Back

পিটোসিন ও মত প্রকাশের গল্প

জানুয়ারি ২০২৪

গুলশানা রিতু আপুর এটা সেকেন্ড প্রেগন্যান্সি। ১ম প্রেগন্যান্সিতে উনি রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল কোর্স করেছেন। ১ম বেবি নরমাল ডেলিভারিতে হয়েছিল, তবে বেশ কিছু ভোগান্তি হয়েছিল উনার।

এবার ২য় প্রেগন্যান্সিতে আপু আমার দৌলা সার্ভিস নেন। শেষ দিকে ঘন ঘন ফলস পেইন আসা, লেবারের স্পষ্ট লক্ষ্মণ থাকা, কিন্তু লেবার এস্টাবলিশড না হওয়া এমন চলছিল অনেক দিন ধরে। 

নির্বাচনের কারণে টানা কিছুদিন ছুটি পাওয়ায় উনার হাজব্যান্ড ইন্ডাকশনে যেতে চাচ্ছিলেন, যেহেতু পরে ছুটি ম্যানেজ করা ও উনার উপস্থিতি নিশ্চিত করা অসুবিধা হতে পারে। এবং উনি উপস্থিত থেকে সব দেখভাল করতে চাচ্ছিলেন। 

ডাক্তার উনাদের ইন্ডাকশন নেয়ার জন্য ভর্তি হয়ে যাওয়া বা আসল লেবার পেইন আসার জন্য অপেক্ষা করা এই দুইটি অপশনই দেন। আপুর বাসা থেকে ইন্ডাকশন নেয়া বেছে নেয়া হয়। আপুও ইস্তিখারা করেন। 

ডেলিভারির পর রুমে ফিরে আপু আমাকে ভয়েস মেসেজ দেন। উনার ইন্ডাকশন শুরু করার পর কিছু সময় পর্যন্ত দেয়া হয় (ইন্ডাকশন হচ্ছে স্যালাইনের মাধ্যমে পিটোসিন দেয়া যা লেবার শুরু হতে বা দ্রুত করতে সাহায্য করে)। এরপর উনি ব্যাথা বেশি হচ্ছে বলে বন্ধ করতে বলেন এবং এরপর থেকে শরীর নিজেই লেবার জার্নি কন্টিনিউ করে। আপুর ডাক্তার এপিশিওটমি দেননি, কিছুটা টিয়ার হয়েছে আপুর। 

এখানে যে বিষয়টা আমি হাইলাইট করতে চাচ্ছি সেটা হলো, ইন্ডাকশন নেয়ার সিদ্ধান্ত যখন কোন মাকে নিতে হয়, আমি সবাইকেই এই নিয়ে আলোচনা করার সময় বলি, আমার ভিব্যাক ক্লায়েন্টদেরও, যে ইন্ডাকশন শুরুতে নেয়ার প্রয়োজন হলে সেটা নেয়ার পর লেবার পেইন যখন এস্টাবলিশ হয়ে যাবে, তারপর মা সেটা বন্ধ করে দেয়ার জন্যও মেডিকেল টিমকে বলতে পারেন। এবং মায়ের শরীর এরপর লেবার পেইন নিজ থেকেই কন্টিনিউ করবে। এটা এই কারণে বলা হয় যে, ইন্ডিউসড লেবার পেইনের ব্যাথা প্রাকৃতিকভাবে আসা লেবার পেইনের চেয়ে বেশি হয়। এটা মায়ের জন্য যেমন পেইন মেনেজমেন্টকে কঠিন করে তোলে, তেমনি বাচ্চার উপরও বেশি চাপ সৃষ্টি করে। 

রিতু আপু নিজের মতামত প্রকাশ করে ইন্ডাকশন বন্ধ করতে বলেছেন এবং বাকি প্রক্রিয়া উনার শরীর ন্যাচারালি কন্টিনিউ করে শেষ করেছে। আমাদের আলোচনা থেকে এই পয়েন্টটা যে আপু কাজে লাগাতে পেরেছেন, একটা ভালো অভিজ্ঞতা আপুর হয়েছে, এই জন্য আমি প্রচন্ড আনন্দিত অনুভব করছি, আলহামদুলিল্লাহ! সেই সাথে আপু বাবু হওয়ার পর স্কিন টু স্কিন কন্টাক্ট করতে পেরেছেন এবং ডিলেইড কর্ড ক্ল্যাম্পিং (কিছু সময় অপেক্ষা করে বাচ্চার নাড়ী কাটা) এই সুবিধা নিতে পেরেছেন। আপুর ডাক্তার এটা প্র‍্যাকটিস করেন, আলহামদুলিল্লাহ। 


রাবেয়া রওশীন

প্রিনেটাল ইন্সট্রাক্টর ও ভার্চুয়াল দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *