Back

ব্যস্ত মায়েদের রামাদান গাইডলাইন

ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ব্যস্ত গৃহিণী মায়েরা কীভাবে রামাদানে সফল হতে পারি?
 
🔸 সর্বপ্রথম মাথায় রাখা বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো, দুধ খাওয়ানো, ন্যাপি পরিষ্কার করা, কান্নায় আদর দেয়া, রাতে জেগে থাকা — সব কিছুই ইবাদত হিসেবে কাউন্ট হবে ইনশাআল্লাহ। নিয়ত শুদ্ধ করে এই প্রতিটা কাজ রামাদানে করলেও ইবাদত হবে ইনশাআল্লাহ, তাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
 
🔸 দ্বিতীয়ত: নিজেদের বাস্তবতা এবং পরিস্থিতি বুঝে পরিপূর্ণ পরিকল্পনা করুন‌ রামাদানের আগেই। যেমন কোন দিন কি রান্না হবে, কোন সন্তানকে কোন দায়িত্ব দিব, আগে থেকে ঈদ ও রামাদানের শপিং ঠিক করা, ইফতারের মেন্যু ঠিক করে রাখা, ঘরের বড় বড় পরিষ্কারের কাজগুলো করে ফেলা ইত্যাদি।
 
🔸 কখনোই অন্যের সাথে নিজের বাস্তবতা তুলনা করে হতাশ হবেন না, সবার বাস্তবতা ভিন্ন। ছোট বাচ্চার মায়েরা নিজেদেরকে অবিবাহিতদের সাথে তুলনা করে হতাশ হবেন না। আপনি মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন দেখে আপনি কারো চেয়ে পিছিয়ে যান নি।
 
🔸ব্যস্ত মায়েরা “Quality Over Quantity” তে ফোকাস করুন।
২০ রাকাআত তারাবীহ পড়া বাধ্যতামূলক নয়। আপনি বরং ৪ রাকআত পড়ুন, তবে সুন্দর কোয়ালিটি সহকারে, পরিপাটি করে আল্লাহকে ভালোবেসে পড়ুন। ১ পারা কুরআন প্রতিদিন পড়তে পারাও বাধ্যতামূলক নয়, আপনি বরং ১০-১৫ কুরআন মিনিট পড়ুন কোয়ালিটি সহকারে।
 
🔸 ছোট ছোট সূরা এবং দুয়া মুখস্ত প্রজেক্ট! বাচ্চাকে সাথে নিয়েই ছোট দুয়া গুলো মুখস্ত করুন, তাহলে ছোট সন্তানরাও আগ্রহী হবে। ছোট ছোট মাসনুন দুয়া, মা এবং সন্তান মিলে একসাথে মুখস্থ করার কার্যক্রম শুরু করুন এই রমাদানে।‌ দোয়া গুলোর অর্থ নিয়ে বাচ্চার সাথে খোলাখুলি আলোচনা করবেন। এতে আপনার দোয়াও পড়া হয়ে গেল এবং বাচ্চাকে দ্বীন শিক্ষাও দেওয়া হল।
 
🔸 একেবারে ছোট বাচ্চা যারা যেমন ১ বছরের কম, যাদের দুয়া মুখস্তের বয়স হয়নি – তাদের সামনে অনেক বেশী কুরআন ছেড়ে রাখবেন রামাদানে।
 
🔸 পিঠাপিঠি বাচ্চার মায়েদের জন্য একমনে মনোযোগ ধরে রেখে কিছু করা আরও‌ অনেক বেশি কঠিন। তারা সারাক্ষণ মুখে মুখে জিকির করবেন রামাদানে। অনেক বেশী দুয়া করবেন ফাঁকে ফাঁকে। বুদ্ধি খাটিয়ে ইবাদত করবেন স্পেশালি যাদের বাবু, ঘর সংসার নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় । বুদ্ধি খাটিয়ে ইবাদত বলতে সুরা ইখলাস তিনবার পড়ে নিবেন তাহলে পুরো একবার কুরআন কমপ্লিট করার সওয়াব আপনার আমলনামায় লেখা হয়ে যাবে। “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” জিকিরটা বেশি করবেন। তাহলে প্রতিবার এই জিকিরের বিনিময়ে জান্নাতে আপনার জন্য একটা করে গাছ লাগানো হবে সুবহানাল্লাহ
 
এই তো হয়ে গেল, ব্যস্ত মায়েদের সংক্ষিপ্ত সুন্দর রামাদান গাইডলাইন …
 
শারিন সফি অদ্রিতা
প্রিনাটাল ইন্সট্রাক্টর রৌদ্রময়ী স্কুল

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *