Back

কেন “আমানি বার্থ” ও “মা হওয়ার গল্প” বই দুইটিই পড়বেন?

আমি পরামর্শ দেব “আমানি বার্থ” ও “মা হওয়ার গল্প” দুইটি বই-ই হবু মা ও বাবাদের রিডিং লিস্টে রাখার জন্য। কেন? এই নিয়েই আজকের লেখা।

“আমানি বার্থ” বই আমার ২য় প্রেগন্যান্সিতে পড়েছি। এই বই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। শুধু ন্যাচারাল বার্থের অভিজ্ঞতার জন্য না, এই অভিজ্ঞতা থেকে প্রচন্ড অনুপ্রেরণা পাই প্রিনেটাল এডুকেশন নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করার। যার অংশ হিসেবে পরবর্তীতে আমি এই বইটি অনুবাদ করি।

কাজ করতে গিয়ে আমি ভিন্ন কিছু পরিস্থিতির সাথেও পরিচিত হই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার সুস্থ, লো-রিস্ক প্রেগন্যান্সি ছিল। কিন্তু রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্সের অনেক পার্টিসিপ্যান্ট মায়ের ক্ষেত্রে দেখতে পাই বিভিন্ন ধরনের জটিলতা থাকে তাদের প্রেগন্যান্সিতে। কারো মিস্ক্যারেজের হিস্ট্রি থাকে, ডাক্তার বেড রেস্ট দেন। কারো ইনফার্টিলিটির হিস্ট্রি থাকে, ভ্যালুয়েবল প্রেগন্যান্সি। ডাক্তার ব্যায়াম করতে নিষেধ করেন। কারো পানি কমে যায় বর্ডার লাইনের নিচে, কারো জরায়ুর আকৃতির কারণে বাচ্চা বড় হতে পারছে না।

এছাড়াও আরো অনেক রকম জটিলতার সাথে আমি ধীরে ধীরে পরিচিত হতে থাকি। আর ক্রমেই বুঝতে থাকি, ন্যাচারাল বার্থ সবার জন্য না। অনেককে মেডিকেল প্রক্রিয়া বেছে নিতে হয় এবং সেটাই তখন তার ও বাবুর জন্য লাইফ সেভিং।

প্রিনেটাল এডুকেশন বা গর্ভকালীন পড়াশোনা যে কোন প্রেগন্যান্সিতে অত্যাবশ্যক। নরমাল হোক বা সিজার, সঠিক পুষ্টি বজায় রাখা, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শেখা, যতটুকু সম্ভব একটিভ থাকা, অকারণ জটিলতা এড়াতে শেখা, নতুন শিশুর যত্ন, তাকে খাওয়ানো, প্রসব পরবর্তী প্রস্তুতি, দাম্পত্য সম্পর্ককে সুন্দর রাখতে শেখা সবকিছুই যে কোন প্রেগন্যান্ট দম্পতির জন্য উপকারী ও তাদের জানা প্রয়োজন।

সিজার হলেও কোমলভাবে শিশুকে স্বাগত জানানো, নরমাল ডেলিভারিতে বাচ্চা যেসব সুবিধা পায় সেগুলো যতটা সম্ভব সিজারের ক্ষেত্রেও এপ্লাই করা সম্ভব। আর এগুলোও জেনে রাখার মতো বিষয়।

তাই প্রিনেটাল স্টাডি করা উচিত সুস্থ প্রেগন্যান্সি ও মাতৃত্বের জন্য, ডিসিশন মেকিং এ ভূমিকা রাখতে পারার জন্য। শুধুমাত্র নরমাল ডেলিভারি অর্জনের জন্য না।

“আমানি বার্থ” বইটি একজন মাকে প্রাকৃতিক প্রসবের সাথে পরিচিত করায়। তিনি কিভাবে এর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন সেটা জানায়। এই বই থেকে সুস্থ, লো-রিস্ক প্রেগন্যান্সির একজন মায়ের পাশাপাশি একজন হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির মা-ও উপকৃত হবেন। তবে একজন হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সির মা যখন “মা হওয়ার গল্প” বইটা পড়বেন তখন তিনি নরমাল-সিজার পাযলের আরেকটি ব্লক মেলাতে পারবেন। তিনি বুঝবেন কিছু পরিস্থিতিতে মেডিকেল হস্তক্ষেপ সত্যিই লাইফ সেভিং হতে পারে!

“আমানি বার্থ” বইয়ের টাইটেলের নিচে ছোট করে লেখা রয়েছে “প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মা হওয়ার উপায়” – এটি এদেশের মানুষের কাছে বইটির বিষয়বিস্তু কী তা অল্প কথায় বুঝিয়ে বলার জন্য পাবলিকেশন থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। মূল ইংরেজি বইতে আমানি অর্থ কী সেটি লেখা যা সরাসরি লিখলে এদেশের মানুষের কাছে বইটি দুর্বোধ্য মনে হবে।

কিন্তু এই ছোট্ট ট্যাগলাইনটি থেকে অনেকে হয়ত মনে করছেন এই বই পড়লে প্রাকৃতিক প্রসব হবে বা সিজার একটি অপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। মূলত কিছু পূর্বজ্ঞান প্রয়োজন বইটি থেকে সঠিক শিক্ষা নেয়ার জন্য।

এই জায়গাতেই “মা হওয়ার গল্প” বইটি শূন্য স্থান পূরণ করেছে। দুইটি বই পাশাপাশি পড়লে পাঠক গর্ভকালীন পড়াশোনা ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে আরো পূর্নাঙ্গ ধারণা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

সুস্থ মা, সুস্থ শিশু – এটিই হোক সকলের চাওয়া।

রাবেয়া রওশীন
অনুবাদক, “আমানি বার্থ” বই
কন্ট্রিবিউটর, “মা হওয়ার গল্প” বই
প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর, রৌদ্রময়ী স্কুল