Back

Oh! My water BROKE!

Oh! My water BROKE!
‘oh!! my water broke!!’
বলেই ব্যথায় কাঁত হয়ে যেতে দেখা যায় অনেক মুভিতে। আর তারপরের দৃশ্যেই ফুটফুটে সন্তান কোলে। happy scene.
বাস্তবতাও কি এরকমই? নাহ!! আবার কখনো কখনো এমন হতেও পারে। যদি এটি আপনার তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তান হয়। তার মানে আপনার body খুব ভালো করে জানে যে কী করতে হবে। আবার মাত্র ৬% মাদের এমনও হতে পারে যে কন্ট্রাকশন শুরুর আগেই পানি ভেঙ্গে গেল ও তেমন ব্যথা ছাড়াই লেবার প্রগ্রেস হতে শুরু করে দিলো। তাদের জন্যই আজকের লেখা।
এটা সত্যিই alarming, হঠাত যখন কোন রকমের ব্যথা বা কন্ট্রাকশন ছাড়াই পানি ভেঙ্গে যায়। আপনার এমনও মনে হতে পারে যে আপনি প্রস্রাব করে দিয়েছেন। আবার এমনও মনে হতে পারে যে পেটের ভেতর হঠাত একটা বেলুন ফুটে গিয়েছে। এমন অবস্থায় ভয় না পেয়ে confidently পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে আগে থেকেই।
কিছু কেসে দেখা যায় ৩৭ সপ্তাহের দিকে মেমব্রেন রাপচার হয় যেটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। আপনার পিচ্চিটা একটু একটু করে বড় হতে হতে গর্ভের বেলুনের মত amniotic sac যেটা সব ফ্লুইড ও আপনার সন্তানকে আগলে রেখেছিল, কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করে। আর তাই ফ্লুইড লিক করতে শুরু করে। এমন হলে কিছু ব্যপার আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
১। ফ্লুইডের পরিমাণ: আপানকে এটা নোট করে রাখতে হবে যে কতটুকু ফুইড লিক হচ্ছে। কারো জন্য এটা এক দুই ফোটাও হতে পারে আবার কারো জন্য অনেকও হতে পারে। পা গড়িয়ে পানি পড়বে এবং আপানর এমনও মনে হতে পারে যে পেটের ভেতর হঠাত একটা বেলুন ফুটে গিয়েছে। যদি পানির পরিমাণ অল্প হয় যে শুধু আপনার আন্ডার ওয়্যার সামান্য ভিজেছে তাহলে আপনার amniotic sac এ ছোট্ট ছিদ্র হয়েছে। এই ছোট্ট ছিদ্র ছাড়া amniotic sac পুরোটাই intact আছে। কিন্তু এটা amniotic fluid নাকি প্রস্রাব তা বুঝবেন কেমন করে? একটা টেস্ট এর মাধ্যমে। আপনি প্রতিবার দাঁড়ালেই যদি লিক করে তবে ধরে নিবেন এটা amniotic fluid. অনেক সময় আপনি শুয়ে থাকলে বা বসে থাকলে কিছুই বুঝবেন না। কারণ, ছিদ্রটা ছোটো তাই যেটুকু পানি বের হচ্ছে সেটা ভেজাইনাতেই থেকে যাচ্ছে। তারপর যখন আপনি দাঁড়াবেন তখন সব একেবারে বের হয়ে আসবে। এমন হলে একটু নোট রাখতে হবে যে কতটুকু পানি বের হলো। না, আপনাকে পানি মেপে মেপে নোট রাখতে হবে না। শুধু এটুকু মনে রাখবেন যে পানি বের হয়ে কি আপনার আন্ডার ওয়্যার ভিজেছিল নাকি প্যান্ট বা অনেক পানি গড়িয়ে ফ্লোরে পড়েছিল। ফ্লোর ভিজে যাওয়ার মত amniotic fluid দেখলে দ্রুত ডক্টরের পরামর্শ নিন।
২। ফ্লুইডের রংঃ amniotic fluid স্বাধারনত স্বচ্ছ্ব হয়। কখনো কখনো কিছুটা হলদেটে হতে পারে। কিন্তু যদি আপনি এতে কিছুটা সবুজাভ বা বাদামী রঙ খেয়াল করেন তবে সেটা মেকনিউয়াম। meconiuam হচ্ছে আপনার সন্তানের প্রথম মলত্যাগ। যদি তারা গর্ভে থাকা অবস্থাতেই মলত্যাগ করে তবে এটা তাদের ফুসফুসে চলে যেতে পারে। যার ফলে জন্মের পর তাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হতে পারে। স্বচ্ছ্ব amniotic fluid ছাড়া সবুজাভ বা বাদামী amniotic fluid দেখলে দ্রুত ডক্টরের পরামর্শ নিন।
৩। ফ্লুইডের গন্ধঃ amniotic fluid এ স্বাধারনত কোন গন্ধ থাকে না। যদি আপনি amniotic fluid এ কোন গন্ধ পেয়ে থাকেন তবে হতে পারে কোন ইনফেকশন হয়েছে। দ্রুত ডক্টরের পরামর্শ নিন। তবে আবার প্রস্রাবের গন্ধকে amniotic fluid এর গন্ধ ভেবে গুলিয়ে ফেলবেন না যেন।
যা হোক, যখন নিশ্চিত হলেন যে এটা amniotic fluid তখন আপনি কি সিধান্ত নিতে পারেনঃ যদি আপনার amniotic fluid স্বছ্ব দেখায় এবুং আপনি ও আপনার সন্তান হেলদি থাকেন তাহলে সাথে সাথে ইন্ডাকশনের প্রয়োজন নেই। সাধারণত ৪৫% মহিলারা পানি ভাঙ্গার পরও ১২ ঘনটার মধ্যে লেবরে যেতে পারে। ৭৭-৯৫% মহিলাদের ২৪ ঘনটার মধ্যে লেবরে যেতে পারে। আপনি যদি প্রথম সন্তানের মা হয়ে থাকেন তবে আরো কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
সুতরাং, যদি আপনার পানি ভেঙ্গে যায় তাহলে সাথে সাথেই এটা ভাবার কিছু নেই যে আর কোনোভাবেই ন্যাচেরাললি ডেলিভারি সম্ভব না। বরং উপরের ৩টি পয়েন্ট খেয়াল করতে হবে। ফ্লুইডের পরিমাণ, রং এবং গন্ধ।
 
আমাতুল্লাহ বিনতে মনির
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল