PCOS, বন্ধ্যাত্ব ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ে আমার নরমাল ডেলিভারি গল্প
- Posted by Sumaiya Snigdha
- Date August 4, 2026
- Categories Birth Story

একটা কোর্স কিভাবে একটা মানুষের অসম্ভব স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, পুরো মেন্টালিটি চেঞ্জ করতে পারে,কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে,কতটা হেল্পফুল হলে সবাইকে এব্যাপারে জানানোর জন্য মনকে ব্যাকুল করে দিতে পারে সেটা আমি এই কোর্স না করলে জানতাম না। আল্লাহর কাছে হাজারবার সুস্থ প্রেগন্যান্সি সহজের দুয়ার বরকতে আল্লাহ হয়ত আমাকে এই এলেম দান করেছেন। যার কারণে প্রেগন্যান্সি,ডেলিভারি, পোস্টপার্টাম এর সময়গুলোতে আমি খুব কনফিডেন্টলি আমার সিদ্ধান্তগুলো নিতে পেরেছি। কেউ আমাকে ভুল কিছু বলে টলাতে পারেনি আলহামদুলিল্লাহ।
অনেক বড় ইন্ট্রো দিয়ে ফেললাম।আসলে আমি আল্লাহর প্রতি এতটা কৃতজ্ঞ আল্লাহ আমার সব কিছু অকল্পনীয় ভাবে সহজ করেছেন। Pcos, ৫ বছরের বন্ধ্যাত্ব,১১১কেজি ওজন নিয়েও আল্লাহ আমাকে নরমাল ডেলিভারি করতে চাওয়ার মত অদম্য সাহস দিয়েছেন। আমি জানিনা আমার মত এরকম সিচুয়েশন এ থাকলে কেউ এরকম সাহস করত কিনা।
৫ বছর ইনফার্টিলিটির পর ৮ মাস ট্রিটমেন্ট করে আলহামদুলিল্লাহ আমি কনসিভ করি। আমার প্রব্লেম ছিল ডিম্বানু বড় হত না। কয়েকমাস ইনজেকশন দিয়েও হচ্ছিল না। তারপর একমাসে মাত্র একটা ডিম ম্যাচিউর হয়েছিল তাও এটাতে কনসিভ হবে কিনা এই আশা ছিল না যেহেতু এর আগে অনেকবার ট্রাই করা হয়েছে,অনেকগুলি ইনজেকশন দেয়া হয়েছে। আল্লাহর রহমতে সেই মাসেই আমি কনসিভ করি।
তারপর থেকে শুরু হল আমার যুদ্ধ,সারাক্ষণ মনে হত যদি নষ্ট হয়ে যায়, আর যদি বাচ্চা না হয় আমি কিভাবে বাঁচবো। আমার যেভাবেই হোক এই যক্ষের ধনকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
প্রথম দিকে আমার প্রচুর মর্নিং সিকনেস ছিল,সকালে বমির এমন বেগ আসত কিন্তু বমি হত না।মনে হত যেভাবেই হোক আমার পেটের সব কিছু বের করে দিতে হবে।অনেক কষ্ট করে এভাবে ৪ মাস যায়।তারপর একটু ভালো হই। কিচ্ছু খেতে ইচ্ছা করত না তাও শুধু আমার সন্তানের কথা চিন্তা করে অনেক জোর করে শুধু পুষ্টিকর খাবারগুলো খেতাম।বাসায় একা ছিলাম হাজব্যান্ড যখন অফিসে থাকত তখন একা একা রান্না করে খাওয়াটা যে কি কষ্টের ছিল।ফ্যামিলির সবাই শুরু থেকেই বলত আমি যেনো কোন কাজ না করি,সারাক্ষণ যেনো শুয়ে থাকি।প্রথম কিছুদিন এভাবে ছিলাম তারপর আর ভালো লাগছিল না,আমার কোন ব্লিডিংও হয়নাই আমি কেনো শুধু শুধু রেস্ট এ থাকব।যতটুক পারতাম ঘরের কাজ নিজেই করতাম।শুরু থেকেই মনে হত এভাবে নিজের বুদ্ধিতে চললে হবে না,আমার সুস্থ বাচ্চা,সুস্থ জীবনের জন্য একটা প্রপার গাইডলাইন দরকার।মনে অনেক প্রশ্ন জমত এখন কি করবো,কিভাবে চলব,এটা করা ঠিক হবে কিনা আরও কত কি।এসব প্রশ্ন তো কাউকে করতে পারতাম না।
আমানি বার্থ বইয়ের কথা আগে থেকেই জানতাম। বইটা পড়া শুরু করি। বই থেকেই রাবেয়া রওশিন আপুকে চিনি। তারপর কোর্সের সন্ধান পাই। ৩ মাসের সময় কোর্সে এনরোল করি। প্রতিটা ক্লাস ইনজয় করতাম কারণ আমার মনের সব প্রশ্নের উত্তরগুলো পাচ্ছিলাম। নতুন অনেককিছু জানতে পারছিলাম। পরের ক্লাসের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। আগে থেকেই নিয়ত ছিল নরমাল ডেলিভারির কিন্তু এতটা স্ট্রং ছিলাম না যেহেতু আমার ওয়েট অনেক বেশি(৯১কেজিতে কনসিভ করি) সবাই বলত আমার কোনদিনই নরমাল এ হবে না আমি যেন এই স্বপ্নই না দেখি। আল্লাহর রহমতে কোর্স করার পর আমার নিয়ত এতটা স্ট্রং হয়েছিল কেউ কিছু বললে সেটা আমি পাত্তাই দিতাম না। আমি শুধু আল্লাহর কাছে দুয়া করতাম আল্লাহ তুমি আমাকে এই এলেম দিয়েছো এলেম কাজে লাগানোর সুযোগ দিও। ৫ মাসের সময় ফাতেমা ম্যামকে দেখাই, ম্যাম আমাকে ভরসা দেয় তোমার যদি সব ঠিক থাকে তাহলে কেনো নরমাল এ হবেনা, ওজন কোন সমস্যা না।
পুরো প্রেগন্যান্সিতে আমার সব রিপোর্ট আলহামদুলিল্লাহ্ নরমাল ছিল। এটাও আল্লাহর মিরাকেল। এত ওজনেও আমার কোন সমস্যা হত না। পুরা সময় নিজের বাসাতে একাই ছিলাম,ঘরের সব কাজ একাই করতাম আলহামদুলিল্লাহ। সারে আট মাসের সময় বাবার বাসায় যাই। ৩৬ সপ্তাহের পর থেকেই প্রচুর আনারস,খেজুর খেতে থাকি।
৩৭ সপ্তাহে ম্যামকে আবার দেখাই। উনি আমাকে ১০ দিন পর আবার আসতে বলে,সেদিন pv করবে বলে দেয়। আমি শুরু থেকে টুকটাক এক্সারসাইজ করতাম,খুব বেশি রেগুলার পারতাম না ঘরের কাজ করে টায়ার্ড হয়ে যেতাম। এই দশদিনের মধ্যে আমি ব্যায়াম করা বাড়িয়ে দিলাম সাথে খেজুর,আনারস খাওয়া তো আছেই। রোজাও রাখছিলাম। আল্লাহর কাছে প্রচুর দুয়া করতাম শেষের দিকে দুয়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। দুয়াই আমার প্রধান হাতিয়ার ছিল। আল্লাহর কাছে ভেঙে ভেঙে সব চাইতাম, শুধু মনে হতো আল্লাহ যদি চায় আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন জিনিসটাও সহজ হয়ে যাবে। আশেপাশের মানুষের কথা তো ছিলই, ৯০% মানুষই বলত আমার সিজার হবে। আমি শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করে ছিলাম।আবার মনে মনে এটাও ভাবতাম যদি সিজার লাগেই সেটা যেন জেন্টেল সিজারিয়ান অপারেশন হয়।
আমার edd ছিল ঈদের দিন। তাই ম্যাম বলছিল pv করে যদি কোন প্রগ্রেস পায় এর মধ্যে ব্যথা না উঠলে ইন্ডাকশন দিবেন। তাই হাঁটাহাঁটি, মাইলস সার্কিট, সবকিছুর পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। পিভি করে দেখল 2cm খোলা কিছু effacecment ও হয়েছে তাই sweep করে দিলেন যেনো তাড়াতাড়ি ব্যথা উঠে। ৩ দিন সময় দিলেন এর মধ্যে ব্যথা না উঠলে ৩ দিন পর রাতে তারাবির পর ভর্তি হয়ে যেতে বললেন। দ্বিতীয় দিন মিউকাস প্লাগ যায়। সারাদিন।হাঁটাহাঁটি, স্কোয়াট চালিয়েই যাচ্ছিলাম তাও কোন পেইন ছিল না। শুধু ব্রাক্সটন হিকস হচ্ছিল। বাসায় পরামর্শ করে ম্যাম এর সাথে কথা বলে চতুর্থ দিন রাতে হসপিটাল এ চলে যাই।
হসপিটাল এ রাত বারোটায় ভর্তি হই। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় মন কেমন কেমন করছিল কি হবে না হবে। সেখানে যাওয়ার পর সুন্দর,পরিপাটি,শান্ত পরিবেশ দেখে মনটা একটু হালকা লাগছিল।
কেবিনে যাওয়ার পর ডিউটি ডাক্তার pv করে দেখে ৪সেমি ওপেন।তারা খুবই অবাক হয় বারবার জিজ্ঞেস করে আপনার একদমই পেইন নেই? আমি বললাম না। সিটিজি করে কন্সট্রাকশন কাউন্ট করে। ১০ মিনিটে দুইটা করে কন্সট্রাকশন আসছিল। ম্যামের সাথে কথা বলে জানায় রাতে তারা ইন্ডাকশন প্রসেস শুরু করবে না যেহেতু অনেকটা ওপেন।আমাকে বেশি বেশি হাঁটাহাঁটি আর squat করতে বলে। সারারাত এভাবেই যায়। ভোর ৫টায় আবার pv করে দেখে এখনও একই পরে স্যালাইন শুরু করে। প্রথমে ৫ ড্রপ করে শুরু করে। আধা ঘণ্টা পর পর বাড়িয়ে দিচ্ছিল,এভাবে ৩০ ড্রপ হওয়ার পর এটাই চালু রাখে। সবকিছুই ম্যামের সাথে পরামর্শ করেই করছিল। সকাল সাড়ে নয়টায় ম্যাম আসে। উনি pv করতে চায় আমি না করি আগের দুইবারে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল। তখনও কোন পেইন ছিল না। শুধু ঘন ঘন ব্র্যাক্সটোন হিকস্ আসছিল।
এভাবে সারাদিন যায় তাও পেইন উঠে না। বিকাল ৫টায় জানায় তারা রাত ৯টা পর্যন্ত দেখবে এর মধ্যে যদি ব্যথা না উঠে তাহলে রাতে স্যালাইন অফ করে দিবে। সারারাত ভালো করে ঘুমাতে বলে যেনো বডি রিল্যাক্স হলে সহজে পেইন উঠে। এটা শুনে মনটা এত খারাপ হয়ে যায়। সারাক্ষণ আল্লাহর কাছে দুয়া করতে থাকি। আমার আম্মু তো কনটিনিউসলি ইয়াসিন সূরা পরেই যাচ্ছিল। সারাদিন যতটুক কন্সট্রাকশন আসছিল সন্ধ্যার পর সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। রাতে স্যালাইন অফ করে দেয়া হয়। সারারাত ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল আর কান্না করছিলাম,আল্লাহর কাছে সাহায্য চাচ্ছিলাম। বেশি খারাপ লাগছিল আমার আম্মু আর হাজবেন্ডের জন্য। তারা রোজা রেখে সারাদিন কষ্ট করেছে আমার জন্য।
সকাল ৭টায় আবার স্যালাইন শুরু করে। আগে পরে মিলিয়ে টোটাল ২২ঘণ্টা স্যালাইন চলে মাঝখানে আট ঘণ্টা ছাড়া তাও কোন পেইন আসে না। সেদিন শুক্রবার থাকায় ডাক্তার ফাতেমা ইয়াসমিন ম্যামের অফডে ছিল। তাও ম্যাম সকাল ১১টায় আসে। এসে বলে পানি ভেঙে দিবে যদি দেখে পানির রং ঠিক আছে তাহলে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করবে।আল্লাহর রহমতে পানির রং নরমাল ছিল আর বেবির হেড একদম বরাবর ছিল তাই বেশি পানি লিক হয়নি।
পানি ভেঙে দেয়ার পর ব্যথা শুরু হলো,স্যালাইন ৪০ ড্রপ করে দিয়েছিল। প্রথমে ৫ মিনিট পর পর পেইন আসছিল এক ঘণ্টার মধ্যে ব্যথার পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। দুপুর ৩টা থেকে গ্যাপ ছাড়া ব্যথা আসতে থাকে। অনেক কষ্টের ব্যথা হলেও মনে মনে আনন্দ লাগছিল যেই ব্যথার জন্য এত অপেক্ষা এত চেষ্টা অবশেষে সেই ব্যথাটা শুরু হল। মনে হচ্ছিল আমি যেনো ব্যথা ইনজয় করছি। এই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ৪টার পর থেকে অতিরিক্ত তীব্র পেইন আসতে থাকে কোন গ্যাপ ছাড়া। তারপর শুধু মনে হচ্ছিল কখন শেষ হবে এই কষ্ট। নিজে ব্যথা শুরুর প্রথম দিকে কয়েকবার ইয়াসিন সূরা পড়তে পেরেছিলাম তারপর আর পারিনি শুধু সহজের দুয়া করছিলাম। ঐ সময় তো সব দুয়া কবুল হয় তাই দুয়ার একটা লিস্ট বানিয়েছিলাম লিস্ট দেখে দুয়া করছিলাম।
বার্থ বলে বসলে অনেক আরাম লাগত একটু পর আবার ক্লান্ত হয়ে যেতাম, শুতেও পারছিলাম না। ফাঁকে ফাঁকে squat করছিলাম। খুব কষ্ট করে আসরের নামাজটা পড়লাম।ইফতারের আগে pv করে দেখল এখনও সেম ৪সেমিই। ডাক্তার বলে গেলো তারা আর ২ ঘণ্টা দেখবে এরমধ্যে যদি প্রগ্রেস না হয় তাহলে সিজারের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে। মনটা এত খারাপ হয়ে গেলো এত ব্যথার পরও কোন প্রগ্রেস নাই। দুনিয়া ভেঙেচুড়ে কান্না আসছিল,কষ্টে কাদতেও পারছিলাম না। ইফতারের সময় তো দুয়া কবুল হয় তাই ব্যাকুল হয়ে আল্লাহর কাছে চাচ্ছিলাম। ইফতারের এক ঘণ্টা পর চেক করে দেখল আলহামদুলিল্লাহ ৬সেমি হয়ে গেছে, অনেকটা effacement ও হয়েছে। আল্লাহ যে কত কাছে, তার বান্দাকে নিরাশ করেননা আমি সেদিন প্রমাণ পেয়েছি,আমরা শুধু চাওয়ার মত চাই না আল্লাহর কাছে।
তারপর তারা কেবিনকে লেবার রুমে কনভার্ট করতে থাকে। সব জিনিসপত্র,ইনকিউবেটর আরও যা যা লাগবে সব নিয়ে আসতে থাকে। এই হসপিটাল এ যাওয়ার এটাও অন্যতম একটা কারণ এখানে ডেলিভারির সময় একা থাকতে হয়না,নিজের পরিবারের সাথে থাকা যায়। পুরা সময় আমার বেডের একপাশে আম্মু অন্যপাশে আমার হাজব্যান্ড ছিল,তাদের জন্যই আমি সম্পূর্ণ রিল্যাক্স ছিলাম। আম্মু ইয়াসিন সূরা পরে পরে ডাবের পানি,যমযমের পানি,জুস
এগুলাতে ফু দিয়ে দিচ্ছিল আমার হাজব্যান্ড সেটা স্ট্র দিয়ে আমাকে খাইয়ে দিচ্ছিল।
বেবি তখনও কিছুটা উপরে ছিল। তাই ডাক্তারও বলেছিল আমার নিজেরও মনে হল আমি যদি উপুড় হয়ে থাকি তাহলে দ্রুত বেবি নিচে নামবে। আসলেও তাই হলো এভাবে থাকাতে বেবিও নিচে নামল ১০সেমি ওপেন হয়ে গেলো দুই ঘণ্টার মধ্যে আলহামদুলিল্লাহ্।
কিছুক্ষণ পর পর পুশিং আর্জ আসতে থাকে। ডাক্তার বলছিল আর্জ ছাড়া যেনো পুশ না করি। আমি উপুড় হয়ে পুশ করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু উনি বলছিল আমি যেনো নিজের দুই পা ধরে প্রেশার দেই। আমি একদমই শক্তি পাচ্ছিলাম না। দুপুর থেকে আমার খাওয়া বন্ধ ছিল তারাই না করেছিল খেতে। শুধু লিকুইড যেনো খাই। খেজুর, জুস,যমযমের পানি আর একবার স্যুপ খেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে লেবারের সময় শরীরে শক্তি থাকাটা যে কত প্রয়োজন এটা আগে গুরুত্ব দিলে আমার অনেক লাভ হতো। শুধুমাত্র শক্তি পাইনি বলে আমার এপিসিওটোমি লেগেছে। পা ধরে এক নিঃশ্বাসে পুশ করতেই পারছিলাম না। তারপর এপি দেয়ার পর আরেকবার পুশ করার সাথে সাথে আমার কলিজা,আমার সোনার টুকরা ১৩,০৩,২০২৬,শুক্রবার রাত ৯;৩৮ এ দুনিয়াতে আসে আলহামদুলিল্লাহ। অবশেষে আমি ওর মুখটা দেখি,আমার নরমাল ডেলিভারির স্বপ্ন পূরণ হয়।
ওকে বুকের উপর রাখার পর আমি স্কিন কন্টাক্ট করতে চাচ্ছিলাম কিন্তু তারা দেয়নি বেশিক্ষণ। প্লাসেন্টা আউট হওয়ার জন্য অক্সিটোসিন ইনজেকশন দেয়। যদিও সেটা দেয়ার প্রয়োজন ছিল না,কারণ কোর্স থেকে জেনেছিলাম ব্রেস্টফিডিং করালেই প্লাসেন্টা আউট হওয়ার কথা,এসব বিষয়ে আগে থেকে ডাক্তার এর সাথে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলা হয়নি তাই এগুলা করতেও পারি নাই। এইজন্যে আমার এখনও খুব আফসোস হয়।
তারপর ফাতেমা ম্যাম এসে অনেক সময় নিয়ে সেলাই করে দেয়। লোকাল এনেস্থেসিয়া দেয়ার পরও একেকটা সুইয়ের আঘাতে আমার জান বের হয়ে যাচ্ছিল,আর আফসোস হচ্ছিল কেনো আমি ভালোমত খেয়ে শক্তি অর্জন করলাম না তাহলে তো এই কষ্ট ভোগ করতে হতো না।
তাও আলহামদুলিল্লাহ্ আমার নরমাল ডেলিভারি তো হয়েছে। আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করেছেন। আল্লাহর রহমত, মনের সাহস, ইচ্ছাশক্তি আর শরীরের কন্ডিশন সব যদি ঠিক থাকে নরমাল এ হতে তো কোন ব্যাপার না। আমরা সহজ জিনিসটাকে দিন দিন কঠিন করে ফেলছি। আল্লাহ সবার জন্য সহজ করুক।
উম্মে উসমান
রৌদ্রময়ি প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট, ব্যাচ ২৩
Other post
Tag:বার্থ স্টোরি
You may also like
কষ্টের পরেই আসে সবচেয়ে সুন্দর নেয়ামত
যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার, যিনি আমাকে মা হওয়ার সেই মহামূল্যবান সম্মান দান করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ… অশেষ শুকরিয়া রৌদ্রময়ী টিমের প্রতি যারা এত সুন্দর একটি আয়োজন করেছেন। যেখানে কিনা বাচ্চা জন্ম দেওয়ার বিষয়ে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। পুরো প্রেগন্যান্সি …
প্রেগন্যান্সি নিয়ে পড়েছি, নরমাল ডেলিভারি সহজ হয়েছে
বন্দর নগরীর এক কোলাহল বিহীন হসপিটালের বারান্দায় বসে অপেক্ষা করছি রিপোর্ট এর জন্য। গত কয়েকদিন শরীর মাত্রাতিরিক্ত খারাপ লাগছে, শোয়া থেকে উঠতে পারি না, মাথা ঘোরায়, খেলেই বমি লাগে। ক্লাসে যাচ্ছি না ভয়ে মাথা ঘুরে রাস্তায় পরে যাই যদি। প্রেগ্ন্যাসির …
আমার নরমাল ডেলিভারির গল্প
কনসিভ করার আগে থেকেই রৌদ্রময়ী পেইজে নরমাল ডেলিভারির স্টোরিগুলো পড়ে নিয়ত করেছিলাম কনসিভ করলেই এই কোর্সে এনরোল করবো। যেহেতু নরমাল ডেলিভারির নিয়ত ছিলো তাই কনসিভ হতেই আর দেরী না করে তখনই যে ব্যাচ শুরু হয় সেটায় এনরোলড হই। আল্লাহর অশেষ …
