উম্মে আয়িশা হওয়ার গল্প
- Posted by MNCC Moderator
- Date November 14, 2024
- Categories Birth Story, Others

জুলাইয়ের কোনো এক স্নিগ্ধ সকালে যখন জানতে পারলাম আমার মধ্যে নতুন এক প্রানের সঞ্চার হয়েছে তখনকার সেই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। কি অদ্ভূত এক অনুভূতি! সুবাহানাল্লাহ! প্রথমবার মা হওয়ার এই অনুভূতি হয়তো সব মায়েদের মনে গেঁথে থাকে সারাজীবন।
এরপর শুরু হলো আমার ১০ মাসের এক জার্নি …
শুরুতেই বলে রাখি আমার ডেল্টা বিটা থেলাসেমিয়া মাইনর, সাথে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি বিয়ের আগে থেকেই। কনসিভের পর আমার হেমাটোলজিস্ট ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করি এবং উনি জানায় যদি হাজবেন্ড থেলাসেমিয়া ক্যারিয়ার বা মাইনর না হন তাহলে বাচ্চার সমস্যা হবে না কোনো । কিন্তু যেহেতু আমি থেলাসেমিয়া ক্যারিয়ার বা মাইনর তাই বাবুরও ক্যারিয়ার হওয়ার চান্স ৫০/৫০। আল্লাহর রহমতে আমার হাজবেন্ডের কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি টেস্টে ।
প্রথম ট্রাইমেস্টারে অতিরিক্ত বমি, গ্যাসের সমস্যা, কিছু খেতে না পারা, এমনকি বমি করতে করতে ইউরিন বের হয়ে যাওয়া সবকিছু মিলিয়ে আমার প্রেগন্যান্সির শুরুর জার্নিটা ছিলো খুবই কষ্টকর । মনে হতো এখনই হয়তো মরে যাবো। আমার বাবার বাসা যেই জেলাতে সেখানে ভালো ডাক্তার থাকলেও টেস্টের কোয়ালিটি একদমই খারাপ। বলতে গেলে অধিকাংশ রিপোর্টই ভুল আসে । তাই কষ্ট হলেও ২ ঘন্টা জার্নি করে বরিশাল গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছি।
ডাক্তারের সাজেস্ট করা হাই পাওয়ার বমি এবং গ্যাসের ঔষধ শুরু করার পর অবস্থার একটু উন্নতি হয় আলহামদুলিল্লাহ। এই সমস্যাগুলো ছাড়া আল্লাহর রহমতে তেমন আর কোনো সমস্যা ছিলো না।
প্রিনেটাল কোর্সটা যখন শুরু করি তখন আমার ১৭ সপ্তাহ রানিং। প্রিনেটাল কোর্সের কথা যাই বলব না কেন কম হয়ে যাবে। এই কোর্সটা ছিলো আল্লাহর তরফ থেকে পাওয়া অন্যতম নিয়ামত আলহামদুলিল্লাহ। আমার জার্নিটা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিলো এই কোর্সের বদৌলতে আলহামদুলিল্লাহ। আমি এই কোর্স করার পর যাকে পাই তাকেই ধরে বলি সে যেনো এই কোর্সটা করে। আমি মনে করি প্রতিটা মেয়েরই এই কোর্সটা করা জরুরি কারণ “যে জানে আর যে জানেনা তারা কখনই এক হতে পারে না”।
প্রিনেটাল কোর্সের প্রতিটা ক্লাস খুব যত্ন সহকারে নোট করেছি এবং সবকিছু মেনে চলার আপ্রান চেষ্টা করেছি। প্রেগন্যান্সির শুরু থেকেই আমি বাবার বাসায় ছিলাম কারণ তখনও আমাকে শশুর বাড়িতে উঠিয়ে নেয়নি। সচারচার বাবার বাড়িতে মায়েরা মেয়েদের কাজ করতে দেয় না , আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। কিন্তু শুয়ে বসে থাকলে তো নরমাল ডেলিভারি সম্ভব হবে না এটা মাথায় গেথে গিয়েছিলো শুরু থেকেই।
তাই ২য় ট্রাইমেস্টার থেকে ব্যায়াম শুরু করি আর যথাসম্ভব একটিভ থাকতাম সবসময়। আমার রুম ২য় তালায় হওয়াতে প্রতিদিন প্রায় ৭/৮ বার উঠানামা করা লাগতো। যেহেতু আমার থেলাসেমিয়া মাইনর তাই প্রতি মাসেই নিয়ম করে ডাক্তারের চেকআপে গিয়েছিলাম। শুধু হিমোগ্লোবিন ছাড়া বাকি সব রিপোর্ট ভালো ছিলো আলহামদুলিল্লাহ। এরপর ডিসেম্বরে আমাকে শশুর বাড়ি উঠিয়ে নেওয়ার আয়োজন করা হলো, তখন আমার ২৪ সপ্তাহ ।
কিউট একটা পেট নিয়ে বউ সাজলাম, এরপর শশুর বাড়ি কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা। ফ্লাইটে গিয়েছিলাম তাই তেমন কোনো সমস্যা হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। আমার শাশুরি সবসময়ই বলতেন আমি যেখানেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব ঐখানেই থাকতে পারব তাদের কোনো জোরাজুরি নেই। যদিও উনারা চাইতেন আমার ডেলিভারি যেনো উনাদের ঐখানে হয় কারণ আমার শাশুরি সিনিয়র নার্স, সেই সাথে উনাদের নিজেদের হাসপাতাল আছে। কিন্তু আমার মন বারবার বাবার বাসার দিকে টানতো আম্মুর জন্য, তাই ১০ দিন পর বাবার বাড়িতে চলে আসি।
আমি যেই ডাক্তারের আন্ডারে ছিলাম উনি সিনিয়র ডাক্তার হলেও আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে উনাকে নরমাল সাপোর্টিভ মনে হয়নি। উনার কাছে আমার ছোটো বোন আর ভাইয়ের বউয়ের সি-সেকশন হয়েছিল, সেই সূত্রে উনি আমাদের পূর্ব পরিচিত ছিলো। এদিকে বরিশালে তেমন নরমাল সাপোর্টিভ ডাক্তার নেই বললেই চলে। এরপর আল্লাহর রহমতে আমার এক ডাক্তার কাজিনের কাছে একজন নরমাল সাপোর্টিভ ডাক্তারের কথা জানতে পারি। এরপর তার আন্ডারে চলে যাই। ৩০ সপ্তাহে আল্ট্রা করে জানতে পারি বাবু ব্রিচ পজিশনে এবং গলায় কর্ড পেচানো । আমার মনটা অসম্ভব খারাপ হয়ে গেলো। ডাক্তার অভয় দিলেন এখনও সময় আছে বাবু ঘুরে যাওয়ার আর একটা কর্ড পেচানো নরমাল ডেলিভারিতে কোনো সমস্যা হয় না।
প্রথম রোযা রাখার পর খুব অসুস্থ হয়ে গেলাম। পরে আমার উস্তাযাহকে আমার সার্বিক পরিস্থিতি জানালে উনি পরামর্শ দিলেন রোযা না রাখার জন্য, পরে কাযা আদায় করে নিতে।
আমার ডিউ ডেট ছিলো ২৬ মার্চ, ২১ তারিখ আমার জেলার এক ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার থেকে আল্ট্রা করি। পানির লেভেল আসলো ৬! বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল পানির লেভেল এত কম কারণ আমি ২-৩ লিটার পানি খেতাম রেগুলার। আম্মু আর হাজবেন্ড উনারাও বিশ্বাস করতে নারাজ যে পানির পরিমান এত কম। আমাদের মনে হচ্ছিলো রিপোর্টে হয়তো ভুল আসছে।
প্রিনেটাল ব্যাচের গ্রুপে ডাক্তার মডারেটর মাইশা আপুর বার্থ স্টোরি পড়েছিলাম আপুর পানির লেভেল ৫ হওয়ার পর থেকে আপু কিভাবে সূরা ফাতিহার কুদরতে পানির লেভেল বেড়ে গিয়েছিলো সুবাহানাল্লাহ! বাসায় আসার পর থেকে আপুর স্টোরিটা মাথায় ঘুরছিলো। আমার দৌলা রাবেয়া আপুকে রিপোর্টের ছবি পাঠানোর পর আপু আমাকে সাহস দিলেন অনেক আর ডা: মাইশা আপুর বার্থ স্টোরিটাও পাঠালেন। আল্ট্রা করে বাসায় আসার পর থেকে সূরা ফাতিহার আমল শুরু করলাম সাথে জমজমের পানি। একফোটা পানিও সূরা ফাতিহা পড়া ছাড়া খাইনি।
আমার ডাক্তারকে হোয়াটসএপে রিপোর্টের ছবি পাঠালাম, ডাক্তার রাতে কল দিয়ে বলল পানির লেভেল অনেক কম তাই ২৩ তারিখ সকালে ভর্তি হয়ে যেতে, ইন্ডাকশন দিবেন। ইন্ডাকশনের কথা শুনে বুকে একটা মোচড় দিলো। ইন্ডাকশন ফেইল হলে সেই সিজার। আমার এতদিনের প্রচেষ্টা ব্যার্থ হয়ে যাবে ভেবে মন খারাপ হচ্ছিলো বারবার। এরপর অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম ২২ তারিখ একদম ভর্তির প্রিপারেশন নিয়ে বরিশাল গিয়ে প্রথমেই আল্ট্রা করে দেখব পানির লেভেল কত। যদি ঠিক থাকে তাহলে ভর্তি না হয়ে বাসায় ব্যাক করব আর যদি কম আসে তাহলে ২৩ তারিখ ভর্তি হয়ে যাবো। দৌলা রাবেয়া আপুর সাথেও পরামর্শ করলাম আপুও একই কথা বললেন।
২২ তারিখ বরিশাল পপুলারে আল্ট্রা করে দেখলাম পানির লেভেল ১২.৫! আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! রাতে বাসায় এসে ডাক্তারকে রিপোর্টের কথা জানানোর পরও উনি ডিউ ডেটের দিন ইন্ডাকশনের জন্যই বললেন আবার। রাবেয়া আপুকে জানানোর পর আপু বললেন রিপোর্ট যেহেতু ভালো, সময়ও আছে ডিউ ডেটের তাই ন্যাচারাল পেইনের জন্য অপেক্ষা করতে। আমার এক কাজিন মিডওয়াইফ উনার সাথে কথা বলার পর উনিও সেইম কথা বললেন।
রাবেয়া আপু মাইলস সার্কিট, বার্থ বল ইন্ডিউসিং এক্সারসাইজ, হাটাহাটি, ইন্টিমেসি প্রাকটিস বেশি বেশি করতে বললেন। আল্লাহর কাছে শুধু ন্যাচারাল পেইনের জন্য দু’আ করে যাচ্ছিলাম। ২৪ তারিখ এশার নামাজের পর থেকে পেট হাল্কা হাল্কা ব্যাথা করছিলো। হাজবেন্ডকে বললাম আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে আজকে লেবার পেইন উঠবে। রাত যত বাড়ে ব্যাথা তত বাড়ছিলো। কন্ট্রাকশন টাইম কাউন্ট করছিলাম।
হাটাহাটি, বার্থ বলে হিপ রোটেশন করেও ব্যাথা যখন কমছিলো না তখন গরম পানি দিয়ে গোসল করলাম। সাময়িক আরাম লাগলেও ব্যাথা যখন কমছিলো না তখন আমি মোটামুটি শিওর হলাম যে এটা লেবার পেইন আলহামদুলিল্লাহ। রাবেয়া আপুকে টেক্সট করে পরিস্থিতি জানালাম। ব্যাথা প্রথম স্টেইজে থাকার কারনে তখনই হাসপাতালে যাওয়ার কথা চিন্তা করিনি আবার রমাদ্বানের সময় সবার সাহরী করারও একটা বিষয় ছিলো। এজন্য ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ, বার্থ বল এক্সারসাইজ, হাটাহাটি আর হাজবেন্ডকে দিয়ে কোমড়, পা ম্যাসাজ করে ব্যাথা ম্যানেজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম।
হাজবেন্ডকে আগেই ধরে বেঁধে প্রিনেটাল কোর্সের নোটগুলো পড়িয়েছিলাম কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে জানার জন্য। সাহরীর টাইমে রাবেয়া আপু রিপ্লাই করলেন, কখন কী করতে হবে সবকিছু আবার রিমাইন্ড করিয়ে দিলেন। ফজরের পর ব্যাথা তীব্র হতে লাগল। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম ব্যাথাতে। সাহরীতে অল্প ভাত খেয়েছিলাম সেটা ব্যাথার দরুন বমি হয়ে গেলো। টয়লেট হলো ২ বার। যেহেতু আমার থ্যালাসেমিয়া মাইনর ছিলো আবার ইমারজেন্সি কোনো পরিস্থিতি হলে সেটার কোনো ব্যাবস্থা আমার জেলাতে ছিলো না তাই কেউ চাচ্ছিলো না ডেলিভারি ঐখানের কোনো হাসপাতালে করাতে। আম্মু গাড়ি কল করল বরিশাল যাওয়ার জন্য।
এদিকে ব্যাথায় আমি এতটাই নাজেহাল যে আমি ২ ঘন্টা কিভাবে জার্নি করব ভেবেই পাচ্ছিলাম না। রাবেয়া আপু আমার অবস্থা শুনে সাথে করে বালতি, তোয়ালে নিয়ে নিতে বললেন যদি পথে গাড়িতেই ডেলিভারী হয়ে যায় তাহলে যেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। শাশুড়ি এমন অবস্থা শুনে বললেন বার হওয়ার আগে যেনো পিভি চেক করে বের হই যদি বেশি ওপেন হয়ে যায় তাহলে জার্নি করা ঠিক হবে না। আম্মু সেদিন কত পরিচিত নার্সকে কল করল আসার জন্য কিন্তু কেউই আসতে পারবে না বলে জানালো।
তীব্র ব্যাথায় এবার আমি বেঁকে বসলাম আমি মনে হয় পারব না জার্নি করতে আমি যাবো না বরিশাল, তোমরা বাসায় ডেলিভারীর ব্যাবস্থা করো। এর মধ্যেই আমার ব্লাডসহ মিউকাস প্লাগ যাওয়া শুরু হলো। আমি ব্যাথায় কান্না করতে করতে বারবার সিজারের জন্য বলছিলাম। উনি মাথায় হাত রেখে বললেন “এই সময়টার জন্য তুমি না এতদিন এত কষ্ট করেছো! আরেকটু সহ্য করো সব ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।”
এরপর বোরখা আর পাঁচ পার্ট নিকাবটা জড়িয়ে রওনা দিলাম আল্লাহর নাম নিয়ে সাথে হাজবেন্ড, আম্মু আর আম্মুর উস্তাযাহ আন্টি। যাওয়ার পথে স্থানীয় মা ও শিশু ক্লিনিকে একজন নার্সকে দিয়ে পিভি চেক করালাম। নার্স পিভি চেক করে বলল ৩ সেমি খুলে গেছে বাচ্চার মাথাও একদম নিচে আর সময় নষ্ট না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যেতে। এই ২ ঘন্টার জার্নি আমার কাছে ২ হাজার ঘন্টার জার্নির সমান মনে হচ্ছিল। একদিকে বাবু সমানে প্রেশার দিয়ে যাচ্ছে বের হওয়ার জন্য আর অন্য দিকে আমি দুই পা দিয়ে চেপে ধরছিলাম যেনো না বের হতে পারে। পুরোটা জার্নি এভাবেই গিয়েছে।
তীব্র ব্যাথার চিল্লানি যেনো গাড়ি চালকের কানে না যায় সেজন্য যখনই কন্ট্রাকশন আসছিলো ঠোঁটে ঠোঁট চেপে রাখছিলাম যেনো আওয়াজ না বের হয়।কন্টিনিউয়াসলি দুরুদ ইস্তেগফার পড়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে এই ভয়ংকর কষ্টকর জার্নির অবসান হলো। আমি বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ডাক্তারের সাথে বারবার যোগোযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হই, ফোন অফ ছিলো উনার। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর হাসপাতাল থেকে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে। ডাক্তার প্রথমে উনি আসছেন বললেও পরে জানান উনি আসতে পারবে না, উনার টিম পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর ৫/১০ মিনিট পর পানি ভাঙা শুরু হলো। আমাকে ওটি রুমে নিয়ে গেলো। নার্সরা খুব সাপোর্টিভ ছিলো। আমি যেভাবে পজিশন নিতে চাচ্ছিলাম ঐভাবেই আমাকে হেল্প করছিলো। একজন নার্স হাত ধরে স্কোয়াট করাচ্ছিল আর বলছিলো প্রেশার আসলে যেনো নিচের দিকে চাপ দেই। এরপর মনে হলো বাবুর মাথা একদম নিচে চলে আসছে। আমি নার্সকে বললাম পিভি চেক করেন আমার মনে হচ্ছে বাবু চলে আসছে। একজন নার্স বেডে শুয়িয়ে পিভি চেক করে বলল দুই হাত দিয়ে দুই পা ধরে এরপর থেকে যতবার প্রেশার দিবে বাবু, আমি যেন নিচে প্রেশার দেই। এরকম করে ৩/৪ বার প্রেশার দেওয়ার পরই টুপ করে আমার আয়িশা পাখি বের হয়ে আসলো আলহামদুলিল্লাহ। পাখিটা আমার চাপে পেটের মধ্যে হাগু করে দিয়েছিলো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে হাগু খেয়ে ফেলেনি।
বাবুকে আমার পেটের উপর একটু রেখে ওরা নিয়ে গেলো বাবুকে ক্লিন করতে। এপোশিওটোমি লেগেছিলো, আর এই সেলাইগুলো দেওয়ার সময়টা ছিলো আমার জীবনে অন্যতম কষ্টের সময়! পুরো দেড় ঘন্টারও বেশি সময় লেগেছে সেলাই দিতে কারন কোনোভাবেই কাটা জায়গা থেকে ব্লাড আসা অফ হচ্ছিল না। জায়গাটা অবশ করে নিলেও কেনো জানি অ্যানাস্থশিয়া আমার বেলায় কাজ করেনি। প্রতিটা সেলাই আমি টের পাচ্ছিলাম আর মনে হচ্ছিল এর থেকে হয়তো মৃত্যুই শ্রেয়। সেলাই শেষে আমাকে কেবিনে যখন দিবে আমি পর্দা করি শুনে আমাকে আপাদমস্তক কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলো শুধু একচোখ খোলা রেখে । হাসপাতালের নার্স আয়া সবাই খুব সাপোর্টিভ ছিলো আমার পর্দার বিষয়ে আলহামদুলিল্লাহ।
দশ মাসের এক লম্বা জার্নি এবং অভিজ্ঞতা শেষে আামার আয়িশা পাখি আমার কোলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মা, হাজবেন্ড, বোন, আমার দৌলা রাবেয়া আপু সবার সাপোর্ট এবং প্রিনেটাল কোর্স আমার ডেলিভারি সময়টা অনেকটা সহজ করে দিয়েছে। আল্লাহ সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন আমীন।
পরিশেষে মাতৃত্ব সুন্দর , ভয়ংকর সুন্দর 
উম্মে আয়িশা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ১৫
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
September 3, 2026
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
September 3, 2026
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
September 3, 2026
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
