ব্রেস্ট ফিডিং বন্ধ করার গল্প
- Posted by MNCC Moderator
- Date February 12, 2024
- Categories Blog, Others, Parenting
- Comments 0 comment

মেয়েটার বয়স যখন ১৫ মাস, তখন থেকেই ভয় কাজ করতো কিভাবে কি করবো!
কারণ আশেপাশের কাজিনদের বাচ্চাদের এ সময়টা অনেক কাছ থেকে দেখেছি। যেমন বাচ্চার তীব্র কান্নাকাটি, তেমনি মায়েরও ধৈর্য্যের পরীক্ষা। তাই ভয়টা একটু বেশিই কাজ করতো।
প্রথমেই চিন্তা করলাম সলিড খাবারের দিকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। তার পছন্দের খাবার গুলোই বেশিরভাগ দেয়ার চেষ্টা করতাম। সবসময় একরকম খাবার দিতাম না। একটু ডিফারেন্ট করে করে খাবার দিয়ে সলিডে অভ্যস্ত করে ফেলেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ। তবুও ঘুমের সময় তার তো ‘মিমি'(ব্রেস্ট মিল্ক) চাই মানে চাই…. মিমি ছাড়া সে ঘুমাবেই না।
ঘুমের সময় ছাড়া দিনের অন্য যে সময়টা সে খেতে চাইতো, তখন কোন না কোন ফ্রুটস কেটে হাতে দিয়ে দিতাম। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় কোন ফল বা খেজুর দিতাম। অথবা খেলায় ব্যস্ত রাখতাম। প্রথমে একটু জেদ করলেও, পরে ভুলে যেতো।
এভাবে করে ২২ মাস যখন শুরু হলো তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেন্জ হলো ঘুমের মধ্যে ব্রেস্ট ফিড অফ করানো। তাই একদিন দুপুরে, ঘুমের সময় হাফ চা চামচ কফির মধ্যে কয়েক ফোটা পানি দিয়ে একটু প্যাক এর মতো করে গুলিয়ে লাগিয়ে রাখলাম। ১০-২০ সেকেন্ডের মধ্যেই একটা আস্তর এর মতো পরে গেলো।
দুপুরে ঘুমের আগে মেয়ে তো মিমি খেতে গিয়ে দেখে, এ অবস্থা। এমন দেখেই তার কি কান্না!!! আর মুখেই নেয়নি। কান্না থামাতে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরলাম। চুমু দিলাম, অনেক অনেক আদর করলাম। তাও কান্না করছে। এরপর পায়ে শুইয়ে গল্প শুনাতে লাগলাম আর পা দুলাতে লাগলাম। একসময় ঘুমিয়ে পরলো।
সেদিন আর পা থেকে নামাইনি। ২ ঘন্টা পায়েই ঘুম পারিয়ে রেখেছি। এরপর রাতের ঘুমের সময় আবারো একইভাবে কফি লাগিয়ে নিলাম। কিন্তু রাতের ঘুমের সময় মেয়ে নিজে থেকেই খেতে চাইলো না, আলহামদুলিল্লাহ। এমনকি একবার দেখলোও না। কাঁদো কাঁদো গলায় বললো-“মা আমাকে কোলে ঘুম পারিয়ে দাও, মিমি পঁচা…. মিমি খাবো না”
কিন্তু রাতে গভীর ঘুমে খাওয়ার অভ্যাস, তাই ২/১ বার গভীর ঘুমে খেলো। কিন্তু বুঝতে পারে নি। কয়েকদিন এভাবে গেল। এরপর গভীর ঘুমে খাওয়ার জন্য কান্না করলে সাথে সাথে বুকে জড়িয়ে সূরা তিলওয়াত করে পড়তে শুরু করতাম। এভাবে ৫-৬ দিন পর আল্লাহর রহমতে ২২ মাসের মধ্যেই পুরোপুরি ব্রেস্ট ফিডিং অফ করতে পেরেছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ।
আমার অভিজ্ঞতা থেকে মায়েদের জন্য কিছু টিপস –
* হঠাৎ করে ব্রেস্ট ফিডিং অফ করতে গেলে অনেক বেশি সমস্যা হয়। আমাদের যেমন চা-কফির অভ্যাস থেকে সরে আসা কষ্টকর। বাচ্চাদের জন্যও ঠিক তেমনই।
* ২ বছর বয়সে যেহেতু অফ করতেই হবে, সেহেতু ১৫-১৬ মাস থেকেই বাচ্চার পছন্দের খাবারগুলো দিয়ে সলিডে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করতে হবে।
* ১৮-২০ মাসের সময় থেকে দিনের বেলার ফিডিং কমিয়ে বা পুরোপুরি অফ করে আনতে হবে। চাহিদা হলে তার পছন্দের খাবার গুলো অফার করতে হবে। খেলায় ব্যাস্ত রাখতে হবে।
* ২২ – ২৪মাসের ভিতরে ঘুমের মধ্যে ফিডিং অফ করার চেষ্টা বার বার করতে হবে। ঘুমের মধ্যে ব্রেস্ট ফিড অফ করাটা সবচেয়ে বেশি চ্যালেন্জিং। এ সময়টা মা-বাবা দুজনকে সহযোগী হতে হবে। বাবুকে কিছুক্ষণ বাবা বুকের সাথে জড়িয়ে রাখবে, তো কিছুক্ষণ মা। মা-বাবার মাঝে বাবুকে নিরাপদে ঘুম পারিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে। পায়ে দোল দিয়ে বা কোলে দোল দিয়ে পাশাপাশি সূরা তিলওয়াত করে পড়লে বাচ্চারা অনেক সময় ঘুমিয়ে পরে।
* কিছু কিছু বাচ্চাকে কোন কিছুতেই কাজ হয় না। সেক্ষেত্রে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। নিজে বার বার চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর কাছেও দুয়া করতে হবে বেশি বেশি। এতে সবকিছু সহজ হয়ে আসবে, ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ তা’আলা সকল মা ও শিশুর জন্য এ সময়টা সহজ করুক।
ইশরাত জাহান তৃষা
রৌদ্রময়ী প্রিনেটাল এসোসিয়েট
ও পার্টিসিপ্যান্ট
Other post
Tag:ব্রেস্টফিডিং
You may also like
আল্লাহর সাহায্য এবং মিরাকল বেবি
আমি প্রথমবার মা হয়েছিলাম ২০২১ সালে। যখন প্রেগ্ন্যাসিতে বমি হয়। মাথা ঘুরে এইসব ছাড়া তেমন কিছু জানতাম না আর বুঝতামও না। যে যা করতে বলেছে সেটাই নিজের অবস্থা বুঝে করার চেষ্টা করেছি।তাকদীরের ফয়সালা এবং নিজের অজ্ঞতা, সবমিলিয়ে প্রথম সন্তান সিজারিয়ান …
বাংলাদেশে হোম বার্থ
হোম বার্থ আমাদের সমাজে কোনো নতুন কোন ধারণা নয়। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের দাদী–নানীদের প্রায় সকল সন্তানই জন্ম নিয়েছে তাদের নিজ বাড়িতে। তখন ডেলিভারির দায়িত্বে থাকতেন ধাত্রীরা—যারা প্রাতিষ্ঠানিক মেডিকেল শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও হাতে–কলমে শেখার মাধ্যমে …
উচ্চ ডায়বেটিস নিয়ে আমার নরমাল ডেলিভারির গল্প
১২.০১.২৫তৃতীয় বারের মতো কন্সিভ করি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু সন্তান কোলে নেওয়ার সেই তৌফিক আমার হয়নি। পর পর দুই বার মিস্কারেজ হয়। কিন্তু হতাশ হয়নি রবের প্রতি তাওয়াক্কুল করেছি। রব আমাকে দিবেনই ইনশাআল্লাহ।সেদিনই ডাক্তারের কাছে যাই। ডাক্তার বেশ কিছু টেস্ট দিলেন। সব …
