Back

কোন কোন পরিস্থিতিতে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব না

নরমাল ডেলিভারিতে আগ্রহী অনেক মা-ই মনে করেন, “নরমাল ডেলিভারি না হলে বুঝি আমি ব্যর্থ।” এই ধারণাটা খুব কষ্টের, এবং একইসাথে সত্যও নয়।
নরমাল ডেলিভারি কোনো প্রতিযোগিতা নয়।
এটা তখনই সম্ভব হয় যখন মা ও শিশুর শরীর সেই প্রক্রিয়ার জন্য নিরাপদ থাকে। এমন কিছু পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে যখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ নয়, বরং ঝুঁকিপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
চলুন জেনে নিই, কোন কোন অবস্থায় নরমাল ডেলিভারি সাধারণত সম্ভব হয় না বা করা উচিত নয়।
🔴 ১️) বাচ্চার অবস্থান সঠিক না হলে-
যদি বাচ্চা আড়াআড়ি (Transverse lie), পা আগে নামার অবস্থায় থাকে (Footling breech), মুখ বা কাঁধ আগে আসে সেক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে ব্রিচ বেবি নিয়ে কিছু বিস্তারিত আলোচনা আছে যে আসলেই কি ব্রিচ বেবি নরমাল ডেলিভারি সম্ভব নয়। সে আলোচনা আরেকদিন হবে।
🔴 ২️) প্লাসেন্টা নিচে থাকলে (Placenta Previa)-
প্লাসেন্টা যদি জরায়ুর মুখ ঢেকে রাখে, তখন নরমাল ডেলিভারিতে মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি থাকে। এই ক্ষেত্রে সাধারণত সিজারিয়ানই নিরাপদ পথ।
🔴 ৩️) বাচ্চার অক্সিজেন সংকট হলে-
লেবারের সময় যদি দেখা যায় বাচ্চার হার্টবিট অস্বাভাবি বা বাচ্চা ডিস্ট্রেসে আছে তাহলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত বেবিকে বের করাই অগ্রাধিকার। বেবি যদি দীর্ঘ সময় আগে মেকোনিয়াম পাস করে ও সেটা খেয়ে ফেলে সেক্ষেত্রেও দেরি করার উপায় থাকে না।
🔴 ৪️) মায়ের পেলভিস বেবির মাথার তুলনায় ছোট হলে-
যাকে বলা হয় Cephalopelvic Disproportion (CPD)। এ অবস্থায় লেবার দীর্ঘ হয়, কিন্তু বেবি নামতে পারে না। সাধারণত গর্ভবতী নারীদের মধ্যে CPD বা পেলভিসের তুলনায় বাচ্চার মাথা বড় হওয়ার সম্ভাবনা গড়ে ১% থেকে ৩% হয়ে থাকে। তবে এলাকা, পুষ্টি এবং শারীরিক গঠনভেদে এই পরিসংখ্যান কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
🔴 ৫️) মায়ের গুরুতর শারীরিক সমস্যা থাকলে-
মায়ের যদি অপ্রতিরোধযোগ্য উচ্চ রক্তচাপ বা প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া থাকে, মা গুরুতর হৃদরোগ ভোগেন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন, হঠাৎ অতিরিক্ত রক্তপাত শুরু হয় সেক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারি মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
🔴 ৬) লেবার অগ্রগতি একেবারেই না হলে-
অনেক ঘণ্টা লেবার চলার পরও অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছে না, পাশাপাশি বেবি নিচে নামছে না, হার্টরেট কমে যাচ্ছে ও মা চরমভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প সিদ্ধান্ত নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখবেন,
👉 নরমাল ডেলিভারি লক্ষ্য হতে পারে,
👉 কিন্তু মা ও শিশুর নিরাপত্তাই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
👉 এই সব কারণ মিলিয়েও একটা দেশের গড় সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ১৫% এর বেশি হবে না। সেখানে আমাদের দেশের হার ৫০% এর-ও বেশি।
তবে কখনো কখনো সিজারিয়ান বা মেডিক্যাল ইন্টারভেনশনই সবচেয়ে দায়িত্বশীল ও জীবনরক্ষাকারী সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে। তবে কখন এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তার জন্য বাবা মায়ের উভয়কেই এডুকেটেড হতে হবে।
একজন মা কিভাবে সন্তান জন্ম দিলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তিনি ও তার শিশুটি কেমন সুস্থভাবে সেই প্রসবের অভিজ্ঞতা শেষ করলেন।
সঠিক সিদ্ধান্তই হলো শক্তির পরিচয়।
 
✍️ রেজওয়ানা রাজ্জাক
সার্টিফাইড চাইল্ডবার্থ এডুকেটর এন্ড দৌলা, রৌদ্রময়ী স্কুল