Back

কুরবানির ঈদে গর্ভবতী মায়েদের সতর্কতা

পবিত্র ঈদ উল আযহায় আল্লাহর নির্দেশে গরু, মহিষ, ছাগল ভেড়া ইত্যাদি পশু কোরবানি করা হয়। পশু কোরবানি, মাংস কাটাকাটি, ভাগ করা, রান্না করা এবং একে অপরকে খাওয়ানোর মধ্য দিয়েই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয়।
 
পরিবারে একজন গর্ভবতী নারীও সাধারণত এসব কাজে অংশগ্রহণ করেন। তবে কাঁচা মাংসের ব্যাপারে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়, ফলে জীবাণুর মাধ্যমে সহজেই সংক্রমণ হতে পারে।
 
পরিবারে যেহেতু বৃদ্ধ ও শিশুরাও থাকেন, তাই সবারই সচেতন থাকা ভালো।
কাঁচা মাংসে ক্ষতিকর জীবাণু ও পরজীবী থাকতে পারে। কাঁচা বা আধা সিদ্ধ মাংসে Toxoplasmosis নামের একটি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এটি একটি পরজীবীর মাধ্যমে ছড়ায় এবং গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে, এমনকি গর্ভপাতের কারণও হতে পারে।
তাই কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে—
 
১. কাঁচা মাংস বা অন্যান্য অংশ যেমন ভুঁড়ি, কলিজা পরিষ্কার করা, কাটা বা ধোয়ার পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।
২. যেসব স্থানে ও পাত্রে কাঁচা মাংস রাখা হয়, যেমন—চপিং বোর্ড, ছুরি, কাঁচি, রান্নাঘরের টেবিল ও সিংক—সব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
৩. কাঁচা মাংস ফল, সালাদ বা রুটির মতো ready-to-eat খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ এসব খাবার পরে আর রান্না করা হয় না, ফলে জীবাণু সরাসরি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
৪. মাংস অবশ্যই ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে, যাতে কোনোভাবেই কাঁচা ভাব, গোলাপি অংশ বা রক্ত না থাকে।
 
অনেকে বারবিকিউ করে খান; সেক্ষেত্রে মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে। গরুর স্টেক খাওয়ার ক্ষেত্রে হাফ-ডান বা মিডিয়াম নয়, ভালোভাবে রান্না করা well-done স্টেক খেতে হবে।
 
গর্ভবতী মায়েরা ঈদুল আযহার পবিত্র দিনে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন, তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো মেনে চলবেন।
সবার ঈদ সুন্দর ও নিরাপদ হোক।
 
ফারইয়াব হাসান
প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর ও দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল