাঙে। আগে ব্যাথা শুরু হবে পরে পানি ভাঙবে এটা সবচেয়ে ভালো।
আরেকটা কাজ আমার ডেলিভারিকে বহুগুণ সহজ করেছিলো এবং যার জন্য আমি নিজেকে এখনও ধন্যবাদ দেই। সেটা হলো, আমি আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম আমি কোথায় ডেলিভারি করাবো। আমি প্রথমে ২/৩ টা নরমাল ডেলিভারি ফ্রেন্ডলি হাসপাতাল সিলেক্ট করি। হাসপাতাল সিলেকশনের ক্ষেত্রে কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য রাখি। প্রথমেই প্রাধান্যে ছিলো নরমাল ডেলিভারি, কিন্তু ইমার্জেন্সি সিচুয়েশনে যাতে সিজারিয়ান সেকশনের ব্যবস্থা থাকে। সাথে পর্দার পরিবেশ অবশ্যই অবশ্যই থাকত হবে।
যে তিনটা হসপিটাল বেছে নিয়েছিলাম তার মধ্যে দুইটাতে ভিজিট করি। আর আরেকটা ছিলো আমার নিজের মেডিকেল ওটা ছিলো অপশনাল, কারণ ওখানে পর্দা মেইনটেইন করা একটু কষ্ট হয়ে যেতো।
তো প্রথমেই আমি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র ভিজিট করি। সেখানে গিয়েই সিনিয়র স্টাফ নার্সের সাথে পরিচিত হই। নার্স আন্টিকে কয়েকটা প্রশ্ন করি, পিটোসিন দেয়া হয় কিনা, এপিশিওটমি দেন কিনা, ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন কিভাবে ম্যানেজ করেন, পর্দার পরিবেশ কেমন ইত্যাদি। আন্টি আমাকে সবকিছু সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেন। সাথে এক্সট্রা টিপস হিসেব নিয়মিত হাটাহাটি করতে বলেন। চেক করে বলেন যে বাচ্চা ভালো আছে নরমাল ডেলভারি হবে।
পরের দিন আরেকটা হাসপাতালে যাই, ওইটা বেসরকারি ক্লিনিক ছিলো যেখানে নার্সদের সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি।রিসিপশনে কথা বলেই চলে আসতে হয়েছিলো। তো, সব মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেই মা ও শিশু স্বাস্থ্য কল্যাণ কেন্দ্রেই ডেলিভারি করাবো। তাছাড়া পরিবেশটাও শান্ত ছিলো ওখানের, রুগীও কম।
৩৮ সপ্তাহে আবার যাই ওখানে। উদ্দেশ্য ছিলো পরিবেশটার সাথে পরিচিত হওয়া।উনারা বরাবরই খুব ভালো ব্যবহার করেছেন।
৩৯ সপ্তাহ চলে আসলো। আমি শুধু দিন গুনতে লাগলাম। এদিকে এপ্রিলের ১০ তারিখ বিকালে আমার মিউকাস প্লাস আউট হলো। তখন ৩৮ সপ্তাহ ৪ দিন চলমান। আমি বুঝতে পারলাম সময় ঘনিয়ে এসেছে। অপেক্ষা করতে থাকলাম কখন ব্যাথা শুরু হবে। কিন্তু ১ দিন, ২দিন চলে গেলো ব্যাথা তো উঠে না। এদিকে আমি আমার একাডেমিক ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছি। ১২ তারিখেও ক্লাসে গেলাম। খুব কষ্ট হতো তাও কোনো উপায় ছিলো না। ক্লাস থেকে এসে নামাজ পড়ে, খেয়েদেয়ে একটু রেস্ট নিলাম। খুবই ক্লান্ত ছিলাম তাই একটা লম্বা ঘুম দিলাম। সন্ধ্যায় সেই একি নিয়মে পড়তে বসলাম। কারণ পরেরদিন আইটেম (মেডিকেলের ছোটো একটা পরীক্ষা) ছিলো।
আইটেমের পড়া পড়তে থাকা অবস্থাতেই পেটে হালকা ব্যাথা অনুভব করলাম। তখন ১০:২০ বাজে। আমি কন্ট্রাকশন এপ ওপেন করে কাউন্ট করা শুরু করলাম। ঠিক ২৫ মিনিট পর আরেকবার হালকা ব্যাথা অনুভব করলাম। তার ৩০ মিনিট পর আরেকবার।তারপর ভাবলাম, নাহ! ফলস পেইন কিনা দেখতে হবে। তখন আমি হালকা হাটাহাটি শুরু করলাম, রিলাক্স থাকার চেষ্টা করলাম।আমার হাসব্যান্ড চা এনে দিলেন, সেটা খেলাম। কিন্তু ব্যাথা তো কমছে না। একটু রেস্ট নিলাম তাও কমছে না। তখন বুঝলাম এটা হয়তো ফলস পেইন না। আর আমি দোয়াও করছিলাম যাতে ফলস পেইন না হয়। আনারস আর খেজুর খেলাম কয়েকটা, এগুলো জরায়ুর মুখ খুলতে সাহায্য করে।বিছানায় গেলাম একটু ঘুমানোর জন্য কিন্তু ব্যাথা আস্তে আস্তে বাড়ছে। তাই ঘুমাতেও পারছি না।
রাত তিনটায় আমার আম্মাকে ডাক দিয়ে বললাম, আম্মা ভাত দাও, ভাত খাবো। কারণ আমি বুঝতে পারছিলাম যে আমার শক্তি দরকার, পরে হয়তো আর কিছু খেতে পারবো না। ৪ টার দিকে আমার প্রিয় গরুর মাংস দিয়ে ভাত খেলাম। কিন্তু খেতে এতো কষ্ট হচ্ছিলো যে এক প্লেট খেতেই আমার ৪০ মিনিট লেগে যায়। খেয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ পরলাম। আল্লাহর কাছে বললাম, ইয়া রব! তুমি সবকিছু সহজ করে দাও।
এদিকে ঝড় শুরু হলো। এখন হাসপাতালে কিভাবে যাবো, গাড়িই কই পাবো। বিদ্যুৎ চলে গেলো। আর ব্যাথার সাথে সাথে আমি অঝোরে ঘামছি। গরম সহ্য করতে পারছি না। গোসল করে নিলাম। পরে বুঝতে পেরেছি তখন গোসল করায় পরবর্তিতে আমি একটু হলেও স্বস্তি পেয়েছি। আল্লাহর রহমতে ফজরের পর ঝড় থামলো। ফজরের নামাজ পরে হাসপাতালে রওনা হলাম।
গিয়েই পেলাম সেই সিনিয়র স্টাফ নার্স আন্টিকে। উনার ডিউটি তখন শেষ অন্যজনের শুরু। কিন্তু আমাকে দেখে উনি বললেন, তোমার ডেলিভারিতে আমি থাকবো,চিন্তা করো না। উনি পিভি চেক করে দেখলেন ৩.৫ সেমি ডাইলেট হয়েছে।বললেন সময় লাগবে। দুপুর হয়ে যাবে। তুমি বেডে যাও, রেস্ট নাও আর হালকা হাটাহাটি করো। তখনও ব্যাথা সহ্য ক্ষমতার মধ্যে ছিলো।
কিন্তু ৮ টার পর থেকে ব্যাথা বাড়তে শুরু করলো। আমি হালকা হাটাহাটি করছি, আবার রেস্ট নিচ্ছি। কন্ট্রাকশন আসলে ডিপ ব্রিদ নিচ্ছি। আরেকজন নার্স এসে দশটার দিকে বাবুর হার্টবিট চেক করে গেলেন। নার্স আন্টি আবার এসে পিভি চেক করলেন তখন মাত্র ৫ সেমি ডাইলেট হলো।মানে ৪ ঘন্টায় মাত্র ১.৫ সেমি। আমার হাঁটার মতো শক্তিও ছিলো না আর। আম্মা বারবার আমাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ব্যাথার জন্য খাওয়া অসম্ভব ছিলো আমার জন্য। কিছু মুখে দিলেও থু করে ফেলে দিচ্ছি। আর প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছিলো তখন।
কন্ট্রাকশন ৫-৭ মিনিট পর পর আসছিলো।প্রিনেটাল ক্লাসের ইন্সট্রাক্টর রাবেয়া আপুর কথা মনে পড়লো, তিনি ক্লাসে বলেছিলেন একটিভ কন্ট্রাকশনের সময়ে রেস্ট নিতে। আমারও এতো ঘুম পাচ্ছিলো যে এই তীব্র ব্যাথার মধ্যেও ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ব্যাথা উঠলে আবার জেগে উঠতাম। এইভাবে ৫-১০ মিনিটের ছোটো ছোটো ন্যাপ হচ্ছিলো। আবার ব্যাথার জন্য ঘুম ভেঙেও যাচ্ছিলো। সাড়ে বারোটার দিকে নার্স আন্টি আবার পিভি চেক করেন।আলহামদুলিল্লাহ ১০ সেমি ডাইলেটেড।সময় ঘনিয়ে এসেছে।
১২ টা ৪০ মিনিটে আমাকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এই স্টেইজটা আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিলো। সারারাত ঘুমহীন, সারাদিন খাওয়া দাওয়াহীন, লেবারের তীব্র ব্যাথায় আমার শরীর অনেক দূর্বল হয়ে পড়েছিলো। তাই পুশ করতে পারছিলাম না।পুশ করলেও হচ্ছিলো না, আবার ব্যাথাও স্থায়ী হচ্ছিলো না, ১০ সেকেন্ডেরও কম সময় স্থায়ী থাকছিলো। সময় যেতেই থাকে কিন্তু বাচ্চা ডেলিভার হচ্ছিলো না। অনেক দূর্বল লাগছিলো পুশ করার মতো শক্তিই পাচ্ছিলাম না, আমাকে বিস্কুট খাওয়ানো হয়, অক্সিজেন দেয়া হয়। আম্মাকে বারবার বলছিলাম আর পারবো না আম্মা, আর পারবো না। প্রায় ১ ঘন্টা পার হয়ে যায়। নার্স আন্টিরা বলে আমরা আর ১ ঘন্টা দেখবো এর পরে আমাদের পক্ষে আর সম্ভব না।কথাটা শুনে ভয় পেয়ে যাই। যেই আমি আমার মাকে বলছিলাম, আম্মা আমি আর পারবো না, সেই আমার মধ্যেই কোথা থেকে যেনো শক্তি চলে আসে।
আমি চাচ্ছিলামই না এতো কষ্ট সহ্য করার পর আবার সিজারে যেতে। জোরে পুশ করি কয়েকবার ।এবং ১ ঘন্টা ২০ মিনিট চেষ্টার পর, ১৩ এপ্রিল ২০২৫,২ টা ২০ মিনিটে আমার বারাকাহ্ সোনা দুনিয়ায় আসে।হওয়ার সাথে সাথেই কান্না করেছিলো এবং সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলো আলহামদুলিল্লাহ। বাবু ডেলিভার হওয়ার পরেই পাশ থেকে নার্স আন্টি বলছিলো সুরাহ ফাতিহা পড়ো, সুরাহ ফাতিহা পড়ো এবং সুরাহ ফাতিহা সম্পূর্ণ শেষ করার আগেই প্লাসেন্টা আউট হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ। পরবর্তী ১ ঘন্টা অবজারভেশনে রাখা হয় এবং মাগরিবের আযান হওয়ার আগে আগেই আমরা বাবুকে নিয়ে বাসায় চলে আসি আলহামদুলিল্লাহ।
সুরাইয়া (মেডিকেল স্টুডেন্ট)
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ২০
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
