Back

মুড সুইং ম্যানেজ করুন পজিটিভভাবে

একটা কথা মাথায় নেন আপনার মানসিক বিষাদ কিংবা অসুস্থতা কিংবা মুডসুয়িং এর দোহাই দিয়ে খারাপ ব্যবহার, এই সব গুলোই আপনার সংসারে আপনার গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। আমরা মধ্যবিত্ত মেয়েরা দিন শেষে সংসারে শান্তি চাই, স্বামীকে শান্তি দিতে চাই, সন্তানকে মানুষ করতে চাই। অনেকগুলো গোল এর মধ্যে এগুলোই প্রধান। অন্যের কাছ থেকে কি চাই বা কি পাই সে হিসাব এখানে হচ্ছেনা। এমনকি অনেক বড় এবং ভালো বংশীয় চাকুরীজীবি মেয়েরাও এসব চায়।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দেই, আমার এক কাজিন উনি এখন ইউএনও হিসেবে আছেন। বাসায় বুয়া নেই এসে দেখেন ঠান্ডা ভাত, ইউএনও’র প্রেসার তো জানেন, ধুম করেই ভাত বসিয়ে দিয়ে বললেন ‘তোর ভাইয়া ঠান্ডা ভাত খায়না’। তার মানে এই না যে উনি প্রতিদিন রান্না করেন, এটা উনার বিবেক। উনার হাজবেন্ড খুবই ভালো এবং সম্মানিত মানুষ কিন্তু বাংলাদেশের তথাকথিত বড় চাকুরে নয়, মানে বিসিএস না আর কি।

সবাই দেখি খালি আত্মসম্মান শিখায় নেগেটিভ ওয়েতে। এতে যারা সামনে সংসার জীবনে পা রাখবে তাদের একটা বড় অংশ আমিত্ববোধে জীবন শুরু করবে। আমার অধিকার, আমার সম্মান এসব দিয়ে যারা জীবন শুরু করেছে তাদের অধিকাংশই আজকাল একা। কিন্তু যারা অন্যদের অধিকার অন্যের সম্মান কে প্রায়োরিটি দিয়েছে তারা বরং বেশি সম্মানিত হয়েছে।

আচ্ছা মানসিক বিষাদ, মুড সুইং, প্রেগন্যান্সি এগুলো সবার হয়, কাশি হলে যেমন গরম পানি খেতে হয় এগুলোর ও তেমনি ম্যানেজমেন্ট আছে। এটাকে পুঁজি করে যদি নিজেকে খারাপ বানিয়ে ফেলেন, কোনদিন আর ভালো জায়গাটা নিতে পারবেন না।

অনলাইনে প্রেগন্যান্সি, বাচ্চা পালার সেন্টিমেন্ট অনেক। সো সেন্টিমেন্টাল বিষয়ে কথা বললে একটু চেতিয়ে দিলে প্রচুর ভিউ পাওয়া যায়, শেয়ার পাওয়া যায়।

এজন্য অনেকের ভিডিওর মূল ম্যাসেজ থাকে, আমার সন্তানকে কাউকে নাক গলাতে দিবোনা ,আমার প্রেগন্যান্সির সময়ে অমুকে এটা খাওয়ায়নি তাই কাউকে ক্ষমা করবোনা। আমরা কিন্তু চাইলেই আমাদের পরিবারের মানুষকে ছাড়তে পারবোনা। আমাদের বুদ্ধি করে ম্যানেজমেন্টটা শিখতে হবে, টক্সিটি দিয়ে নয়।

অবশ্যই এসব অনেক কষ্টের, কিন্তু এই নেগেটিভ ইফেক্ট আপনার নিজের ক্ষতি করছে, এটা আপনার পোষ্টপার্টাম ডিপ্রেশনের চান্স বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আপনারা কি জেনে গর্ভধারণ করেন না? জেনে বিয়ে করেন না? যে গর্ভধারণ করলে আগের মতো থাকবোনা, বিয়ে করলে আমার মা যেমন সংসার করছে আমাকেও কষ্ট করতে হবে, সন্তান হলে রাত জাগা লাগবে, কষ্ট লাগবে। দয়া করে এইটুকু জেনে অন্তত জীবনের অন্য ধাপে পা রাখুন।

এসব ডিপ্রেশন এবং মুড সুয়িং কে যদি নিজে ম্যানেজ না করেন, বিশ্বাস করেন আপনি সংসারে একটা আলাদা বোঝা হবেন, অন্যদের মানসিক অশান্তির কারন হবেন। দিন শেষে আপনার সংসার ধ্বংস হবে, হাজবেন্ড ভালো মানুষ হলে তার কষ্টের কারন হবেন। দিন শেষে সব শেষ।

পুরো প্রেগন্যান্সিতে হাসুন, সাজুন, সবাইকে ভালোবাসুন, বাচ্চা জন্মানোর পরে প্রত্যকটা সময় এঞ্জয় করুন, প্লান করুন। দিন শেষে ক্ষমা করুন দেখবেন আল্লাহ শান্তি দিচ্ছেন।

শয়তানের ধোকার আর এক নাম ডিপ্রেশন।

লেখাটা সাধারণ মেয়েদের জন্য, অতি আধুনিকা ধনীর দুলালি কিংবা কথায় কথায় অধিকার শিখিয়ে অশান্তি আনা নারীবাদীদের জন্য না।

ডা.মাহমুদা মিতু
MBBS(DU)