Back

প্রেগ্ন্যাসির শেষ দিকে প্রয়োজনে একাধিক ডাক্তারের মতামত নিন

আমার দৌলা সার্ভিসের রিসেন্ট একজন ক্লায়েন্টের ঘটনা বলব আজ। উনি ভিব্যাক চাচ্ছিলেন। একদম নিয়মিত আমাকে ডায়েট চার্ট আর এক্সারসাইজ রুটিন পাঠাতেন, আমি ফিডব্যাক দিতাম। আন্তরিকতা ও চেষ্টা ছিল।

চিটাগাং থাকেন। সেখানের নরমাল ডেলিভারি, ভিব্যাকের জন্য সুপরিচিত একজন ডাক্তারের আন্ডারে ছিলেন। ৩৮ সপ্তাহে ভিসিটে গেলে ডাক্তার উনার আগের সিজারের সেলাইয়ের জায়গায় জোরে চাপ দেন। উনি ব্যাথা পেলে ডাক্তার মতামত দেন যেহেতু সেলাইয়ের জায়গায় ব্যাথা পাচ্ছেন (আগে একবার এভাবে চাপ দিয়েছিলেন তখন ব্যাথা পাননি) তাই দেরি না করে দ্রুত সিজার করিয়ে ফেলতে হবে।

উনি আর উনার হাজব্যান্ড বাসায় ফেরেন, খুবই চিন্তিত ও কনফিউজড। আমাকে জানালে, বাইরে থেকে জোরে চাপ দেয়ায় সেলাইয়ের জায়গায় ব্যাথা পাওয়াটাই দ্রুত সিজার করে ফেলার মতো যথেষ্ট কারণ মনে হচ্ছিল না। আমি বিষয়টা নিয়ে প্রিনেটাল কোর্সের ইন্সট্রাক্টর ডা: ফাতেমা ইয়াসমিন আপুর সাথেও কথা বলে একই রকম মতামত পাই।

আপুকে বলি চিটাগাং এর ভেতর অন্য কোন ডাক্তারের মতামত নেয়ার জন্য। উনাকে ভিব্যাক করান এমন ডাক্তারের খোঁজ পেতে হেল্প করি। উনার হাজব্যান্ড ডাক্তারের কথা মতো দ্রুতই সিজার করাতে ভর্তি করিয়ে ফেলতে চাচ্ছিলেন। আমি বুঝিয়ে বললাম, প্রয়োজন হলে সিজার করাবেন। কিন্তু ডিউ ডেটের প্রায় ১০ দিন আগেই করে ফেলতে হবে কি না এটা বোঝার জন্য আরেকজন ডাক্তারের মতামত নিন। কারণ বাবু মায়ের পেটে যতদিন থাকে তার ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট আরো ভালো হয়, যেটা পেটের বাইরে চলে আসলে আর হয় না।

উনারা নতুন ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নেন। আপু খুবই চিন্তার মাঝে ছিলেন এই সময়ের মাঝে। যাই হোক, ২য় ডাক্তার তেমন কোন জরুরী অবস্থার কথা বলেন না। বাসায় ফিরে ডিউ ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

আপুরা বাসায় ফেরেন ও ডেট পর্যন্ত ন্যাচারালি পেইন আসার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন। ডিউ ডেটের মাঝেও যখন ন্যাচারালি পেইন আসে না তখন উনার হাজব্যান্ড সময় চেয়ে আর ১ দিন অপেক্ষা করেন, এরপর সিজার করানো হয়।

মূল কথা হচ্ছে, আপনি যে ডাক্তার দেখাচ্ছেন, তিনি যতই বিখ্যাত হোন, কিছু বিষয়ে উনার নিজস্ব কিছু প্র‍্যাকটিস থাকতে পারে যা হয়ত সবক্ষেত্রে আপনার জন্য সঠিক না। তাই প্রয়োজনে আরো এক-দুইজন ডাক্তারের মতামত নিতে প্রেগন্যান্সির শেষ সময়েও পিছপা হবেন না।

রাবেয়া রওশীন
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল