Back

DELAYED CORD CLAMPING (দেরীতে নাড়ী কাটা

প্রসবের পর মাত্র ৩ মিনিটের জন্য করা ছোট্ট একটি কাজ আপনার শিশুর পরবর্তী ৬ মাসের আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে পারে। তাছাড়া মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রেও এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হচ্ছে ‘ডিলেইড কর্ড ক্লাম্পিং’ বা ‘একটু দেরি করে নাভিরজ্জু কাটা’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও প্রসবের পর অন্তত ৩ মিনির দেরি করে নাভিরজ্জু কাটতে সুপারিশ করে। এর রয়েছে বেশ কিছু উপকারিতা। যেমন–

👉 রক্তে হিমোগ্লোবিন এবং আয়রনের মাত্রা বৃদ্ধি-
একটু দেরি করে নাভিরজ্জু (কর্ড) কাটার ফলে প্ল্যাসেন্টা থেকে অতিরিক্ত পরিমাণ রক্ত নবজাতকের দেহে প্রবাহিত হতে পারে, যা শিশুর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে করে শিশুর আয়রনের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় যা পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে।

👉 স্টেম সেল (Stem Cell) সংগ্রহ-
ডিলেইড কর্ড ক্লাম্পিং এর কারণে স্টেম সেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কোষ শিশুর দেহে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আরও বেশি সময় পায়। এই কোষগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন টিস্যু এবং অঙ্গের বিকাশে সহায়তা করে।

👉 রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি-
এটি নবজাতকের ফুসফুসে রক্ত প্রবাহের স্বাভাবিক রূপান্তরে সাহায্য করে। যখন শিশু প্রথম শ্বাস নেয়, তখন তার ফুসফুস অক্সিজেনের জন্য প্রস্তুত হয়। ডিলেইড ক্লড ক্লাম্পিং এই প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

👉 বিশেষ করে প্রিম্যাচুয়ড নবজাতকদের জন্য উপকারী-
অকাল বা অপরিণত শিশুদের জন্য এটি আরও বেশি উপকারী হতে পারে। এর মাধ্যমে তাদের শরীরে অতিরিক্ত রক্ত সরবরাহ হয়, যা তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে স্থিতিশীল করতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

একটা সময় এমন ধারণা করা হত যে, প্রসবের পরপরই কর্ড কাটা না হলে শিশুর দেহের রক্ত পুনরায় প্লাসেন্টাতে চলে যাবে। সুবহানাল্লাহ, গবেষণার মাধ্যমে এখন এটা প্রমাণিত যে, নাভিরজ্জুতে থাকা শিশুর দেহ থেকে প্লাসেন্টাতে রক্ত পরিবহনকারী শিরাটি প্রসবের পর আপনা থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যার ফলে প্লাসেন্টা থেকে শিশুর শরীরে রক্ত প্রবাহিত হলেও, শিশুর দেহ থেকে কোনো রক্ত পুনরায় প্লাসেন্টাতে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।

ডিলেইড ক্লড ক্লাম্পিং একটি সহজ এবং নিরাপদ প্রক্রিয়া, যা নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং বিকাশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বা সুপারিশ করা হয় না। যেমন, শিশু জন্মের পর যদি শ্বাস না নেয় বা অন্য কোনো কারণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হয় (যেমন, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র শ্বাসরোধ), তাহলে যত দ্রুত সম্ভব নাভিরজ্জু কেটে শিশুকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নিতে হবে।
যদি প্রসবের সময় মায়ের অত্যধিক রক্তপাত হয়, তবে ডিলেইড ক্লাম্পিং না করে দ্রুত নাভিরজ্জু কেটে দেওয়া হতে পারে। যদিও গবেষণায় দেখা গেছে যে ডিলেইড ক্লাম্পিং মায়ের রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায় না, তবে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকেরা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
যদি প্লাসেন্টা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে, যেমন প্লাসেন্টা অ্যাব্রাপশন (placental abruption) বা প্লাসেন্টা প্রেভিয়া (placenta previa), সেক্ষেত্রে ডিলেইড কর্ড ক্লাম্পিং করা হয় না।

এমন কোনো পরিস্থিতি উদ্ভুত না হলে ডিলেইড কর্ড ক্লাম্পিং হাইলি রিকমেন্ডেড, এর সাথে ‘স্কিন টু স্কিন কেয়ার’ বা ‘ক্যাঙ্গারু কেয়ার’ এড করা হলে সেটা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কিন্তু দারুণ একটা ব্যাপার হবে। বিশেষ করে তাদের হিলিং এর জন্য ব্যাপক কার্যকর।

✍️ রেজওয়ানা রাজ্জাক
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল