Back

বাচ্চার কান্না ও মায়ের মস্তিষ্কের গঠন

আপনি কি জানেন, একজন মায়ের মস্তিষ্কের কার্যাবলী তার শিশুর কান্না শোনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিবর্তিত হয়ে যায়?
এটা শুধু ভালোবাসা নয়, এটা শুধু আবেগ নয়, এটা বায়োলজি।
এমআরআই স্ক্যানে দেখা যায় যে, একটি শিশু কান্না করার সাথে সাথে তার মায়ের মস্তিষ্কের কিছু অংশ তাৎক্ষণিকভাবে আলোকিত হয়ে ওঠে।
তার শরীর সাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে উঠে। সে নড়াচড়া ও কাজ করার জন্য তাড়না অনুভব করতে থাকে।
তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির কাছে দৌড়া যাওয়ার অপ্রতিরোধ্য তাগিদ অনুভব করতে থাকেন মা টি।
অন্যরা যখন বলে, “ও ঠিক হয়ে যাবে” তখনও সে এমনটা অনুভব করতে থাকে।
এটা দুর্বলতা নয়, এটা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়। বরং এটি তার শরীরের কথা, যা না শোনা পর্যন্ত তার স্বস্তি নেই।
তার শরীর তাকে বলতে থাকে –
” কান্না করা শিশুটিও তোমার শরীরের অংশ। তোমার তাকে সাহায্য করতেই হবে”
একজন মায়ের শরীর তার সন্তানকে আলাদা মানুষ বলে বিবেচনা করার পরিবর্তে নিজের শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে বিবেচনা করতে থাকে।
এই কারণেই বাচ্চার কান্না শুনতে মায়েদের কষ্ট হয় এবং সেসময় দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলে মায়েদের অস্বস্তি বোধ হতে থাকে।
তাই বাচ্চার প্রতি আপনার অনুভূতির জন্য কখনো গিল্ট ফিল করবেন না। আপনি ওভার পজেসিভ বা ওভার রিঅ্যাক্টিং নন।
এটা কেবল মাতৃত্ব, যা আপনি অনুভব করেন। উপরন্তু, এটা এমন কিছু যা আপনি আস্তে আস্তে হয়ে উঠেন। প্রতিটি কোষে, প্রতিটি স্নায়ুতে, প্রতিটি সহজাত প্রবৃত্তিতে – আপনি মা হয়ে উঠেন।
আপনি খুব চিন্তাভাবনা করে করেন তা নয়, আপনি খুব বেশি কিছু করছেন তাও নয়। আপনি সন্তানের ভালবাসায় অন্ধ হয়ে গেছেন এমনটাও নয়।
এটা আপনার শরীরের তাড়না, যা আপনি অস্বীকার করতে পারেন না এবং অবহেলাও করতে পারেন না।
বস্তুত, একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের প্রতি অনুভূত ভালোবাসাও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে। এটা নিছক আবেগ নয়।
কিন্তু আশ্চর্যজনক ব্যাপার কি জানেন, বাবাদের এমন হয় না। বাচ্চা কান্না করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তাদের মস্তিষ্কে এমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।
 
রেজওয়ানা রাজ্জাক
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল