Back

কোর্সের নলেজ পেশেন্টর ওপর এপ্লাই করে ভালো ফল পেয়েছি

একদিন সিনিয়র একজন আপুর গল্প শুনছিলাম। উনি প্রেগন্যান্সির শেষ সময়ে এসে কিভাবে নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন। ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও, সবকিছু জানা থাকা সত্ত্বেও অনেক ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। এটা শুধু উনার একার গল্প না, এরকম আরো অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। অপরদিকে প্রিনেটাল কোর্সের রিভিউ দেখতাম, আপুরা কী সুন্দর করে পেইন ম্যানেজ করেছেন। শেষ সময়টায় ঘাবড়ে না গিয়ে কিভাবে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে সুন্দরভাবে ঠান্ডা মাথায় সময়টা পার করেছেন।
ঠিক একই সময়ে আমার গাইনী ডিপার্টমেন্টে প্লেসমেন্ট ছিল। তো এসব চিন্তা করে কোর্সে এনরোল করে ফেললাম। এবং আলহামদুলিল্লাহ, আমার কাছে খুবই গোছানো এবং ফ্রুটফুল মনে হয়েছে কোর্সটি।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখান থেকে শেখা কিছু কিছু বিষয় আমি সরাসরি আমাদের পেশেন্ট এর উপর এপ্লাই করতে পেরেছি এবং ভালো ফল পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। যেমন- লেবার টেবিলে পেশেন্ট শুয়ে থাকে, এবং তাকে বারবার পুশ করতে বলা হয়। কিন্তু এইসময়টায় তাকে একটু পেছনে সাপোর্ট দিয়ে কিছুটা বসার মত পজিশনে রাখলে খুব দ্রুত বেবি চলে এসেছে।

লেবারের পেশেন্টদের হাঁটাহাঁটি, স্কোয়াট করিয়ে দ্রুত বেবি ডেলিভারি হয়েছে।
বেশিরভাগ পেশেন্টই প্রেগন্যান্সিতে ইন্টিমেসিকে হারামের পর্যায়ে নিয়ে যায়, কিন্তু শেষ সময়ে এটা যে প্রয়োজনীয়, সেটা এখনো অনেকেই জানেন না।

প্রেগন্যান্সির সময় রেগুলার চেকআপে আসা পেশেন্টদের পরামর্শ দেবার ক্ষেত্রে, বিশেষভাবে শেষ সময়ের করণীয়গুলো সুন্দর করে বলার চেষ্টা করেছি।

আমার কাছে বারবার মনে হয়েছে, গাইনী ওয়ার্ড শুরুর আগেই যদি কোর্সটা করতে পারতাম, তাহলে আরো ভালো হতো। এবং আমার কাছে এতটাই ভালো লেগেছিলো, রৌদ্রময়ীর সাথে কাজ করার জন্য আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সেই ইচ্ছে থেকেই, আমার অতি ক্ষুদ্র জ্ঞান কারো উপকারে আসতেও পারে ভেবে রৌদ্রময়ীর সাথে পথচলা।

ডা: ফারহানা তাহসিন
রৌদ্রময়ী প্রিনাটাল কোর্স, ব্যাচ ১১