Back

Dead Cockroach

যখনই যাকারিয়্যা তার কাছে তার কক্ষে প্রবেশ করত, তখনই তার নিকট খাদ্যসামগ্রী পেত। সে বলত, ‘হে মারইয়াম, কোথা থেকে তোমার জন্য এটি’? সে বলত, ‘এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে চান বিনা হিসাবে রিয্ক দান করেন’।[০৩:৩৭]
 
অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কান্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম! তখন তার নিচ থেকে সে তাকে ডেকে বলল যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন’। ‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে’। ‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও।… [১৯:২৩-২৬]
 
বুঝতেই পারছেন উপরের দুটি আয়াতে মারিয়াম আ. এর কথা বলা হচ্ছে। খেয়াল করুন। আগে কিন্তু আল্লাহ মারিয়াম আ. কে কোনো কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই খাদ্যসামগ্রী দিতেন। যা দেখে যাকারিয়্যা আ. অবাক হয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।
 
আচ্ছা, যে আল্লাহ আগে মারিয়াম আ. কে কোনো কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই খাদ্যসামগ্রী দিতে পেরেছিলেন তিনি কি পারতেন না লেবারের কষ্টের মধ্যে থাকা মারিয়াম আ. এর মুখের সামনে খেজুর এনে হাজির করতে। নিশ্চই পারতেন। কিন্তু না! আল্লাহ আল ‘আলিম। তিনি তো ঠিকই জানেন এখন এই মুহূর্তে মারিয়াম আ. এর জন্য কী বেশী প্রয়োজন। চিৎ হয়ে Dead Cockroach এর মত শুয়ে থাকা নাকি খেজুর গাছের কান্ড ধরে নিজের দিকে নাড়া। যে মারিয়াম আ. এক সময় কোনো কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই খাবার পেত তাঁকেই এখন এই লেবারের মত কঠিন সময়ে, দূর্বল সময়ে পরিশ্রম করে খেজুর খেতে হলো। আল্লাহ তাঁর জন্য ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ পানির ব্যবস্থা করলেন। এবং বললেন, ‘তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও।’ চোখ জুড়াও মানে Relaxed থাকো।
 
এর থেকেই বোঝা যায় ল্যাবর এর সময় Dead Cockroach এর মত পড়ে থেকে ডক্টরের হাতে সব ছেড়ে দেয়াই আমাদের কাজ না। Labor is something active and worth working for. Active থাকা মানে কিন্তু আমাকে এই করতে হবে সেই করতে হবে ভেবে ভেবে panic করা না। You must be active and relaxed at the same time.
লেবারের সময় মুভমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত লেবার প্রগ্রেস হোক চান? move your body. লেবার কম্ফোর্ট্যাবল হোক চান? move your body. Dead Cockroach এর মত পড়ে থাকা কেয়ার প্রভাইডারের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। কিন্তু মা ও শিশুর জন্য মোটেই সুবিধাজনক নয়। বাচ্চার ওজন রক্ত প্রবাহ কমানো মাধ্যমে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। কারণ, মেজর রক্ত নালিগুলো মায়ের মেরুদন্ডে থাকে। এর ফলে ফিটাল ডিস্ট্রেস হতে পারে। যা পরবর্তিতে সিজারারের দিকে মোড় নেয়। তাছাড়া, কন্ট্রাকশনের সময় তো জরায়ু বেশ স্থান পরিবর্তন করে। তাই চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে তাহলে তা গ্রেভিটির বিপক্ষে কাজ করা হয়। ফলত, নিজের মাসেলের অতিরিক্ত কাজ বাড়িয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত ব্যথা নিজের ঘাড়ে নেয়া হয়।
 
আমরা যদি কোনো মাকে তার instinct এর উপর ছেড়ে দেই তাহলে সাধারনত সে লেবারের জন্য upright position টা-ই বেছে নেবে। তাছাড়া কোরআনের আয়াত থেকে বোঝা যাচ্ছে upright position -ই স্ট্যান্ডার্ড ও নরমাল।
 
সাধারণত ব্যথার কারণে লেবারের সময় ঠিক একই পজিশনে থাকা যায় না। অনেকে তো লেবারের সময় অনবরত পজিশন পাল্টাতে থাকেন। Let your body be your guide. যে পজিশন আপনার জন্য আরামদায়ক হয় সেভাবেই থাকুন। শুধু খেয়াল রাখুন আপনি যেন চিৎ হয়ে শুয়ে না থাকেন। লেবারের সময় বিভিন্ন পজিশন সন্তান জন্ম দেয়া দ্রুত ও সহজ করে। পজিশন পাল্টানো লেবার পেইন ম্যানেজ করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে, early ও active ল্যাবরের সময় হাঁটাহাঁটি করা ও আপরাইট পজিশনে থাকা লেবার দ্রুত করে ও সিজারের ঝুঁকি কমায়।
 
Early লেবারের সময় আপনি কন্ট্রাকশনেগুলোকে হয়তো ওতোটা পাত্তা দিবেন না যতটা পরবর্তিতে দিবেন। এ সময় আপনি ঘরের মধ্যেই বা আশেপাশে একটু হাঁটাহাঁটি করে নিতে পারেন। অথবা যদি ক্লান্ত থাকেন তাহলে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন। কিংবা দুটি কন্ট্রেয়াকশনের মধ্যবর্তি সময়ে এক পাশে ফিরে শুয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন। আর active লেবারের সময় আপনি নানান পজিশন নিয়ে পেইন ম্যানেজ করতে হবে। শুধু মাত্র চিৎ হয়ে Dead Cockroach এর মত শুয়ে থাকতে পারবেন না। ওভাবে শুয়ে থাকলে আপনার নিজেরই কষ্ট বারবে। কারণ, এই পজিশন আপনার জরায়ু কমপ্রেস করে ফেলে যার ফলে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। যা কন্ট্রাকশঙ্গুলোকে কম effective করে দেয় এবং আপনাকে দূর্বল করে তোলে।
 
একজন মাকে নিজের মত থাকতে দিলে তিনি সাধারণত লেবারের সময় নিজের জন্য আরাম দায়ক পজিশনই পছন্দ করেন। Dead Cockroach এর মত শুয়ে থাকা পছন্দ করেন না। যদিও কখনো কখনো ব্যথার তিব্রতার জন্য তিনি অস্থির থাকতে পারেন। তখন পার্টনার বা লেয়ার গিভার তাকে নানা রকম পজিশনের কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন।
 
দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাঃ অনেকেই active লেবরের সময় দাঁড়িয়ে থেকে বা হাঁটাহাঁটি করে সুন্দর পেইন ম্যানেজ করতে পারেন। active লেবরের সময় সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করা pelvis খুলতে সহায়তা করে। কন্ট্রাকশনের সময় আপনি থামতে পারেন। ও্যালে বা আপনার পার্টনারের গায়ে হেলান দিয়ে একটু বিশ্রাম করে নিতে পারেন।
 
হালকা দুলতে থাকা বা স্লো ডান্স করাঃ রিল্যাক্সেশন ব্রিদিং এর সাথে সাথে সামনে পিছে হালকা দুলতে থাকা active লেবারের সময় আরামদায়ক হতে পারে। এটা আপনি দাঁড়ানো অবস্থায় করতে পারেন কিংবা আপনার পার্টনারের সাথে স্লোডান্সের মত করতে পারেন। অথবা খুব ক্লান্ত হয়ে গেলে রকিং চেয়ারে সোজা হয়ে বসেও করতে পারেন।
 
Upright position এ বসাঃ সোজা হয়ে পিঠের পিছনে বালিশ দিয়ে চেয়ারে বা খাটে বসতে পারেন। অথবা কিছুটা সামনে ঝুঁকে বসতে পারেন। এতে আপনার পিঠে বা কোমরে চাপ পড়বে না। কিংবা টেইলর সিটিং এ বসেও কিছুটা আরাম করতে পারেন। অথবা কোনো হাতলবিহীন চেয়ারে উলটো হয়ে বসতে পারেন। চেয়ারের হেলান দেয়ার জায়গা ও আপনার পেটের মাঝে একটা বালিশ দিয়ে নিতে পারেন আরামের জন্য। মাথাটা চেয়ারে রেখে রেস্ট করতে পারেন। এই পজিশনে চাইলে আপনার পার্টনারকে বলতে পারেন যেন আপনার পিঠে আলতো করে মাসাজ করে দেন। কিংবা এই পজিশনে বসে হালকা গরম শাওয়ারও নিতে পারেন।
 
হামাগুড়ি দেয়ার মতঃ হামাগুড়ি দেয়ার মত পজিশন লেবারের সময় বা ডেলিভারির সময় বেশ আরামদায়ক। এই পজিশনে ব্যাক পেইন থেকে রিলিফ পেতে পারেন। তবে কিছুক্ষণ এই পজিশনে থাকলে হাত ব্যথা হয়ে যেতে পারে। তখন দেহের সামনের অংশ ২/৩ টা বালিশের উপর ভরে দিয়ে রাখলে আরাম পাবেন।
 
বার্থ বলের সাহায্যেঃ বার্থ বলের উপরও বসতে পারেন সামনের দিকে ঝুঁকে। এই পজিশন আপনাকে একই সাথে squat করতে এবং hips মুভ করতে সহায়তা করে। এ সময়ে আপনার পার্টনারকে বলতে পারেন যেন আপনার পিঠে আলতো করে মাসাজ করে দেন। অথবা কিছুর উপরে বার্থ বল রেখে আপনি পা ফাকা করে আরামে দাঁড়িয়ে বার্থ বলের উপর ভর রেখে দাঁড়াতে পারেন। দাঁড়িয়ে হালকা দুলতে পারেন। এই পজিশনটা আপনার বেবিকে rotate এবং descend হতে সাহায্য করবে।
 
পরিশেষে একটি কথা, এই পজিশনগুলো বাদ দিয়ে আপনার হয়তো বিছানায় শুয়েই থাকতে হতে পারে যদি আপনি systemic medication এর ভেতর দিয়ে যান অথবা epidural নিয়ে থাকেন। আর ন্যাচারাল ডেলিভারির জন্য আপনাকে পুরো প্রেগন্যান্সিতেই শারীরিক, মানসিন ও আত্মিক প্রস্তুতি নিতে হবে। হুট করে লেবার রুমে গিয়ে ভাবলেন, ‘আমি কোনো মেডিক্যাল ইন্টারভেশন চাই না।’ তাহলে কিন্তু হবে না।
 
আমাতুল্লাহ বিনতে মনির
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল