Back

প্রসবে জ্ঞান ও প্রস্তুতি: মায়ের শক্তি ও আল্লাহর ফয়সালা

“আপনি তো লেবার ইউনিটে জব করতে পারবেন” – আমার এক ক্লায়েন্টের প্রিপারেশন আর নলেজ দেখে তার ডাক্তার এই মন্তব্যটি করেছিলেন।

আমার ক্লায়েন্ট আপুটি প্রথম থেকেই নরমাল ডেলিভারির জন্য খুবই আগ্রহী ছিলেন। নিজের সাধ্যানুযায়ী শারীরিক ও মানসিক প্রস্ততি গ্রহনও করেছিলেন। প্রেগন্যান্সি এক্সারসাইজ থেকে ডায়েট সবই মেইনটেইন করার চেষ্টা করতেন।

ওনার ৪০ সপ্তাহেও বেবি ব্রিচ পজিশনে ছিল, কিছু ব্যয়াম রিকমেন্ড করায় ওগুলা করা শুরু করেন। আলহামদুলিল্লাহ, ১ সপ্তাহের মধ্যেই বেবি সেফালিক পজিশনে এসে যায়।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে যখন ৪০ সপ্তাহ পাড় হয়ে যাওয়ার পরও লেবার শুরু হচ্ছিল না। ওনার হেলদি এবং লো রিস্ক গ্রেগন্যান্সি থাকায় ওনি আরো এক সপ্তাহ অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ৪২ সপ্তাহেও লেবারের কোনো নামগন্ধ ছিল না।

তারপর আমার সাজেশনে ডাক্তারকে ‘মেমব্রেন সুইপ’ করে দিতে বলেন উনি৷ ওনার মুখে মেমব্রেন সুইপের নাম শুনে ডাক্তার নাকি কিছুটা অবাক ও ইম্প্রেসড হয়েছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ, তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ওনার লেবার শুরু হয়ে যায়। 

এক্টিভ লেবার পর্যন্ত ওনি বাসায়ই ছিলেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর পুরো রাত ওনাকে সময় দেয়া হয়। সকালের দিকে ফুল ডায়ালেশন হয়ে গেলেও বেবি নিচে নামছিল না। ৪২ সপ্তাহ চলছিল নাকি অন্য কোনো কারণে জানি না, ডাক্তার ওনাকে পুশিং এর জন্য কেন যেন সময় দিতে চাচ্ছিল না, বার বার সিজারের কথা বলতে থাকে।

সারারাত ওনি হাটাহাটি সহ বিভিন্ন লেবার পজিশন নিয়েছিলেন, তার এক্টিভিটি দেখে লেবার ইউনিটে দায়িত্বরত নার্সরাও নাকি অবাক ও খুশি হয়েছিলেন, উনার প্রশংসা করছিলেন এবং উৎসাহ দিচ্ছিলেন। বোঝাই যাচ্ছিল ওখানে এমন মা কম যান, যারা এমন প্রিপারেশন নেন।

কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা ছিল ভিন্ন, বেবি পেটে মেকোনিয়াম পাস করে দেয় এবং সকালে তাকে ইমার্জেন্সি সি সেকশনে নেয়া হয়। আলহামদুলিল্লাহ, বেবি ও মা দুজনেই সুস্থ ছিলেন।

একজন মা যখন জানবেন এবং নিজেকে প্রস্তুত করবেন তখন সে তার মেডিকেল টিমকে হেল্প করতে পারবেন। মেডিকেল টিম কোনো কিছু সাজেস্ট করলে সেটা গ্রহন করা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে সেই সিদ্ধান্তও নিতে পারবেন। যাই হোক, পরবর্তীতে অন্তুত এই আফসোস করতে হবে না, “আমি জানতাম না, তাই ওনারা যা বলেছে তাই করতে হয়েছে”।

তাছাড়া, কোনো মা যদি এভাবে প্রস্তুতি নেন, অনেক বিষয়ে ডাক্তারদের তাকে আলাদা করে গাইডলাইন দিতে হয় না বা ডাক্তারও তার ওপর ভরসা করতে পারেন ও তাকে নিজের মত ছেড়ে দেন।

মুমিনদের বৈশিষ্ট্যই হয়েছে তারা নিজের সাধ্যানুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহন করে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন, তারপর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর তাওয়াককুল করবেন এবং আল্লাহর নির্ধারিত ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকবেন।

রেজওয়ানা রাজ্জাক
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল