Back

সোনামণির হাত রাঙাতে যে ভুল কখনো করবেন না

ঈদ আসছে আর হাতে মেহেদী দিবো না তাই কি হয়! কিন্তু আমরা মায়েরা আবেগের বসে যে মারাত্মক ভুলটা করে বসি তা হলো বাজারের হাইলি ক্যামিকেলযুক্ত ইন্সট্যান্ট মেহেদীগুলো আমাদের বাচ্চাদের হাতে লাগিয়ে দেই। কারণ অর্গানিক মেহেদীতে রং হতে অনেক লম্বা সময় লাগে। এতো সময় কোনো বাচ্চাকেই তা পড়িয়ে রাখা সম্ভব না। তাই দ্রুত রং হওয়ার জন্য আমরা এই শটকার্ট পদ্ধতিই বেশি পছন্দ করি। কিন্তু আপনি কি জানেন এইসব মেহেদী (?) কতোটা ক্ষতিকর আর কতো বড় বড় দূর্ঘটনার কারণ?

সবাই চায় তার আদরের বাচ্চাকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাটি করে রাখতে। নিজের সব শখ আহ্লাদ যেন বাচ্চাকে ঘিরেই। কিন্তু বাচ্চাদের সাজসজ্জা রাখতে হবে তাদের উপযোগী করে। বাজারের মেহেদীতে ইন্সট্যান্ট রং হওয়ার জন্য অতি উচ্চ মাত্রায় ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয় যা আমাদের বড়দের ত্বকের জন্যই খুব ক্ষতিকর। তাহলে ভাবুন বাচ্চাদের নাজুক ত্বকের জন্য তা কতোটা অনুপোযোগী। সত্যি বলতে এসবে মেহেদী পাতার ছিটেফোঁটাও থাকে না। তাই একে ইন্সট্যান্ট মেহেদী না বলে রং হওয়ার ইন্সট্যান্ট ক্যামিকেল বললেও ভুল হবে না। এসব ব্যবহার করে ত্বকে এলার্জি, ফুসকুড়ি, এমনকি পুড়ে চামড়া উঠে যাওয়ার উদাহরণও আছে ভুরি ভুরি। লাগানোর কয়েক মিনিট পর থেকেই জ্বালাপোড়া আর রং উঠার সময় চামড়া সহ উঠার নজির তো আছেই। তাই ঈদের আনন্দকে মাটি না করে আমাদের উচিত এসব মেহেদী থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা।

আমি তো বড়দেরকেও এমন মেহেদী লাগানোর কথা বলবো না। বরং তার পরিবর্তে অর্গানিক মেহেদী ব্যবহার করা যেতে পারে। এখন বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে হেনা পাউডার বা হাতে বানানো অর্গানিক কোণ মেহেদী পাওয়া যায় যা দিয়ে সুন্দর ডিজাইনও করা যায় আবার রং-ও হয় চমৎকার। এগুলো পুরোপুরি ক্যামিকেল মুক্ত কিনা তা বলা না গেলেও বড়দের ত্বকের জন্য অনেকটা সেইফ। তবে এগুলোও বাচ্চাদের না লাগানো ভালো। বাচ্চাদের জন্য সব থেকে সেইফ হয় যদি নিজে মেহেদী পাতা সংগ্রহ করে পেস্ট করে ব্যবহার করা যায় বা অথেন্টিক কোথাও থেকে হেনা পাউডার সংগ্রহ করা যায়।

একটা কথা মাথায় রাখবেন, ঈদ মানে আনন্দ। এইদিন আমরা অনেক আনন্দ করবো। কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে যেন শখের বসে নিজেদের কোনো বিপত্তি না বাধিয়ে ফেলি।

রেজওয়ানা রাজ্জাক
প্রিনেটাল কোর্স পার্টিসিপ্যান্ট ও এসোসিয়েট, রৌদ্রময়ী স্কুল