Back

সত্যিই নরমাল ডেলিভারি চান?

এখন প্রেগনেন্ট হলেই মেয়েরা সেলিব্রেটি ডাক্তার খোঁজে। কোন ডাক্তার যখন নরমাল ডেলিভারি করিয়ে, নিজের ঢাকঢোল পিটিয়ে বিরাট তারকা বনে যান, সবাই লাইন ধরে তার চেম্বারে বসে থাকে৷

এভাবে রোগীরা নিজেরাই নিজেদের হেনস্থা করে।

নরমাল ডেলিভারি হলো পৃথিবীর সবচাইতে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক একটি বিষয়৷ কোন কম্পলিকেশন না থাকলে, এই সময়ে ডাক্তারের করণীয় তেমন কিছুই নেই।

বাচ্চা হবার সময় আসলে সে চলে আসবে, একজন চিকিৎসক বা মিডওয়াইফ বাচ্চাটাকে ধরবে বা বের করতে মাকে সাহায্য করবে৷

মানব সৃষ্টির ইতিহাসে আমরাই প্রথম প্রজন্ম যাদের অনেকেরই হয়তো হাসপাতালে জন্ম হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত সবারই বাসায় বাচ্চা হতো।

কিন্তু মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য hospital birth এর প্রচলন হয় ➡ জনপ্রিয়তা পায় ➡ এবং নানাকারনে স্বাভাবিক প্রসবের মতো নরমাল একটা বিষয় এবনরমাল বা অতিপ্রাকৃত ব্যাপার স্যাপারে পরিণত হয়!

সত্যিকার অর্থে নরমাল ডেলিভারি চাইলে, কি করা উচিত ও কেমন ডাক্তার দেখানো উচিত জানেন?

➡ অনেক দুয়া করতে হবে, যেনো কল্যানকর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নিতে হবে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি।

➡ প্রথমেই দুটো বিষয় মাথা থেকে বের করে দিতে হবে-

১) নরমাল ই হতে হবে, যেভাবেই হোক

২) বিখ্যাত ডাক্তার লাগবে

➡ যিনি ঘরের কাছে বসেন, খুব বেশি ব্যস্ত না, কিছুটা হলেও সময় দিতে পারবেন, এমন ডাক্তার বেস্ট।

➡ শেষের দিকে নরমাল ফ্রেন্ডলি ডাক্তার দেখালে ভালো, তবে বাচ্চা কোন নির্দিষ্ট ডাক্তারের হাতেই হতে হবে, এই ধারনা রাখার দরকার নেই।

উন্নত দেশে মিডওয়াইফরা ডেলিভারি করায়। ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন না হলে, ডাক্তার ছাড়াও পুরো ডেলিভারি হওয়া সম্ভব৷

➡ গর্ভকালীন সময়ে, এই বিষয়ে পড়াশোনা মন দিয়ে করা।

তাহলে সেলিব্রেটি ডাক্তার লাগবেনা, ইনশাআল্লাহ একজন মা তখন নিজেই অনেক কিছু বুঝতে পারবেন ও ডাক্তারকে সহযোগিতা করতে পারবেন৷

মা যদি কোওপারেটিভ হয়, তখন চিকিৎসক বা মিডওয়াইফ এর জন্যেও সেই রোগীকে নিয়ে নরমালের ট্রায়াল দেয়া সহজ হয়।

➡ ঢাল তলোয়ার ছাড়া যেমন যুদ্ধে যাওয়া ভয়ংকর, লেবার পেইন ম্যানেজমেন্ট না জেনে লেবার রুমে যাওয়াও ঠিক তেমন।

পেইন ম্যানেজমেন্ট জানলে, লেবারের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে জানলে, কঠিন সময়টাও আলহামদুলিল্লাহ ম্যানেজেবল হয়ে যায়৷

সব কথার শেষ কথা হলো, সুস্থ মা ও সুস্থ শিশু যেনো হয় মূল লক্ষ্য। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান যেমন চাইনা আমরা, তেমনি এটাও চাইনা- যেভাবেই হোক নরমাল ডেলিভারি করাতে গিয়ে প্রাণ হারাক কোন মা বা শিশু।

আসুন আমরা সেলিব্রেটি ডাক্তারের ওপর ভরসা না করে, দুয়া করি। নারীরা নিজেদের শিক্ষিত করি, গর্ভকালীন সময় নিয়ে পড়াশোনা করি।

“যে জানে আর যে জানেনা, উভয়ে কি সমান?…” ৩৯:৯

সূরা জুমারের এই আয়াতটা জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রের মতো, প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রেও একইরকম সত্যি। আসলেই জানার কোন বিকল্প নেই।

মায়েরা যেদিন প্রেগনেন্সি ও ডেলিভারি ইত্যাদি সম্পর্কে নিজেদের এডুকেটেড করবে, সেদিন সে আর সেলিব্রিটির পেছনে ঘুরবেনা, আর মায়েদের নাজুক সময়কে পুঁজি করে কোন হাসপাতাল বা চিকিৎসকও অনৈতিক ব্যাবসা করতে পারবেনা।

হাসনীন চৌধুরী
কো-ফাউন্ডার, রৌদ্রময়ী স্কুল ও মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার বিডি