Back

এপিডুরাল শুধু একটি পেইন কিলার নয়

আব্দুল্লাহর জন্মের সময় এপিডুরাল নেওয়ার আগে আমি ভেবেছিলাম এটি শুধু একটি পেইন কিলার।
 
ব্যথা একটু কমবে, কিছুটা বিশ্রাম পাব, আর এর মধ্যেই বেবি হয়ে যাবে।
কিন্তু আমি যা বুঝিনি তা হলো— এটি লেবরের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে বদলে দেয়।
লেবর মানে শুধু জরায়ুর Contractions নয়।
এটি হরমোনের রোলার কোস্টার বলা যায়।
শরীরে অক্সিটোসিন বাড়ে।
এন্ডোরফিন শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
আপনি নড়াচড়া করলে আপনার গর্ভের শিশুও ঘোরে।
আপনি চাপ অনুভব করেন → আপনি অবস্থান পরিবর্তন করেন → আপনার শরীর সে অনুযায়ী সাড়া দেয়।
এটি একটি চক্র বলা যায়।
এপিডুরাল এই চক্রটিতে বাধা দেয়।
 
এটি লেবরের গতি কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে যদি তা সময়ের আগেই নেওয়া হয়।
প্রসবের গতি কমে গেলে প্রায়ই কৃত্রিম অক্সিটোসিন (Pitocin) দেওয়া হয়।
এর ফলে Contractions আরও শক্তিশালী হয়… কিন্তু আপনি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারেন না।
সাধারণত আপনাকে বিছানায় থাকতে হয়।
আপনার ক্রমাগত মনিটরিং প্রয়োজন হয়।
ক্যাথেটার ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে।
আপনার শরীর ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে, কাঁপতে পারে বা চুলকানি হতে পারে।
আপনি প্রসবের স্বাভাবিক রিদম হারিয়ে ফেলতে পারেন, ফলে ন্যাচারালি পুশ করার বদলে আপনাকে অন্যের কথায় পুশ করতে হয়।
আমার ক্ষেত্রে আরো মজার একটি ঘটনা ঘটেছিল। আমার শরীরে এপিডুরাল কাজই করেনি। আমি যতই নার্সদের বলি যে এপিডুরাল কাজ করছে না ততই তারা সবাই আমাকে অবিশ্বাস করছিল। যেন এই ক্ষেত্রে মিথ্যে বলে আমি তাদের কোনো ক্ষতি করে ফেলতে পারবো। যাক। এরপর আমানি বার্থ চাইল্ডবার্থ এডুকেশন ও দৌলা ট্রেইনিং নেয়ার সময় জানতে পারলাম যে প্রায় ৯% থেকে ১২% নারীর ক্ষেত্রে এপিডুরাল পুরোপুরি কাজ নাও করতে পারে। এর মানে হলো অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের একপাশে ব্যথা অনুভূত হওয়া অথবা নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় অবশ ভাব না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবার এপিডুরাল দেওয়ার পরও কোনো প্রকার ব্যথানাশক প্রভাব না পড়ার হার প্রায় ১% থেকে ৩%।
আমি ভাগ্যক্রমে সেই ১-৩% মাদের অন্তর্ভুক্ত হলাম। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাড়ালো এটা কেউ বিশ্বাসই করলো না। আমাকে পেইন ম্যানেজ করতে সাহায্য করা তো দূরের কথা।
আর যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে:
 
এপিডুরাল শুধু একটি “পেইন কিলার” নয়।
কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সাইড এফেক্ট হীন বা “নিউট্রাল” না।
এপিডুরাল খুব হেল্পফুল হতে পারে। এটি রেস্টের সুযোগ দেয়, ক্লান্তি দূর করে। অনেক ক্ষেত্রে এটিই হতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত।
এটি লেবরকে ‘ন্যাচারাল ধাপ’ থেকে সরিয়ে ‘অযথা মেডিকেন ইন্টাফেয়ারেন্সের’ দিকে নিয়ে যায়।
আপনার অধিকার আছে এই সুবিধা-অসুবিধাগুলো বোঝার—৬ সেমি জরায়ুর মুখ খোলার পর ক্লান্ত অবস্থায় প্রসব বেদনার মাঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে। drug এর উপর ডিপেন্ডেন্ট না হয়ে কীভাবে নিজের শরীররে সাথে তাল মিলিয়ে পেইন ম্যানেজ করা যায় সেটা শিখুন।
সঠিক তথ্য জেনে সম্মতি দেওয়া মানে চিকিৎসার বিরোধিতা করা নয়। তাই আগে নিজে জানুন। ‘’এএপিডুরাল এক্সিডেন্ট’’ লিখে সার্চ করুন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন। মনে রাখবেন Education is power.
_____________
নুসরাত জাহান মুন(আমাতুল্লাহ)
দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল
সার্টিফাইড চাইল্ড বার্থ এডুকেটর অ্যান্ড দৌলা, আমানি বার্থ