Back

কখন পুশ করবেন?

অনেক মা-ই জিজ্ঞেস করেন ‘প্রসবব্যথার সময় আমাকে কখন পুশ করতে হবে?’
উত্তর খুব সহজ, “যখন আপনার শরীর পুশ করা শুরু করবে, তখন আপনিও তার সাথে তাল মেলাবেন। আপনার শরীরকে জাস্ট একটু হেল্প করবেন যেন সে নিজের কাজটা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে করতে পারে”।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এতদিন একটি প্রচলিত ধারণা ছিল যে, সন্তান প্রসবের পুরো প্রক্রিয়াটি কেবল হরমোনের (যেমন- অক্সিটোসিন) নির্দেশে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ক্রিপস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (Scripps Research)-এর একদল বিজ্ঞানীর গবেষণা এই ধারণায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
​নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আর্ডেম পাটাপাউটিয়ান এবং প্রধান গবেষক ইউনক্সিয়াও ঝাং-এর এই গবেষণায় উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর তথ্য। “নারীদের জরায়ুর পেশিগুলো কোনো সাধারণ পেশি নয়; এগুলো অত্যন্ত ‘বুদ্ধিমান’। এদের অনুভূতি বুঝে নেয়ার ও সে অনুযায়ী কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।”
মানে জরায়ু নিজেই বুঝতে পারে:
▪️কখন বেবি নিচে নামছে
▪️কখন চাপ বাড়ছে
▪️কখন পুশ দেওয়ার সময় এসেছে
এই বুঝে নেওয়ার ক্ষমতাটাকেই বিজ্ঞানীরা বলছেন “Uterus Sensor”। এই সেনসিটিভির কারণেই জরায়ু নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন তাকে পুশ করা শুরু করতে হবে বা পুশের মাত্রা কতটা তীব্রতর করতে হবে।
নারীদের জরায়ুর ভেতরে আছে ছোট ছোট “চাপ বোঝার যন্ত্র”। এগুলো থাকে জরায়ুর পেশিতে, জরায়ুমুখে (cervix) ও আশপাশের স্নায়ুতে। যখন বেবির মাথা নিচে নামে, জরায়ুতে টান পড়ে বা ভেতরে চাপ বাড়ে তখন এই সেন্সরগুলো মস্তিষ্ক ও জরায়ুকে সিগনাল পাঠায় যে, “হ্যাঁ, এখন সময় হয়েছে। কন্ট্রাকশন জোরালো করো।”
মায়ের শরীর স্বাভাবিকভাবে জানে কখন পুশ করা শুরু করতে হবে। তাই অপ্রয়োজনে জোর করে পুশ করালে বা শরীরের সংকেত উপেক্ষা করলে প্রসব কঠিন হয়ে যেতে পারে। আর এই কারণেই প্রসবের সময় নিজের শরীরের কথা শোনা, পজিশন বদলানো, ভয় না পাওয়ার উপর আমরা দৌলারা এতো গুরুত্ব দেই।
তাছাড়া এই সেন্সরগুলো শুধু পুশ নয়, ব্যথার তীব্রতাকেও প্রভাবিত করে। যখন শরীর প্রস্তুত হয়, চাপ ধীরে ধীরে বাড়ে, মায়ের পজিশন ঠিক থাকে তখন জরায়ুর কাজ হয় আরও সমন্বিতভাবে, ব্যথা হয় আরও সহনীয়ভাবে।
কিন্তু যখন শরীর প্রস্তুত থাকে না, জোর করে প্রসব এগোনোর চেষ্টা করা হয় তখন ব্যথা হয় বেশি এবং এলোমেলো।
এই রিসার্চগুলো আবারো প্রমাণ করে যে ‘মায়ের শরীর বুদ্ধিমান’, ‘প্রকৃতি ভুল করে না’, ‘সাপোর্ট, ধৈর্য আর সম্মান পেলে শরীর নিজেই পথ দেখায়’।
 
✍️ রেজওয়ানা রাজ্জাক
সার্টিফাইড চাইল্ডবার্থ এডুকেটর এন্ড দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল
 
 
 
 
 
 

.