Back

এসিডিটির ঘরোয়া সমাধান

গর্ভবতী মায়ের এসিডিটি একটা কমন সমস্যা। সব ট্রাইমেসটারে কম বেশী হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরন নামক হরমোন বেড়ে যায় যা শরীরের সকল মাংসপেশিকে শিথিল করে দেয়। যার জন্য খাবার ধীরে হজম হয় এবং পরিপাকে উৎপন্ন গ্যাস শরীর থেকে ঢেকুর বা বায়ুত্যাগের মাধ্যমে বের হতে পারে না। এজন্য গর্ভাবস্থায় এসিডিটির সমস্যাটা বেশী হয়। তবে এই ধীরে হজম হওয়ার একটা উপকারীতা আছে। আস্তে ধীরে হজম হলে খাবার থেকে বেশি পরিমাণে পুষ্টি পাওয়া যায় যেটা মা ও শিশুর জন্য দরকারী। আর এই প্রোজেস্টেরন হরমোন শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্টের জন্যও কাজ করে। এছাড়া জরায়ুতে বাড়ন্ত শিশু মায়ের পেটে চাপের সৃষ্টি করে। একারণে এসিডিটি হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও এসিডিটি হতে পারে।
এটাকে সমস্যা বললে ভুল হবে এটা শারীরিক অবস্থা যা থেকে কিছুটা উপকৃত হওয়া যায়। প্রথমে মেনে নিতে হবে এটা খুব স্বাভাবিক এবং সাময়িক সময়ের জন্য হচ্ছে। বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করলে এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
১. সারাদিনের খাবারগুলো ৫/৬ টা. ভাগে ভাগ করে খাওয়া। একসাথে খুব বেশী পরিমাণে না খাওয়া।
২. খাবার চিবিয়ে ধীরে সুস্থে খাওয়া। এভাবে খেলে লালা এবং এইজাইম নিঃসৃত হয়। খাবার ভালোভাবে হজম হয়।
৩. সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা। খাওয়ার মাঝে পানি না খাওয়া। একসাথে বেশী পরিমাণে পানি না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে পানি খেতে পারেন। খাওয়ার পর কুসুম গরম পানি হজমে সাহায্য করে।
৪. সবরকম ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মিষ্টি, ঝাল, টক এবং চর্বি যুক্ত খাবার, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা। খাবার পর কোল্ড ড্রিংকস না খাওয়া। স্বাভাবিক ঘরের খাবার খেলে এসিডিটি কম হয়।
৫. যে সব খাবারে এসিডিটি হয় বলে মনে হয় সেগুলো এড়িয়ে চলা। সবার সব খাবারে এসিডিটি হয় না। ডালে এসিডিটি হলে ডাল সারা রাতে ভিজিয়ে রেখে পরদিন রান্না করলে এসিডিটি কম হয়।
৬. খাওয়ার সাথে সাথে শুয়ে না পরা, শোয়ার সময় মাথা কিছুটা উঁচুতে রেখে বামকাতে শুলে এসিডিটি কম হয়।
এখন কিছু ঘরোয়া সমাধান বলছি যেগুলো এসিডিটি হলে আপনারা ফলো করতে পারেন।
– ঠান্ডা দুধ বা দই খেতে পারেন। মাঠাও খুব উপকারী।
– আদা চা – আদা পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে সেই পানিটা খেতে পারেন বা একটুকরা আদা মুখে রাখতে পারেন। এটা বমিভাবের জন্য কাজ করে।
– দুধের সাথে মধু বা পানিতে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। গুড় খেলেও এসিডিটির উপশম হয়।
– খাবার পর এক চিমটি মৌরি খেতে পারেন।
– কাঠবাদাম বা আলমন্ড দৈনিক খেতে পারেন।
– সুগার ফ্রি চুইয়িংগাম চিবালে এসিডিটি কমে।
– হাঁটাহাঁটি বা হালকা এক্সারসাইজ করলেও এসিডিটি কমে যায়।
এসিডিটি যদি খুব বেশী বেড়ে যায়, বুকে ব্যাথা বা অসহনীয় হয় তখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাবেন। তবে নিয়মিত এসিডিটির জন্য ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল জাতীয় ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া এসিডিটির ওষুধ আয়রন , ক্যালসিয়ামের মত প্রয়োজনীয় মিনারেল শোষনে বাধা দেয়।
 
ফারইয়াব হাসান
নিউট্রিশনিস্ট
প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর ও দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল