Back

প্রসবব্যথার আসল কাজ: শুধু জরায়ু মুখ খোলা নয়

“পুরো ১০ ঘন্টা প্রসবব্যথা সহ্য করেছি, জরায়ু মুখ একটুও খুলে নি, তাই সিজারে যেতে হয়েছে” – এই টাইপের কথাগুলো শুনলে এত হতাশ লাগে!
 
কিছু মা কেন যে প্রেগনেন্সি, প্রসবব্যথা ও প্রসব সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বুঝে না, তা আমার বুঝে আসেনা। এই উদাহরণটা নিয়েই কথা বলি –
প্রথম প্রেগনেন্সিতে একজন মায়ের প্রসবব্যথা ১৫ থেকে ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক। তাছাড়া ১০-১২ ঘন্টা প্রসবব্যথা হওয়ার পরও যদি জরায়ু মুখ একটুও না খুলে, সেটা কিন্তু এটা প্রমাণ করে না যে ওই মায়ের একটুও উন্নতি হয়নি। অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে এইটুকু সময় অপেক্ষা করেই সিজারিয়ান সেকশনে যাওয়ার কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
 
প্রসবব্যথার সময় শুধুমাত্র জরায়ু মুখ খোলা ছাড়াও একজন নারীর দেহে আরো অনেক অনেক কার্যকলাপ চলতে থাকে। এই দিকটা ছাড়াও অন্য আরো অনেক দিকে তার উন্নতি হতে পারে।
প্রসব ব্যথার সময় বাচ্চা সহ পুরো জরায়ুকে সামনে দিকে এগিয়ে এসে বার্থ ক্যানেলের সাথে লাইন আপ হতে হয়।
বাচ্চাকে পেলভিস নামক হাড়ের ভেতর দিয়ে নিচের দিকে নেমে আসতে হয়, যাকে আমরা ‘স্টেশন’ হিসেবে মেজার করে থাকি।
পেলভিসের মাঝামাঝিতে যখন বাচ্চার মাথা অবস্থান তখন সেটাকে ‘স্টেশন জিরো’ বলা হয়। যত উপরের দিকে থাকবে তত সেটা ‘মাইনাস স্টেশন’ এবং নিচের দিকে নেমে আসলে ‘প্লাস স্টেশন’। প্রসবব্যথার সময় কিন্তু বাচ্চার এই স্টেশনেরও পরিবর্তন হয়।
 
তাছাড়া প্রথম প্রেগনেন্সিতে জরায়ু মুখকে খোলার আগে তাকে পাতলা হতে হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় জরায়ু মুখের পুরুত্ব প্রায় ৩.৫ সেমি থেকে ৪ সেমি হয়ে থাকে। এই ৪ সেমির জরায়ু মুখ কিন্তু আগে পুরোটা পাতলা হবে তারপর খোলা শুরু করবে। এই পাতলা হওয়ার কাজটাও কিন্তু প্রসবব্যথার সময়ই হবে।
এখন আপনারাই বলেন, দীর্ঘক্ষণ ধরে প্রসবব্যথা হচ্ছে কিন্তু জরায়ু মুখ খুলে নি, তার মানে কি সত্যিই সেই মায়ের কোন উন্নতি হয়নি? অন্য কোনো জটিলতা না থাকার পরও কি তাকে অবধারিত ভাবে সিজারের মধ্য দিয়ে যেতে হবে?
হতে পারে তার জরায়ু মুখ খোলা শুরু করেনি কিন্তু সেটা প্রায় পুরোটা পাতলা হয়ে এসেছে, তার জরায়ুটা সামনের দিকে এগিয়ে এসে বার্থ ক্যানেলের সাথে লাইন আপ হয়ে গিয়েছে, বা তার বাচ্চা অলরেডি স্টেশন মাইনাসে অবস্থান করছে। এগুলো কিন্তু জরায়ু মুখ খোলার মতই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
 
এসব বিষয় যে মা জানে না, তিনি তো এমন পরিস্থিতিতে ঘাবড়ে যাবেনই। সিজার ছাড়া তিনি আর অন্য কোন উপায় চোখে দেখবেন না।
আর ঠিক এই কারণেই মায়েদের প্রসবব্যথা ও প্রসব সংক্রান্ত জ্ঞানগুলো অর্জন করা প্রয়োজন। যাতে এমন পরিস্থিতিতে তারা অহেতুক ঘাবড়ে না যান। কোনটা স্বাভাবিক এবং কোনটা অস্বাভাবিক সেটা বুঝতে পারেন, এবং সে অনুযায়ী কার্যকর ও নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
 
✍️ রেজওয়ানা রাজ্জাক
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল
সার্টিফাইড চাইল্ডবার্থ এডুকেটর, AMANI Birth