Back

নরমাল ডেলিভারি নিয়ে পড়াশোনায় স্বামীর সহযোগিতা পেয়েছি

আমার বার্থ স্টোরি পুরোটাই দুয়া কবুলের একটা জার্নি। খুবই প্রশান্তিদায়ক আর স্নিগ্ধ একটা জার্নি ছিলো আমার জন্য। আমার জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া সবচেয়ে সুন্দরতম ৯ মাস আলহামদুলিল্লাহ!মাশা আল্লাহ!

আমার যেই তারিখে পিরিয়ড মিস যায় সেদিন আমার পায়ে একটা লাইপোমা অপারেশন হয়। ডাক্তার বলেছিলো ১ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু ড্রেইন না দেওয়ায় লাইপোসিস হয়ে লিকুইড চর্বি জমে ইনফেকশন হয়ে যায় যা ঠিক হতে প্রায় দেড় মাস লেগে যায়। আমি ২০০ প্লাস এন্টিবায়োটিক খেয়েছি দেড় মাসে। তখনও আমি জানতাম না আমি কনসিভ করেছি।কারণ আমার ছোট থেকেই পিরিয়ড সাইকেল ৩৫-৪৫ দিন।

অতিরিক্ত বমি শুরু হওয়ায় প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো এন্টিবায়োটিকের সাইড ইফেক্ট। পরে আম্মুর প্রেসারে টেস্ট করে দেখি সত্যিই কন্সিভ করেছি আলহামদুলিল্লাহ!! কারন আমার মা, বোন সবারই হাইপাররেমেসিস গ্যাভিড্রাম (প্রেগন্যান্সিতে অতিরিক্ত বমি হওয়া) ছিলো।

শুরু হলো দুশ্চিন্তা। এতো হাইপাওয়ারের এন্টিবায়োটিক, ২বার অপারেশন, পেইন কিলার খাওয়ার পরেও বাচ্চার উপরে কোনো প্রভাব পরবে না তো!! আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখি অলরেডি পেটের মধ্যে বাবুটা ৯ সপ্তাহ হয়ে গেছে। হার্টবিট চলে আসছে। হাত পা গুলো নাড়াচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ!
শুরু হলো আল্লাহর কাছে আরো বেশি করে দুয়া করা।

সে সময়ই এক কাছের বড় আপুর থেকে একটা বই হাদিয়া পাই। যেটা ছিলো আমার প্রেগ্ন্যাসির জন্য একটা টার্নিং পয়েন্ট। আমার প্রেগ্ন্যাসির কথা জেনে সে আমাকে ‘আমানি বার্থ’ বই হাদিয়া দিয়েছিলেন। এই বইটা না পেলে হয়তো আমার প্রেগ্ন্যাসিটাও একঘেয়ে, জ্ঞানহীনই থেকে যেতো। নিজের শরীরের এখতিয়ার নিজের কাছে থাকতো না। কারণ আমি এইটুকু বিশ্বাস করি যে উপকারী জ্ঞানের উপরে আর কিছুই নেই।আর সেটা যদি নিজের শরীর আর অনাগত সন্তানের জন্য হয় সেটা তো আরোই গুরুত্বপূর্ণ।

বইটা পেয়ে শুরু হলো আমার রোমাঞ্চকর প্রেগ্ন্যাসির জার্নি। প্রেগ্ন্যাসির ৪র্থ মাসে ভর্তি হলাম রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্সে। যখন আমার বয়সী সবাই বই পড়ে, কোর্স করে একাডেমিক পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো সেখানে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম মা হওয়ার জন্য।আলহামদুলিল্লাহ !!

আমার ইডিডি ছিলো ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫। ডাক্তার আমাকে ১৫ দিন আগেই পিভি চেক করে বলেছিলেন বাচ্চা অনেক উপরে আছে। এজন্য পেইন উঠুক আর না উঠুক আমাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যেতে হবে। ১৬ জানুয়ারিতেও পেইন না উঠায় আমি খুবই ভয় পেয়ে যাই। কারণ আমি আমার আগে আরোও চারটা ফেইলড নরমাল ডেলিভারি দেখেছি। এছাড়াও আমার ডেলিভারির আগ দিয়ে হোম ডেলিভারি করতে যেয়ে অনেকেই অনেক সমস্যায় পড়েছে সেটা দেখে আরো ঘাবড়ে যাই।এজন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের দিন ৩ ঘন্টা টানা হেটেছি, অনেক অনেক খেজুর খেয়েছি।

১৭ জানুয়ারি সকাল সকাল গোসল করে নতুন জামা কাপড় পরে দুপুরে হাসপাতালের দিকে রওনা দিলাম। শুক্রবার, দুয়া কবুলের দিন ছিলো। আমি সেদিনই প্রথমবারের মতো একটু নার্ভাস ফিল করছিলাম। এর আগের সময়গুলোতে দুয়া করে পুরোপুরি আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিতাম। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিন খুবই প্রেশার ফিল করছিলাম কারণ ইডিডির দিনেও ন্যাচারালি পেইন উঠেনি।

প্রেগন্যান্সির ৩২ সপ্তাহ থেকে ফারইয়াব হাসান আপুর দৌলা সার্ভিস নিয়েছিলাম।আপুর সাপোর্ট আর প্রিনেটাল কোর্স আমার জন্য অনেক অনেক বেশি ইফেক্টিভ ছিলো।রাজশাহী মিশন হাসপাতালে ভর্তি হলাম।আগে থেকেই হাসপাতালের এনভায়রনমেন্ট আর মিডওয়াইফ আন্টিদের সাথে কথা বলে আসায় একটু স্বস্তি পাচ্ছিলাম। এছাড়াও পরিবারের সবার বিশেষ করে আমার আম্মুর আর হাসবেন্ডের সাপোর্ট অনেক বেশি হেল্পফুল ছিলো। আর হাসপাতালটার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সুন্দর পরিবেশের জন্য আমাকে আলাদাভাবে মানসিকভাবে আর পীড়া পেতে হয়নি আলহামদুলিল্লাহ!

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডাটা এন্ট্রি করার জন্য সব ঠিক থাকলেও ওজন মেপে দেখি ওজন হয়েছে ৯৩.৫ কেজি। যেটা প্রেগন্যান্সির আগে ছিলো ৭৪ কেজি।আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো যেহেতু আমার ন্যাচারালি পেইন উঠেনি সেহেতু আমি কি পেইন ইনডিউজ করতে ইচ্ছুক কি না! আমি ন্যাচারালি পেইন উঠার অপেক্ষা করতে চাওয়ায় ডা. আতিয়া সুলতানা ম্যামকে (আমি উনার আন্ডারে থেকেছি পুরো প্রেগন্যান্সি) কল দেন উনারা। ম্যাম জানান উনি রাতেই আসবে এজন্য হাসপাতালেই থেকে যেতে। ম্যাম আসার পর রাতে উনি আবার পিভি চেক করে দেখলেন ১ ফিঙ্গার ডায়ালেটেড হয়ে আছে। আগের দিনের ৩ ঘন্টা হাটাহাটি ডায়ালেটেড হতে হেল্প করেছে। মেমব্রেন সুইপ করে দিলেন এবং একটা মেডিসিন দিয়েছিলেন (যেটা আমি পরে জানতে পারি)। কেবিনে এসে ওজু করে এশার সালাত আদায় করে নিলাম। অনেক বেশি দুয়া করলাম।

ভোর ৩:৩৫ এর দিকে পেইনে ঘুম ভাঙলো।Contraction Counter App থেকে কাউন্ট করে দেখলাম আসল লেবার পেইন শুরু হয়ে গেছে। মিউকাস যাচ্ছে অল্প অল্প। ডিপ ব্রিদিং করতে থাকলাম। আস্তে আস্তে আজান দিলো, আলো ফুটলো।

কী স্নিগ্ধ একটা শীতের সকাল!! তার উপরে এতো এতো ফুল গাছে সাজানো পুরো হাসপাতাল। আমার লেবারের জার্নিটাকে আরো সুন্দর আর পেইন ম্যানেজমেন্টকে হেল্প করেছে এই এনভায়রনমেন্টটা। আমার সাথে আমার আম্মু ছিলো সাপোর্ট পারসন হিসেবে। আম্মু বললো, চল তোকে বাহিরের ক্যান্টিন থেকে চা খাওয়ায় নিয়ে আসি। তোর হাঁটাও হবে আবার গরম গরম চা তোর লেবার প্রোগ্রেসকে হেল্প করবে। হাঁটাহাটি করাতে পেইন আগের থেকে আরো একটু বেড়ে গেল। গরম গরম চা খেলাম। চা খাওয়ার পর পেইন আরেকটু বাড়লো আর মনে হলো হঠাৎ করে কী যেন একটা নিচে নেমে গেলো। আম্মুকে যখনই বললাম আম্মু কী যেন নিচে নেমে গেলো ঠিক তখনি আমার পানি ভেঙে গেলো। আম্মু তাড়াতাড়ি হেঁটে লেবার রুমের দিকে গেলো ইনফর্ম করতে। আমি আস্তে আস্তে হেঁটে গেলাম।

ওখানে যেই মিডওয়াইফ আন্টিটা ছিলো, উনি আমাকে দেখে বললো আপনার তো এখনো ভালো মতো পেইনই উঠেনি।আরেকটু পেইন বাড়লে তারপর আসেন।

রুমে চলে গিয়ে দৌলা আপুর সাথে কথা বলে সব বুঝে নিলাম। ২০ মিনিট পর আবার হুইল চেয়ার নিয়ে আমাকে নিতে আসলো।তখন মোটামুটি ৮:৩০ বাজে। লেবার রুমে নিয়ে যেয়ে পিভি চেক করে দেখে ৩ ফিঙ্গার ডায়ালেটেড। আমাকে হাঁটতে বললো।তখনও পেইন অনেক বেশি হলেও ম্যানেজেবল ছিলো। আমার হাসবেন্ড আর শ্বাশুড়ি গরম দুধ, হালকা খাবার নিয়ে আসলো। কিন্তু এক্টিভ পেইনের এতো সময় পর খাওয়াটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো। কিছুক্ষন পর সিনিয়র মিডওয়াইফ আন্টি আসলেন। উনি পিভি চেক করে দেখলেন ডায়ালেশন ৭ ফিঙ্গার হয়েছে কিন্তু বাচ্চা অনেক উপরে। এজন্য উনি আমার অবশিষ্ট অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বের করে দিলেন। পেইন অনেক বেশি বেড়ে যাওয়ায় নিজে আর ম্যানেজ করতে পারছিলাম না।এজন্য আন্টি লেবার রুমে আম্মুকে ডাকলেন।

আমার আম্মু পুরো লেবারটা বার্থ দৌলার সাপোর্ট দিয়েছেন। কারন উনি নিজেও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স (মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ্ )। এক্টিভ লেবার শুরু হওয়ার পরে খাওয়ার জন্য আমার বারবার বমি হচ্ছিলো। আর পেটে খাবার থাকায় বাবু নিচে নামছিলো না। মিডওয়াইফ আন্টি ৪ টা গ্লিসারিন সাপোজেটরি দিলেন। পেট খালি করে আসলাম টয়লেট থেকে। প্রচন্ড ব্যাথা শুরু হলো। আম্মু পিঠ, মাজা ম্যাসাজ করে দিচ্ছিলো আর হাঁটাচ্ছিলো ধরে ধরে।

আমি পেইন ম্যানেজমেন্ট এর জন্য ডিপ ব্রিদিং করছিলাম আর স্কোয়াট দিচ্ছিলাম। দরুদ শরীফ,ইস্তিগফার পড়ছিলাম মনে মনে, জমজমের পানি খাচ্ছিলাম। ১০ টার দিকে পিভি চেক করে দেখে ফুল ডায়ালেশন হয়ে গেছে কিন্তু এখনো বাচ্চা নিচে নামেনি।হেড এঙ্গেজড হয়নি। অনেক উপরে বাচ্চা।

আমি শুধু আল্লাহর কাছে মনে মনে দুয়া করছিলাম আমাকে যেন লেবার বেড থেকে ওটি বেডে যেতে না হয়। আরো বেশি হাঁটাহাটি করলাম। স্কোয়াট দিতে থাকলাম আম্মুর হাত ধরে ধরে। আমার কষ্ট দেখে আম্মু একটু নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু আম্মু আমার সামনে শক্ত থাকার জন্য আন্টিদের সাথে তাদের করোনা ডিউটির গল্প করছিলো।

আমি সিমস পজিশনে যেয়ে ডিপ ব্রিদিং করছিলাম। এটা খুবই হেল্পফুল ছিলো। ১১টা থেকে একদমই হাটাহাটি করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। লেবার বেডেই টয়লেট হয়ে যাচ্ছিলো। এতো অসহায় লাগছিলো তখন। এই অবস্থায়ও বাচ্চা নিচে না নামায় আমাকে স্যালাইনের সাথে পিটোসিন আর একটা ব্যাথার ইনজেকশন দিলো।

১২:২০ এর দিকে খুবই চাপ ফিল করলাম।অনেকটা পায়খানার চাপের মতো। আন্টিরা বললো লেবার বেডেই করে ফেলো সমস্যা নাই। আমি বুঝতে পারলাম এটাই মনে হয় পুশ করার মোমেন্টটা। আমি ডিপ ব্রিদিং এর মতো করে নিশ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে পুশ করলাম। ৩,৪ মিনিট পুশ করার পর আম্মু চেক করে দেখলো মাথা দেখা যাচ্ছে।আন্টিরা সাথে সাথে এপিশিওটমি দিলো।আমি লেবার বেডে প্রোপারলি পা রাখতে পারছিলাম না। এজন্য পুশ করতে সমস্যা হচ্ছিলো। সুবিধা মতো পুশ করতে না পারায় বাবু বের হওয়ার সময় এপিশিওটমি বাদেও অন্য সাইডে একটু ইঞ্জুরি হলো। আমার বাবুটাও খুব স্ট্রাগল করে বের হয়েছে,অনেক ইফোর্ট দিয়েছে।

লেবার পেইন নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো। বাবুকে আমার পেটের উপরে রাখলো তখন ১২:৪৫ বাজে। কর্ড ক্ল্যাম্পিং করলো সাথে সাথেই কারণ তখনও বাবু কাঁদেনি। ১ মিনিট পর কেঁদে উঠলো। বাবুকে ক্লিন করে জানালো ওজন ৩ কেজি ৮০০ গ্রাম। আমি তো পুরোই অবাক! এতো বড় বাবু আল্লাহ নরমালে দিয়েছে আমাকে আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ!!

আমার মেয়েকে এনে দেখালো আমাকে।তাকে প্রথম দেখলাম। একদম আমার মতো বোঁচা বোঁচা নাক। মাশা আল্লাহ!

সেলাই দেওয়ার সময় অনেক কষ্ট পেয়েছি কারণ এপিশিওটমি ছাড়াও অন্য দিক দিয়ে ছিড়ে যাওয়ায় অনেক বেশি সেলাই পড়েছিলো, আর সময়ও লেগেছিলো অনেক।

আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহর কাছে যেভাবে চেয়েছিলাম আল্লাহ সেভাবেই আমার জন্য সহজ করেছিলো আমার লেবারটা। আমি আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখেছিলাম এবং তিনি আমাকে আমার ধারণা অনুযায়ী ফলাফল দিয়েছেন।

আমরা যারা নরমাল ডেলিভারি চাই তাদের সবার উচিত পরিবারের সবার কাছে খুবই বিনয়ী হয়ে নিজের ইচ্ছার কথা বলা। আর সাথে এই দুয়া করা যেন আল্লাহ আমার মতামতের উপরে তাদের অন্তরকে শিথিল করে দেন। কারণ আমরা এই দ্বিধা থেকেই অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি। যেমন আমি নিজেই হোম ডেলিভারির ডিসিশন নিয়েছিলাম। কারণ আমার আম্মু নিজেই একজন এক্সপেরিয়েন্সড নার্স। তার হাতে ব্রিচ পরিশনের বেবিও ডেলিভারি হয়েছে। কিন্তু হায়ার এডুকেশনের জন্য সে অনেক সময় ধরে এগুলো থেকে দূরে থাকায় সাহস করতে পারছিলেন না।এছাড়াও তিনি আমাকে বুঝিয়েছিলেন এই নাজুক সময়ে মেডিকেশনের প্রয়োজন হলে তিনি কিভাবে ডাক্তারের সহায়তা নিবেন?এছাড়াও প্রথমবার হিসেবে পরিবেশটা অনেক বেশি জরুরি। এতো সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমার আম্মুর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো!

এছাড়াও আমার হাসবেন্ড আমাকে অনেক বেশি সাপোর্ট দিয়েছে। নরমাল ডেলিভারির বিষয়ে সেই আমাকে প্রথম এনকারেজ করেছে। সে আমাকে নরমাল ডেলিভারি সহজ করার জন্য, এই বিষয়ে লেখাপড়ার জন্য যা যা প্রয়োজন ছিলো সেগুলো কোনো কিছুতেই কার্পণ্য করেনি। আল্লাহ উনাকে উত্তম জাজাহ দান করুন আমিন!

ফারিহা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ১৮
ক্লায়েন্ট, রৌদ্রময়ী দৌলা সার্ভিস

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *