Back

হাসপাতালে ন্যাচারাল বার্থ সম্ভব: একজন মায়ের অনুপ্রেরণামূলক গল্প

আমি একজন দৌলা হিসেবে আজ একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প শেয়ার করতে চাই। আমার ক্লায়েন্ট আফরোজা আপুর ডেলিভারির অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে হাসপাতালে ন্যাচারাল বার্থ সম্ভব।
আফরোজা আপু ন্যাচারাল বার্থের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। তার স্বামীও বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এবং দৌলা সার্ভিস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। গর্ভাবস্থায় আপু প্রিনেটাল কোর্স করেছেন, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম এবং অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলতেন। ন্যাচারাল বার্থ নিশ্চিত করার জন্য তিনি আগেভাগে হাসপাতালের একজন নার্সের সাথে এ বিষয়ে কথা বলে রেখেছিলেন।
লেবার পেইন শুরু হলে আপু আমার সাথে যোগাযোগ করেন। ব্যথা তীব্র হওয়ার পর তিনি হাসপাতালে যান। নার্স ওই হাসপাতালে ডেলিভারির সময় আপুর সাথে ছিলেন। আপু উনাকে যেভাবে বলেছেন, সেভাবে ব্যবস্থা করেছিলেন। সরকারি হাসপাতালে সাধারণত নরমাল ডেলিভারিতে ডাক্তার থাকে না। নার্স এবং মিডওয়াইফ রা ডেলিভারি করান। আপুর ডেলিভারি একদম মনের মত ছিল। এমনটি উনি ফিডব্যাক ফর্মে লিখেছেন। তিনি বসে পুশ করেছিলেন। এপিসিওটমি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল,কর্ড দেরিতে কাটা হয়। শিশুকে জন্মের পরপরই তার বুকে দেওয়া হয়েছিল।
এই সময় ফেনীতে ভয়াবহ বন্যা চলছিল, যার ফলে কয়েকদিন আপুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে জানতে পারি, চারদিকে পানি উঠেছে তবে তারা নিরাপদে আছেন।
কয়েকদিন পর নবজাতকের প্রস্রাবের রাস্তায় সামান্য রক্ত দেখা দেয়, যা দেখে আপু বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। আমি তাকে জানাই, এটি স্বাভাবিক যা মায়ের হরমোনের প্রভাবের কারণে হয়। ৩-৪ দিনের মধ্যেই এটি ঠিক হয়ে যায়।
মেয়ে নবজাতকের ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং একটি স্বাভাবিক এবং অস্থায়ী শারীরিক প্রক্রিয়া। এটি সাধারণত জন্মের প্রথম সপ্তাহে দেখা যায় এবং কোনো ক্ষতির কারণ নয়।
গর্ভাবস্থায়, শিশুর শরীরে মায়ের হরমোন (বিশেষ করে এস্ট্রোজেন) প্রবেশ করে। জন্মের পর যখন শিশুর শরীরে মায়ের হরমোনের প্রভাব হঠাৎ কমে যায়, তখন নবজাতকের শরীরে এই হরমোন পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় জরায়ুর লাইনিং (uterine lining) কিছুটা ক্ষয় হতে পারে। এটি একটি সামান্য রক্তপাতের কারণ হতে পারে, যা অনেকটা হালকা পিরিয়ডের মতো।
এটি স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকারক নয়। কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে, যদি রক্তপাত অনেক বেশি হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
আফরোজা আপুর অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে যে, সঠিক প্রস্তুতি, পরিকল্পনা, এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী থাকলে ন্যাচারাল বার্থ সম্ভব। অনেক মা এবং পরিবার ধারণা করেন যে, সব হাসপাতাল, ডাক্তার, এবং নার্স নরমাল ডেলিভারির বিপক্ষে। এই ভুল ধারণার ফলে তারা ন্যাচারাল ডেলিভারির আশায় বাসায় অপেক্ষা করতে থাকেন, যা অনেক ক্ষেত্রেই বিপদ ডেকে আনে। মায়ের প্রসবকালীন জটিলতার কারণে বড় ধরনের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। ডেলিভারির সময় অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি স্পেশাল চাইল্ড হয়ে বড় হতে পারে। আপনি হাসপাতালে যাওয়ার আগে ডাক্তার ও নার্সদের সাথে ন্যাচারাল বার্থ নিয়ে কথা বলুন। আপনার পরিকল্পনা তাদের জানান।
প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে জানুন। সহযোগিতাপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজ করুন। হয়তো কেউ কেউ আপনার কথা শুনতে চান না বা বিরক্ত হতে পারেন। তবে সহযোগিতা করতে আগ্রহী এমন ডাক্তার বা নার্স অবশ্যই পাওয়া যাবে। এছাড়া নিজে প্রস্তুতি নিন, গর্ভাবস্থায় সঠিক ডায়েট ও ব্যায়াম নিশ্চিত করুন।দৌলা বা প্রশিক্ষিত কাউকে সাথে রাখুন। আল্লাহর কাছে দোআ করুন এবং নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। জাযাকাল্লাহ খায়রন।
 
ফারইয়াব হাসান
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল