Back

কিমা ভুনা: প্রেগন্যান্সি স্পেশাল রেসিপি

মাংস প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন ও হিম আয়রনের ভালো একটা উৎস। এই আয়রন টা আমাদের শরীরে সহজে শোষিত হয়। ছোট বাচ্চারা যখন মাংস খেতে চায় কিন্তু চিবোতে পারে না,দেখা যায় চিবিয়ে ফেলে দেয়। তখন মায়েরা চিন্তায় পড়েন—কীভাবে ওদের মাংস টা খাওয়ানো যায়। বিশেষ করে দাঁত উঠার পর ও অনেক বাচ্চা গরুর মাংস টা খেতে পারে না।। নরম এই কিমা ভুনাটা ঠিক সেই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে। এটা যেমন খেতে সুবিধা, তেমনি বাচ্চাদের জন্য ভীষণ পুষ্টিকর।
এমনকি গর্ভাবস্থার শুরুতে যাদের ঝাল-মশলার গন্ধে অস্বস্তি হয়, তারাও নিজেদের রুচিমত মশলা কম বেশী দিয়ে এই হালকা স্বাদের কিমা ভুনা ভাত বা রুটির সাথে সহজেই খেতে পারবেন।

🍲 কিমা ভুনা

🥩 উপকরণ (২৫০ গ্রাম কিমার জন্য)
গরু/মুরগির কিমা – ২৫০ গ্রাম (প্রায় ১ ½ কাপ)
পেঁয়াজ কুচি – ¼ কাপ
আদা বাটা – ½ চা চামচ
রসুন বাটা – ½ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া – ¼ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া বা গোলমরিচ গুঁড়া – ¼ চা চামচ (স্বাদমতো)
ধনে গুঁড়া – ¼ চা চামচ
জিরা গুঁড়া – ¼ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়া – ¼ চা চামচ
আস্ত গরম মশলা – ২টি এলাচ, ১টি তেজপাতা, ১ টুকরা দারুচিনি
লবণ – স্বাদমতো
সয়াবিন অয়েল/সরিষার তেল– ১ ½ টেবিল চামচ
পানি – ½ কাপ
গাজর কুচি, মটরশুঁটি বা পছন্দমতো সবজি – ½ কাপ (ঐচ্ছিক)

🍳 প্রস্তুত প্রণালী

1. প্যানে তেল গরম করে আস্ত গরম মশলা দিয়ে ফোড়ন দিন।
2. পেঁয়াজ দিয়ে হালকা বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
3. এবার আদা-রসুন বাটা দিয়ে নাড়ুন।
4. কিমা দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ভাজুন যতক্ষণ না পানি শুকিয়ে আসে।
5. মশলার গুঁড়া (হলুদ, জিরা, ধনে, মরিচ, গরম মশলা) ও স্বাদমতো লবণ মিশিয়ে দিন।
6. সবজি (গাজর, আলু, মটরশুঁটি, টমেটো ইত্যাদি) দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
7. ½ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে প্রায় ১০ মিনিট রান্না করুন।
8. সবজি নরম হয়ে গেলে ও কিমা ভালোভাবে সেদ্ধ হলে নামিয়ে নিন এবং পছন্দমত পরিবেশন করুন।

এটা নানা রকমভাবে পরিবেশন করা যায়—
বাচ্চাদের জন্য ভাত বা খিচুড়ির সাথে মিশিয়ে দেওয়া যায়।
গরম পরোটার ভেতরে সালাদ, ঘরে তৈরি সস বা মেয়নিজ দিয়ে রোল বানিয়ে।
পাউরুটির মধ্যে রেখে স্যান্ডউইচ হিসেবে।
ভাত বা রুটির সাথে ভুনা তরকারির মতো।

আবার সিদ্ধ আলুর সাথে মিশিয়ে গোল আকারে চপও বানানো যায়।
কিমা ভুনা তৈরি করে নরমাল ফ্রিজে ৩-৪ দিন সংরক্ষণ করা যায়। বা কিমাটা ডীপ ফ্রিজে ৩ -৪ মাস পর্যন্ত রাখা যাবে। যে কোন সময় ঝটপট রান্না করা যায়। এখানে গরুর পরিবর্তে মুরগীর কিমা ও ব্যবহার করা যায়। ৮ মাসের পর থেকে বাচ্চা কে গরুর মাংস দেওয়া যাবে৷ প্রথমে অল্প পরিমাণে দিয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চার হজম হচ্ছে কিনা বা এলার্জি জনিত কোন সমস্যা আছে কিনা।

ফারইয়াব হাসান
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল