আমার মা হওয়ার জার্নি
- Posted by MNCC Moderator
- Date February 26, 2024
- Categories Birth Story, Others

ডিসেম্বরে প্রিনাটাল রেকর্ডিং ব্যাচে জয়েন করলাম, ৩০+ সপ্তাহ তখন আমার। ভিডিও আর পিডিএফ হাসবেন্ডসহ রেগুলার দেখতাম। বার বার দেখতাম। দুই জন দুই জনকে রিমাইন্ডার দিতাম।
ডাক্তার হিসেবে পেশেন্ট দেখা আর নিজে ফিল করা সম্পূর্ণ আলাদা। ছোট বড় সবকিছু নিয়ে টেনশন করতাম। গ্রুপে কতো যে প্রশ্ন করতাম!
এরপর…
৩০+ ঘন্টা লেবার পেইন।
সকাল ৮ টায় সার্ভিক্স ৪.৫ সেমি ডাইলেশন হয়েছিল, ৫০% ইফেসমেন্ট আর স্টেশন -৩ ছিল।
রাত ১০ টায়ও লেবার প্রোগ্রেস নাই, প্রোলং লেবার, শেষ মূহুর্তে বাচ্চার গলায় কর্ড পেচিয়ে যাওয়া, হার্ট রেট কন্টিনিউসয়ালি নিচে নেমে যাচ্ছিল।
সি সেকশন হলো। অপারেশন টেবিলে জানলাম USG (AFI ১১.৬ ছিল) রিপোর্ট ভুল, এমনিওটিক ফ্লুইড নাকি ছিলই না ( ৪/৫ এর কাছাকাছি ছিল), তারপর ম্যাম দেখল প্লাসেন্টা এক্রেটা ছিল, ম্যানুয়ালি রিমুভ করল।
তারপর আল্লাহর রহমতে আমার বাবু দুনিয়ায় আসল আলহামদুলিল্লাহ ৩০ জানুয়ারি, ২০২৪ রাত ১০.৪০ এ।
মাতৃত্ব একটা বড় ব্যাপার! লেবার পেইন সহ্য করেছি, সাথে পোস্ট সি সেকশন পেইন।
নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি আর সি সেকশনের পেইনও সম্পূর্ণ আলাদা। দুইটার কোনো তুলনা হয় না। একজন মেয়ে যেভাবেই মা হোক, জার্নিটা অনেক কষ্ট।
কোর্স থেকে কী শিখলামঃ
১. আল্লাহর ওপর অনেক বেশি তাওয়াককুল করা। আমার সি সেকশন হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। এটাই আল্লাহ আমার জন্য উত্তম রেখেছেন।
২. কষ্টের মধ্যে দোয়াকে সঙ্গী বানাতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।
৩. পেইন ম্যানেজমেন্ট করতে শিখেছি আলহামদুলিল্লাহ। যতোবার লেবার পেইন উঠেছিল জিকির, এক্সারসাইজ, ডিপ ব্রিদিং, স্কোয়াট, রিলেক্সিং, হিপ রোটেশন সব করেছিলাম। সার্ভিক্স ডাইলেটে হেল্প করেছিল শুরুতে।
৪. আমি আল্লাহর রহমতে শেষ পর্যন্ত মেন্টালি স্ট্রং থাকতে পেরেছিলাম।
ডাঃ এল. এন. জারিন
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স, রেকর্ড ব্যাচ
Other post
You may also like
লেবারের লক্ষণ নেই ভাবছিলেন যে মা, তার ন্যাচারাল ভিব্যাক হয়েছে — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪১)
ভিব্যাক তা-ও ন্যাচারাল! আলহামদুলিল্লাহ!! অথচ এই মা ৩৮ সপ্তাহেও ভাবছিলেন, উনার লেবারের কোন লক্ষ্মণ নেই কেন! আসলে, নরমাল ডেলিভারি এমনই। সবাই পূর্ব লক্ষ্মণ দেখে না। তবে বডি রেডি থাকলে ফুল টার্মের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎই পেইন শুরু হয়ে যেতে পারে। এই …
আমি পেরেছি আপু! — মারুফা আপুর বার্থ স্টোরি (দৌলা ডায়েরী সিরিজ: পর্ব ৪০)
মারুফা আপু ৩৭ সপ্তাহ থেকে আমার দৌলা সার্ভিস নিচ্ছিলেন। প্রেগন্যান্সিতে আপু খাবার ও এক্সারসাইজ মোটামুটি মেইনটেইন করেছেন। শেষের দিকে হাঁটতে গেলে পায়ে কোথাও যেন কিছু একটা বাধে, এমন অনুভূতির কথা বলেছিলেন। বাবুর পজিশন নিয়ে আমার একটু সন্দেহ হয়। কিছু প্রশ্ন …
ইডিডি পার হয়ে নরমাল ডেলিভারি — দৌলা ডায়েরী সিরিজ (পর্ব ৪২)
আপু খুবই শান্ত মানুষ। এতই শান্ত যে হ্যালো হ্যালো বলে বুঝতে হতো লাইনে আছেন কিনা। এই শান্ত সভাবই হয়তো আপুর স্টোরির স্পটলাইট। ৩৬ সপ্তাহ থেকে দৌলা সার্ভিস নেন। আলহামদুলিল্লাহ উনার পুরো প্রেগন্যান্সি একদম স্মুথ ছিল। নিউট্রিশন ও এক্সারসাইজও ভালোভাবে মেইনটেইন …
